‘মারতে মারতে তারা বলছিল তুই আসামি, চুপ থাক, একটা কথাও বলবি না’
ক্রিকেটার নাঈম হাসান
বিশেষ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬ | ১২:২৩ | আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬ | ১২:৩১
‘বিমানবন্দর থেকে একটি অটোরিকশা করে বাসায় ফিরছিলাম। হঠাৎ ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কয়েকজন অটোরিকশাটি থামায়। গাড়ি থামাতেই চালকের কাছ থেকে গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে নেন। আমাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে গলায় ধাক্কা দিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। নিজেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দিই। পরিচয়পত্রও দেখাই। তবু ঘটনাস্থলেই খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম হাতে থাকা লাঠি দিয়ে মারতে থাকেন। সাদা পোশাকে থাকা (পুলিশের সোর্স সোহেল) এক ব্যক্তিও হাতে থাকা পাইপ দিয়ে পেটাতে থাকে। ক্রিকেটার পরিচয় দিলেও তারা মারধর থামায়নি। মারতে মারতে তারা বলছিল তুই আসামি, চুপ থাক, একটা কথাও বলবি না। এক পর্যায়ে একটি অটোরিকশায় তুলে আমাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে থানায় নিয়ে ওসির কক্ষে ওসির কক্ষেও আমাকে হেনস্তা করা হয়েছে।’ বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান এমন গুরুতর অভিযোগ করেন খোদ পুলিশের বিরুদ্ধেই। গতকাল শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায়।
ক্রিকেটার নাঈম হাসান থানা থেকেই বিষয়টি জানান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালকে। তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পদক্ষেপ নিতে বলেন বিসিবি পরিচালক ইসরাফিল খসরুকে। তাদের হস্তক্ষেপে পরে থানা থেকে মুক্তি মেলে নাঈমের।
এ ব্যাপারে আজ শনিবার সকালে নাঈমের ভাই সাব্বির আলম বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেন। এতে এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও পুলিশ সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়। মামলায় মারধর ও অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলামসহ তিনজনকে নগরের খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
_1781331865.jpg)
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘ভুল বোঝাবুঝি থেকে এটা হয়েছে। অটোরিকশাটির বিরুদ্ধে সোনা চোরাচালানের তথ্য ছিল। তবে নিয়ম মেনে এই অভিযান চালানো হয়নি। তাই এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনা হবে। এরই মধ্যে তিনজনকে ক্লোজড করা হয়েছে।’
নাঈম হাসান আরও বলেন, ‘থানায় ওসির কক্ষে এনেও আমাকে হেনস্তা করা হয়েছে। ওসিকে যখন ঘটনার বিস্তারিত জানাচ্ছিলাম তখন ওসি বারবার বলেন চোখ নিচু করে কথা বলতে। এর মধ্যেই একটি ফোন পেয়ে ওসি শান্ত হন। আমাকে ফোনটি ফেরত দেয়া হয়। ফোন পেয়ে আমি বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালকে ফোন করি। তিনি বিসিবির সদস্য ইসরাফিল খসরুকে বিষয়টি জানান। এরপর তাঁরা পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। আজকে আমার সঙ্গে হয়েছে। আমার জন্য অনেক লোক এসেছে থানায়। কিন্তু অন্য সাধারণ লোকের জন্য কেউ থানায় আসবে না। আর কাউকে যাতে এভাবে হয়রানির শিকার হতে না হয়।’
খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, ‘ছুটিতে থাকা এসআই মনিরুল থেকে তথ্য পেয়ে অভিযান চালায় এসআই শফিকুল ইসলাম। তারা আমাকে কিছু না জানিয়েই এটা করেছে। থানায় নিয়ে আসার পর ক্রিকেটার নাঈমের পরিচয় জেনে ঘটনার জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করি। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও অভিযানে থাকা আরেক কনস্টেবলকে তাৎক্ষণিক ক্লোজ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ তিনি জানান, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে সোনার চোরাচালান আসবে- এমন তথ্য গোয়েন্দা সংস্থা থেকে পেয়ে তা শফিকুলকে জানিয়েছিল মনিরুল। তথ্যটি ভুল ছিল।
এদিকে নাঈমকে পুলিশের মারধর ও থানায় নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে সেখানে হাজির হন তাঁর আত্মীয়-স্বজন ও ক্রিকেটপ্রেমীরা। ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি করেন তাঁরা। একপর্যায়ে রাতে থানায় যান তাঁর বাবা মাহবুবুল আলমও। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিমানবন্দর থেকে নামার পর নাঈম আমাকে ফোন করেছিল। কিছুক্ষণ পর সে আবার জানায় পুলিশ তাকে ধরেছে, মারধর করছে। খবর পেয়ে থানায় এলে ডিউটি অফিসার আমার সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন।’
- বিষয় :
- নাঈম হাসান
- পুলিশ
- মারধর
- বিসিবি
- তামিম
