ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

ব্রাজিলের বাসিন্দা হয়েও মরক্কোর বিপক্ষে নেইমারদের জয় চায় না তারা

ব্রাজিলের বাসিন্দা হয়েও মরক্কোর বিপক্ষে নেইমারদের জয় চায় না তারা
×

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬ | ১৩:২৪ | আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬ | ১৩:৩০

ব্রাজিলে জন্ম, ব্রাজিলের আলো বাতাসেই বেড়ে ওঠা। তবুও বিশ্বকাপ ফুটবলে মরক্কোর বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের জয় চান না তারা। শুনতে উদ্ভুত মনে হলেও এমনই এক গ্রাম রয়েছে ব্রাজিলের উত্তরাঞ্চলের রাজ্য আমাপায়। আমাজন রেইনফরেস্ট এবং বিস্তৃত জীববৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ওই গ্রামটির নাম মাজাগাও ভেলহো। মরক্কোর সাথে ওই গ্রামের লোকদের ২০০ বছরের পুরনো ইতিহাস জড়িয়ে আছে। তাই ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচের আগে ওই গ্রামের অন্তত ৪০০ পরিবারের চাওয়া, এই ম্যাচে যেন কোনো দলই জয় না পয়ায়।

অ্যান্টোনিও হোসে নামে স্থানীয় এক অধ্যাপক ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা চাই ব্রাজিল ও মরক্কো মুখোমুখি হোক। তবে আমরা কারো জয় চাইছি না। আমরা কিছুটা মরক্কোর পক্ষে, আবার কিছুটা ব্রাজিলের পক্ষেও। তাই আমরা ড্র চাই।

তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো দলের গোলেই মন খারাপ করতে চাই না। যদিও প্রতিটি গোলের পর গ্যালারির এক অংশ অবশ্যই উল্লাসে ফেটে পড়বে।

তাদের এমন চাওয়ার পেছনে রয়েছে প্রায় দুই শতাব্দীর পুরোনো ইতিহাস। ১৮০০ শতকের দিকে আরব ভূমিতে ধর্মযুদ্ধ চালায় পর্তুগিজরা। মুর ও খ্রিস্টানদের মধ্যকার সেই যুদ্ধ আঘাত হানে মরক্কোর পর্তুগিজ উপনিবেশে। এ সময় মরক্কোর মাজাগাও (বর্তমানে এল জাদিদা নামে পরিচিত) অঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রাণনাশের শঙ্কা তৈরি হয়।

পরবর্তীতে সংঘাত ও অস্থিরতার কারণে ওই অঞ্চলের বহু পরিবার উত্তর আফ্রিকা ছেড়ে দক্ষিণ আমেরিকায় পাড়ি জমায়। দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা শেষে প্রায় ৪১০টি পরিবার ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে। এরপর সেখানে গড়ে ওঠে নতুন মাজাগাও ভেলহো।

আজও সেই গ্রামের মানুষ নিজেদের ঐতিহাসিক শিকড়ের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক অনুভব করেন। ব্রাজিলে জন্ম ও বেড়ে ওঠা হলেও মরক্কোর প্রতি তাদের আবেগ ও ভালোবাসা রয়ে গেছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে।

রোববার ভোর ৪টায় মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামবে ব্রাজিল। এই ম্যাচ দিয়েই সেলেসাওদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হতে যাচ্ছে। বিশ্বকাপের পরের দুই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড। ওই ম্যাচ দুটি যথাক্রমে ২০ ও ২৫ জুন অনুষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন

×