ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সাক্ষাৎকারে তানজিম

‘মাঠে ফেরার অপেক্ষায় আছি’

‘মাঠে ফেরার অপেক্ষায় আছি’
×

তানজিম হাসান সাকিব

সেকান্দার আলী

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬ | ১০:৫৯ | আপডেট: ২৬ মে ২০২৬ | ১১:১৩

হঠাৎ করেই থমকে গেছে তানজিম হাসান সাকিবের সময়। অলস বসে থাকা ছাড়া কিছুই করার নেই। মাঠে গেলেই খেলতে ইচ্ছে হয় তাঁর। এ কারণে মাঠমুখী হন না তেমন। কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের খেলার ভিডিও, আইপিএলের ম্যাচগুলো দেখেন নিয়ম করে। পিঠের চোট নিয়ে ঘরবন্দি পেস বোলিং অলরাউন্ডার তানজিম জানেন না ছয় না ৯ মাস পর খেলায় ফিরতে পারবেন? পেসার তানজিম সাকিবের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সেকান্দার আলী। 

সমকাল: শরীর কেমন?
তানজিম: শরীর ভালো আছে। কোনো স্পোর্টস কার্যক্রম করছি না। পুরোপুরি বিশ্রামে আছি। 

সমকাল: চিকিৎসার জন্য কি বিদেশ যেতে হবে?
তানজিম: না। আমার চির সারাতে হবে বিশ্রাম নিয়ে। নিউজিল্যান্ডের সার্জন এমআরআই রিপোর্ট দেখে বলেছেন, চির জোড়া লাগবে বিশ্রাম নিলে। তিনি চাচ্ছেন সময় নিয়ে হিল করতে। দেড় মাস পর আরেকটি এমআরআই করে দেখবেন, কতটা উন্নতি হলো। আসলে এ ধরনের ইনজুরি সারতে ছয় মাস সময় লাগে। 

সমকাল: পাকিস্তানকে হারাতে দেখলেন। গ্যালারি থেকে খেলা কেমন উপভোগ করলেন?
তানজিম: অসাধারণ উপভোগ করেছি। দুটি টেস্ট ম্যাচই উপভোগ করেছি। দুটি ম্যাচই স্পোর্টিং উইকেটে হয়েছে। আমরা ভালো ক্রিকেট খেলে জিতেছি। একেক দিন একেক জন দায়িত্ব নিয়েছে। এটা ভালো একটা দিক দলের জন্য।   

সমকাল: আপনি খেলতে পারলেন না, এ নিয়ে কোনো কষ্ট? 
তানজিম: না, কষ্ট না (হাসি)। আমাদের ক্রিকেটারদের জীবনই এ রকম। চোটের কারণে কখনও কখনও খেলার বাইরে থাকতে হয়। এখন চেষ্টা করছি কীভাবে এবং কত দ্রুত ফেরা যায়। ইনজুরির ওপর কারও হাত থাকে না। ফেরার লড়াই একমাত্র লক্ষ্য।   

সমকাল: অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে মাঠে ফেরা সম্ভব মনে করেন?
তানজিম: আসলে এটা হিলের ওপর নির্ভর করছে। আগে হিল হয়ে গেলে রিহ্যাব শুরু করব। ফিটনেস, বোলিং সবকিছু করার পর বুঝতে পারব কতদিনে খেলায় ফিরতে পারব। এই ধরনের ইনজুরি মুক্ত হয়ে কেউই ছয় মাস, এক বছর আগে ফিরতে পারে না। কম করে হলেও ছয় মাস লাগে। হিল হওয়ার পর বাকি চিন্তা।

সমকাল: ক্যারিয়ারের শুরুর কথা মনে পড়ে?
তানজিম: মনে পড়ে (হাসি)। বাড়িতে যখন বসে থাকি, তখন পেছনের ঘটনাগুলো মনে পড়ে। এখন তো কোনো কাজ নেই। অতীত স্মৃতি রোমন্থন করি। স্মৃতিগুলো প্রেরণা হিসেবে কাজ করে। আগের পারফরম্যান্সগুলো দেখলে খেলায় ফিরতে মন চায়। একটা তাড়না বোধ করি। 

সমকাল: আপনি যখন জাতীয় দলে খেলছিলেন, তখন পরিবারের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?
তানজিম: সত্যি কথা বলতে ক্রিকেট নিয়ে আমার পরিবার আলোচনা করে না। বাবা-মা, স্ত্রী ক্রিকেট নিয়ে কথা বলে না। ভালো খেললেও কিছু বলে না, খারাপ খেললেও বলে না। আমি অনূর্ধ্ব-১৯ দলে থাকার সময় তাদের বলেছিলাম, এটা পেশাদার জায়গা। ভালো এবং খারাপ খেললে কীভাবে সামলাতে হয়, তা জানি। আসলে আমার পরিবারের কেউই ক্রিকেট খেলেনি, কেউ ক্রিকেট সম্পর্কে কোনো ধারণাও রাখে না। এই জন্য তারা আমার খেলা নিয়ে কোনো মতামত দেয় না। তবে সব সময় শরীরের খোঁজখবর রাখে। ক্রিকেটের বাইরের বিষয় নিয়ে কথাবার্তা হয়। 

সমকাল: জাতীয় দলের কোচিং স্টাফের সঙ্গে যোগাযোগ আছে?
তানজিম: সবাই মোটামুটি খোঁজখবর নিয়েছেন। সালাউদ্দিন সার আমার বোলিং নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছেন। মেকানিক্যাল কোনো চোট কিনা, সেটা দেখতে চান। এবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে প্রাইম ব্যাংকে খেলার কথা ছিল। কোচ তালহা জুবায়ের ভাই ফোনে কথা বলেছেন। চোটের কথা শোনার পর সমবেদনা জানিয়েছেন। শন টেইট সব সময় খোঁজখবর রাখেন। 

সমকাল: আপনার ক্রিকেটার হয়ে ওঠার গল্প জানতে চাই 
তানজিম: আমি যেখানে বড় হয়েছি, সেখানে পেশাদার ক্রিকেটের কোনো সংস্কৃতি বা চর্চা ছিল না। টেপ টেনিসে ক্রিকেট খেলতাম। আমার এলাকার ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কেউ কোনো দিন ক্রিকেট একাডেমিতে যায়নি। আমরা পাড়ার ক্রিকেট খেলতাম ছোট থেকে। জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখতাম। এই কথা শুনে পরিবারের সবাই হাসাহাসি করত। আসলে আমার জন্য ক্রিকেটার হওয়া অবাস্তবই ছিল বলতে গেলে। কারণ আমি তো ক্রিকেট প্র্যাকটিস করতাম না। আমার এক আত্মীয় জাকির হাসান ভাই বিকেএসপিতে গিয়েছিলেন। তাঁর কাছ থেকে জেনেছিলাম ওখানে খুবই নিয়মমাফিক জীবন। আমার ইচ্ছা ছিল সারা দিন খেলব, পড়াশোনা করতে হবে না। আমি পত্রিকাতে খোঁজ রাখতাম বিকেএসপিতে কবে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেয়। একবার সিলেট স্টেডিয়ামে গিয়ে জানতে পারলাম বাছাই পরীক্ষা শেষ। পরের বছর জানতে পারলাম পাশের এলাকার কোচ ছেলেদের ফুটবলের ট্রায়ালে নিয়ে যাচ্ছেন। আমি চাইলে যেতে পারি ক্রিকেটের ট্রায়ালে। ২০ থেকে ২৫ জন গিয়েছিলাম, একমাত্র আমি ক্রিকেটে ট্রায়াল দিয়েছি, বাকিরা ফুটবলে। ওইখান থেকে বিকেএসপির এক মাস প্রশিক্ষণের সুযোগ পাই। বিকেএসপির মেহেদী স্যার আমার বোলিং খুব পছন্দ করেন। এক মাসের ক্যাম্প শেষে তিন মাসের ক্যাম্পে নির্বাচিত হই। প্রশিক্ষণ শেষে বিকেএসপিতে ভর্তি হই। 

সমকাল: এখন নিশ্চয়ই বালাগঞ্জ উপজেলার ‘আইকন’ আপনি?
তানজিম: আমি যখন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতে এসেছি, তারা অনেক বড় সংবর্ধনা দিয়েছেন। তখন পুরো উপজেলা আমাকে চিনেছে। আমাকে দেখতে এসেছে। এখন তো ছেলেরা জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখে। যারাই ক্রিকেট খেলতে চায়, তারা বিভিন্ন মাধ্যমে আমার কাছ থেকে পরামর্শ চায়, তথ্য নেয়। 

সমকাল: আপনার পরে বালাগঞ্জ থেকে কেউ ক্রিকেটার হয়েছে?
তানজিম:
না। এখনও হতে পারেনি। তবে অনেকে বিকেএসপিতে ভর্তি ক্যাম্প পর্যন্ত গিয়েছিল, ভর্তি হতে পারেনি। 

সমকাল: মানুষের ভালোবাসা পান, কেমন লাগে? 
তানজিম:
এটা খুবই ভালো একটা উপলব্ধি। এখন তো খুব একটা গ্রামে যাওয়া হয় না। ঈদ পালন করতে যখন যাই, তখন সবাই কথাবার্তা বলে। অনেক কিছু জানতে চায়। এটা অন্যরকম একটা অনুভূতি। বিষয়টি খুবই ভালো লাগে, উপভোগ করি।

আরও পড়ুন

×