রেকর্ড গড়ে লিভারপুল অধ্যায়ের ইতি টানলেন সালাহ
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬ | ১২:১৯
বিদায়ী ম্যাচে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা না পেলেও অ্যাসিস্ট করেছেন মোহাম্মদ সালাহ। এবং আবেগঘন বিদায়ের মাধ্যমে শেষ করলেন লিভারপুলে তার ৯ বছরের অধ্যায়। এই ম্যাচে গড়েছেন অ্যাসিস্টের রেকর্ডও। ৯৩ অ্যাসিস্ট নিয়ে প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুলের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের মালিক এখন তিনি। এতে সালাহ ছাড়িয়ে গেছেন কিংবদন্তি স্টিভেন জেরার্ডকে। শুধু তাই নয়, ব্রেন্টফোর্ডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট টেবিলের পঞ্চম স্থানে থেকে আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার টিকিট নিশ্চিত করেছে লিভারপুল।
ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে পুরো ম্যাচেই চেনা ছন্দে প্রাণবন্ত ছিলেন সালাহ। প্রথমার্ধে তার নেওয়া একটি ফ্রি-কিক পোস্টে লেগে ফিরে আসলে গোলবঞ্চিত হয় লিভারপুল, ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৭ মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর সালাহর বাঁ-পায়ের নিখুঁত এক পাস খুঁজে নেয় কুর্তিস জোন্সকে, যা থেকে লিড নেয় লিভারপুল। এই পাসের মাধ্যমে লিভারপুলের জার্সিতে প্রিমিয়ার লিগে নিজের ৯৩তম অ্যাসিস্ট পূর্ণ করেন সালাহ। যা ৯২ অ্যাসিস্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা সাবেক অধিনায়ক স্টিভেন জেরার্ডের রেকর্ডকে ভেঙে দেয়।
ম্যাচের ৭৪ মিনিটে সালাহকে বদলি করা হলে অ্যানফিল্ডে আবেগের ঢেউ নেমে আসে। যা পরক্ষণেই রূপ নেয় করতালির গর্জনে। চোখে জল নিয়ে সতীর্থদের একে একে জড়িয়ে ধরেন সালাহ। গ্যালারিতে তখন হাজারো সমর্থক উচ্চস্বরে প্রিয় তারকার নাম ধরে বিদায়ী গান গাইছিলেন। মাঠের সাইডলাইন পার হওয়ার আগে চিরচেনা ভঙ্গিতে হাঁটু গেড়ে সংক্ষিপ্ত প্রার্থনাও করেন তিনি।
ম্যাচ শেষে স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সালাহ বলেন, ‘আমার মনে হয় জীবনে আমি এত কখনো কাঁদিনি। আমি সাধারণত খুব একটা আবেগপ্রবণ মানুষ নই। কিন্তু এখানে আমরা আমাদের যৌবনের সেরা সময়টা কাটিয়েছি, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবকিছু ভাগাভাগি করেছি। সবচেয়ে বড় কথা, আমরা এই ক্লাবকে (লিভারপুল) তার প্রাপ্য রাজকীয় জায়গায় ফিরিয়ে আনতে পেরেছি।’
ম্যাচের পর আরও একটি আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয় যখন একই ট্রান্সফার উইন্ডোতে সালাহর সঙ্গে অ্যানফিল্ডে আসা ডিফেন্ডার অ্যান্ডি রবার্টসনও বিদায় নিতে মাঠ ছাড়েন। পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে এই দুই তারকাকে অভিবাদন জানান। ম্যাচ শেষে অলরেডদের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা মিলে বিদায়ী ফুটবলারদের ঐতিহ্যবাহী ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করেন। স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিন ও লাউডস্পিকারে তাদের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের অর্জনগুলো তুলে ধরা হলে পরিবেশ আরও ভারী হয়ে ওঠে।
শেষ বাঁশির পরও দীর্ঘ সময় অ্যানফিল্ডের সবুজ ঘাসে একা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় সালাহকে। লিভারপুলকে বিদায় জানিয়ে ক্লাবটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ফরোয়ার্ড বলেন, ‘এটাই জীবন। আমি যদি পেছনের দিনগুলোতে ফিরে তাকাই, আমি যা অর্জন করেছি তার চেয়ে বেশি কিছু কি চাইতে পারতাম? সত্যি বলতে, না। আমরা লিভারপুলের হয়ে সম্ভাব্য সবকিছু জিতেছি। সমর্থকদের যে অকুণ্ঠ ভালোবাসা পেয়েছি, সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান।’
