জোতার শক্তিই রোনালদোদের প্রেরণা
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬ | ১০:৫০
গত বছরের ৩ জুলাই স্পেনে গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান দিয়োগো জোতা। পর্তুগালের জার্সিতে উয়েফা নেশনস লিগের ট্রফিও জিতেছিলেন লিভারপুলের এই তারকা। দুনিয়াতে না থাকলেও পর্তুগাল দলে অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছেন তিনি। দেশটির বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জোতাকে বলা হচ্ছে অদৃশ্য শক্তি। উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোদের ছায়াসঙ্গী হিসেবে থাকছেন জোতা। জাতীয় দলে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু রুবেন নেভেস তো বলেই দিলেন, জোতার প্রেরণাকেই বিশ্বকাপের জয়ের প্রতিজ্ঞা করছেন তারা। নেভেসের বিশ্বাস, গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো জোতার প্রতি ভালোবাসা ও আবেগ বাড়তি শক্তি জোগাবে তাদের, ‘আমরা এটা নিয়ে অনেক কথা বলেছি এবং সব সময় আমরা একই কথা বলি। মাঝেমধ্যে বাড়তি শক্তি পাওয়ার জন্য কোনো কিছু আঁকড়ে ধরার প্রয়োজন হয়। এটি এমনই একটি বিষয় হবে, যা নির্দিষ্ট মুহূর্তে আমাদের বাড়তি শক্তি জোগাবে এবং আমরা যেখানে যেতে চাই, সেখানে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।’
এক বছর আগে উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষ পেনাল্টি শুটআউটে নেভেসের করা গোলেই নির্ধারিত হয়ে যায় পর্তুগালের ট্রফি জয়। বিশ্বকাপেও এমন গোলের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। যদিও জিততে চান নির্ধারিত সময়েই, ‘ওই ম্যাচের পর আমি বলেছিলাম, ওটা আমার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ গোলগুলোর একটি– যদি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাও হয়। এই বিশ্বকাপে যদি এমনটা আবার হয় এবং তা দলকে পরের রাউন্ডে যেতে বা এমনকি টুর্নামেন্ট জিততে সাহায্য করে, তাহলে সেটি দারুণ হবে। কিন্তু আমি ৯০ মিনিটের মধ্যেই জিততে চাইব, যেন পেনাল্টি শুটআউটে যেতে না হয়। আমরা দল হিসেবে কী অর্জন করতে পারি, সেদিকেই আমাদের মনোযোগ।’
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে অন্যতম ফেভারিট ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। ইতোমধ্যে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে নেমে পড়েছে পর্তুগিজরা। বড় মঞ্চের যে ওজন এবং প্রত্যাশার চাপ, সেসব খুব বড় প্রতিবন্ধকতা মনে করেন না আল হিলালের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার নেভেস, ‘আমাদের জাতীয় দলের সব ফুটবলারই এ ধরনের চাপে অভ্যস্ত। সম্প্রতি আমাদের চারজন ফুটবলার (নুনো মেন্দেস, ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস ও গনসালো রামোস) দ্বিতীয়বারের মতো (পিএসজির হয়ে) চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছে। আমরা তরুণ দল, কিন্তু অনেক অভিজ্ঞ দল। আমরা এটাকে (চাপ) স্বাভাবিকভাবেই নিই। কারণ আমরা জানি, আমাদের সেই যোগ্যতা আছে এবং আমরা পর্তুগালের জন্য বড় কিছু অর্জন করতে পারি।’ বিশ্বমঞ্চে কোথায় পৌঁছাতে চান, সেটিও সরাসরি বলে দিলেন ২৯ বছর বয়সী এ ফুটবলার, ‘আমাদের লক্ষ্য ফাইনালে পৌঁছানো, জয়লাভ করা এবং বিশ্বকাপ (ট্রফি) হাতে নিয়ে ফেরা। ব্যক্তিগত কোনো লক্ষ্য বেছে নেওয়া কঠিন। কারণ দল হিসেবে কী অর্জন করতে পারি, সেদিকেই আমাদের সব মনোযোগ।’
বিশ্বকাপে পর্তুগালের সেরা সাফল্য ছয় দশক আগে। ১৯৬৬ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে গিয়েই কিংবদন্তি ইউসেবিওর অসাধারণ পারফরম্যান্সে তৃতীয় হয়েছিল পর্তুগাল। ২০০৬ আসরে লুইস ফিগোর নেতৃত্বে পর্তুগালের দলটিকে সোনালি প্রজন্ম হিসেবে ধরা হয়েছিল। তাদের কাছে প্রত্যাশা বেশি থাকলেও শেষ পর্যন্ত চতুর্থ হয়েছিল পর্তুগাল। গত ২০ বছরে সেমিফাইনালে পর্যন্ত উঠতে পারেনি তারা। অথচ এ সময়ে ২০১৬ সালে জিতেছে ইউরো। দুবার জিতেছে উয়েফা নেশনস লিগের ট্রফি। এবার বিশ্বকাপে ভালো করার আশা নেভেসের। ১৭ জুন বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর মুখোমুখি হবে পর্তুগাল।
- বিষয় :
- ফুটবল
- বিশ্বকাপ ফুটবল
- রোনালদো
