ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

হালান্ডের অচেনা জগৎ

হালান্ডের অচেনা জগৎ
×

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬ | ১২:৪৫

২০০০ সালের ইউরো ছিল নরওয়ের খেলা সর্বশেষ কোনো মেজর টুর্নামেন্ট। সেই ইউরো শেষ হওয়ার ১৯ দিন পর আর্লিং হালান্ডের জন্ম। তাই বিশ্বের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড হওয়ার পরও বিশ্বকাপ-ইউরো হালান্ডের কাছে সম্পূর্ণ এক অচেনা জগৎ। অচেনা জগৎ বলে মোটেই ভয় কিংবা অস্বস্তিতে নেই ২৫ বছর বয়সী ম্যানচেস্টার সিটির এ স্ট্রাইকার। বরং দলকে নকআউট পর্বে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ভীষণ আত্মবিশ্বাসী তিনি। অনেকের মতে, বিশ্বের অন্যতম সেরা এই স্ট্রাইকারের জন্যই এবারের আসরের ‘ডার্কহর্স’ হয়ে উঠতে পারে নরওয়ে।

‘নিশীথ সূর্যের দেশ’ হিসেবে খ্যাত নরওয়ে সর্বশেষ বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯৮ সালে। ফ্রান্স চ্যাম্পিয়ন হওয়া সেই আসরের বাছাইপর্বে হালান্ডের পিতা আলফ-ইঙ্গে হালান্ড খেললেও নরওয়ের মূল পর্বের স্কোয়াডে সুযোগ পাননি। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে কিন্তু খেলেছিলেন তিনি। সাবেক এই রাইট ব্যাকের সাদামাটা ফুটবল ক্যারিয়ার হলেও বিশ্বকাপ খেলার গৌরব নিয়ে প্রায়ই আর্লিং হালান্ডকে খোঁচা দিতেন তিনি। এবার হালান্ডের সামনে এসেছে পিতাকে মোক্ষম জবাব দেওয়ার সুযোগ। 

হালান্ড অবশ্য শুধু পিতাকে নন, পুরো বিশ্বকেই দেখিয়ে দিতে চান। বিশ্বকাপে হালান্ড ও নরওয়ে যে একটা কিছু করতে পারে, সেটা বাছাইপর্বে তাদের পারফরম্যান্স দেখেই বোঝা গেছে। বাছাইপর্বে আট ম্যাচের সবগুলো জিতে মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে তারা। শুধু তাই নয়, গোলের বন্যা বইয়ে দিয়েছিল নরওয়ে। আট ম্যাচে তারা রেকর্ড ৩৭ গোল করে, যেখানে হালান্ডের গোল সংখ্যা ১৬টি। 

সেই পারফরম্যান্স নিয়ে হালান্ড বলেন, ‘অনেক আগে থেকেই বলে আসছি, আমার প্রধান লক্ষ্য ছিল নরওয়েকে বিশ্বকাপে নিয়ে যাওয়া। সেটা পূরণ হওয়ায় আমি ভীষণ খুশি। এখন বিশ্বকাপে খেলার জন্য রোমাঞ্চ নিয়ে অপেক্ষা করছি। তবে বিশ্বকাপে খেলাটা আমাদের জন্য সম্পূর্ণ এক নতুন অভিজ্ঞতা হলেও লক্ষ্য পূরণ হওয়ায় আমরা বেশ স্বস্তিতে আছি এবং সবকিছু উপভোগ করছি।’

নিজের বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা নিয়ে হালান্ড বলেন, ‘আমি নরওয়েকে বিশ্বকাপ খেলতে দেখিনি। তবে নরওয়ের বর্তমান প্রজন্মের শিশুদের আমরা এই স্বাদ ও আনন্দটা দিতে যাচ্ছি। এজন্য আমরা খুবই খুশি। কারণ, নিজ দেশকে বিশ্বকাপে দেখিনি বলে আমার নিজেরই আক্ষেপ আছে। প্রতিটি বিশ্বকাপে অন্য দেশকে সমর্থন করতে হতো। বর্তমান প্রজন্মের শিশুরা গৌরবের সঙ্গে নরওয়ের জন্য গলা ফাটাবে।’ 

পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে ম্যানসিটিতে যোগ দিয়েছিলেন হালান্ড। কাকতালীয়ভাবে পিতার মতো তিনিও যুক্তরাষ্ট্রেই বিশ্বকাপ খেলছেন। আগামী বিশ্বকাপ নিয়ে পিতার সঙ্গে আলোচনা করেছেন হালান্ড, ‘আমরা ১৯৯৪ বিশ্বকাপ নিয়ে আলোচনা করেছি। তিনি বলেছেন, এটা ছিল তিনটি ফাইনালের মতো। এখানে জীবন দিয়ে খেলতে হয়। এজন্যই অনেক ছোট দলও বড় দলকে হারিয়ে দেয়।’ সেই আসরটি গ্যালারিতে বসে উপভোগ করেছিলেন হালান্ডের মা। তবে স্বামী মাঠে খেললেও গ্যালারিতে তিনি নাকি বেশি নার্ভাস হয়ে যেতেন!

আরও পড়ুন

×