ক্রিকেটার নাঈমকে মারধরের ঘটনায় মামলা, এসআইসহ তিন পুলিশ প্রত্যাহার
থানায় কান্নায় ভেঙে পড়েন ক্রিকেটার নাঈম হাসান
বিশেষ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬ | ১২:৩৭ | আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬ | ১২:৫২
জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে ডিবি পরিচয়ে মারধর, হেনস্তা ও অপহরণ চেষ্টার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানার এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিন পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করা হয়েছে।
_1781333513.jpg)
শনিবার (১৩ জুন) সকালে ক্রিকেটার নাঈমের ভাই সাব্বির আলম বাদী হয়ে খুলশী থানায় এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল এবং পুলিশের সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে মারধর ও জোরপূর্বক অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
‘মারতে মারতে তারা বলছিল তুই আসামি, চুপ থাক, একটা কথাও বলবি না’
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সকালে ক্রিকেটারের ভাই বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল এবং অভিযানে থাকা আরেক কনস্টেবলকে তাৎক্ষণিক থানা থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে।
_1781332829.jpg)
ঢাকা থেকে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলে বিমানযোগে নিজ শহর চট্টগ্রামে ফেরেন ২৬ বছর বয়সী অফস্পিনার নাঈম হাসান। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে লালখানবাজার ফ্লাইওভারের মুখে পৌঁছালে সাদা পোশাকের এক ব্যক্তিসহ দুই পুলিশ সদস্য তাঁর গাড়ি থামায়।
ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্তা: বিসিবির উদ্বেগ, তদন্তের দাবি
হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বর্তমানে নিজ বাসায় থাকা নাঈম হাসান ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘বিমানবন্দর থেকে একটি অটোরিকশা করে বাসায় ফিরছিলাম। হঠাৎ ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কয়েকজন অটোরিকশাটি থামায়। গাড়ি থামাতেই চালকের কাছ থেকে গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে নেন। আমাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে গলায় ধাক্কা দিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। নিজেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দিই। পরিচয়পত্রও দেখাই। তবু ঘটনাস্থলেই খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম হাতে থাকা লাঠি দিয়ে মারতে থাকেন। সাদা পোশাকে থাকা (পুলিশের সোর্স সোহেল) এক ব্যক্তিও হাতে থাকা পাইপ দিয়ে পেটাতে থাকে। ক্রিকেটার পরিচয় দিলেও তারা মারধর থামায়নি। মারতে মারতে তারা বলছিল তুই আসামি, চুপ থাক, একটা কথাও বলবি না। এক পর্যায়ে একটি অটোরিকশায় তুলে আমাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে থানায় নিয়ে ওসির কক্ষে ওসির কক্ষেও আমাকে হেনস্তা করা হয়েছে।’
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘ভুল বোঝাবুঝি থেকে এটা হয়েছে। অটোরিকশাটির বিরুদ্ধে সোনা চোরাচালানের তথ্য ছিল। তবে নিয়ম মেনে এই অভিযান চালানো হয়নি। তাই এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনা হবে। এরই মধ্যে তিনজনকে ক্লোজড করা হয়েছে।’
নাঈম হাসান আরও বলেন, ‘থানায় ওসির কক্ষে এনেও আমাকে হেনস্তা করা হয়েছে। ওসিকে যখন ঘটনার বিস্তারিত জানাচ্ছিলাম তখন ওসি বারবার বলেন চোখ নিচু করে কথা বলতে। এর মধ্যেই একটি ফোন পেয়ে ওসি শান্ত হন। আমাকে ফোনটি ফেরত দেয়া হয়। ফোন পেয়ে আমি বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালকে ফোন করি। তিনি বিসিবির সদস্য ইসরাফিল খসরুকে বিষয়টি জানান। এরপর তাঁরা পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। আজকে আমার সঙ্গে হয়েছে। আমার জন্য অনেক লোক এসেছে থানায়। কিন্তু অন্য সাধারণ লোকের জন্য কেউ থানায় আসবে না। আর কাউকে যাতে এভাবে হয়রানির শিকার হতে না হয়।’
খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, ‘ছুটিতে থাকা এসআই মনিরুল থেকে তথ্য পেয়ে অভিযান চালায় এসআই শফিকুল ইসলাম। তারা আমাকে কিছু না জানিয়েই এটা করেছে। থানায় নিয়ে আসার পর ক্রিকেটার নাঈমের পরিচয় জেনে ঘটনার জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করি। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও অভিযানে থাকা আরেক কনস্টেবলকে তাৎক্ষণিক ক্লোজ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ তিনি জানান, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে সোনার চোরাচালান আসবে- এমন তথ্য গোয়েন্দা সংস্থা থেকে পেয়ে তা শফিকুলকে জানিয়েছিল মনিরুল। তথ্যটি ভুল ছিল।
এদিকে নাঈমকে পুলিশের মারধর ও থানায় নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে সেখানে হাজির হন তাঁর আত্মীয়-স্বজন ও ক্রিকেটপ্রেমীরা। ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি করেন তাঁরা। একপর্যায়ে রাতে থানায় যান তাঁর বাবা মাহবুবুল আলমও। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিমানবন্দর থেকে নামার পর নাঈম আমাকে ফোন করেছিল। কিছুক্ষণ পর সে আবার জানায় পুলিশ তাকে ধরেছে, মারধর করছে। খবর পেয়ে থানায় এলে ডিউটি অফিসার আমার সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন।’
- বিষয় :
- নাঈম হাসান
- পুলিশ
- বিসিবি
