বিশ্বকাপ ফুটবল
বড় আশা নিয়ে বিশ্বকাপে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার মুহূর্তে এভাবেই ক্যামেরাবন্দি হন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ১৭ জুন কঙ্গোর মুখোমুখি হবে রোনালদোর পর্তুগাল- এএফপি
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ০৮:৩২
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিশ্বকাপ খেলতে যুক্তরাষ্ট্র পৌঁছে গেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। গত শুক্রবার লিসবন থেকে রওনা দিয়ে গতকাল শনিবার সকালে রোনালদো-বার্নার্দোদের বহনকারী বিমানটি ফ্লোরিডার পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট পর্তুগাল ঘাঁটি গেড়েছে ফ্লোরিডাতে। ১৭ জুন কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করবে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানে ওঠার আগে সমর্থকদের উদ্দেশে রোনালদো জানিয়েছেন, এই দল নিয়ে তিনি ভীষণ আশাবাদী। স্মরণীয় কিছু করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।
ইদানীং রোনালদোর পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে চিলি ও নাইজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ দুই প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো করতে পারেননি বলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। এই পর্তুগাল দলে রোনালদো অপরিহার্য কিনা –সে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। শুক্রবার লিসবন বিমানবন্দরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রোনালদোর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। ৪১ বছর বয়সী এ মহাতারকা পাল্টা প্রশ্ন করে এর জবাব দিয়েছেন, ‘শারীরিক অবস্থা? আমি ভালো আছি। আপনি কি আমার ম্যাচগুলো দেখেননি?’ উত্তরেই বোঝা যায়, সমালোচনাকে পাত্তা দিচ্ছেন না তিনি। বরং বেশ ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে দেশ ছেড়েছেন তিনি, ‘আমরা অনেক বড় আশা নিয়ে এবার বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছি। প্রস্তুতি খুব ভালো হয়েছে। কারণ, আমরা প্রচণ্ড পরিশ্রম করেছি। ম্যাচগুলোতে আমরা দাপটের সঙ্গে পারফর্ম করেছি।’ পাঁচটি ব্যালন ডি’অরজয়ী এ ফুটবলার আরও বলেন, ‘আমি খুবই ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছি। আমার বিশ্বাস, সবকিছু আমাদের পক্ষে যাবে।’
পর্তুগাল কখনও বিশ্বকাপ জেতেনি। বিশ্বকাপে তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য ১৯৬৬ আসরে তৃতীয় হওয়া। দুর্দান্ত এই দলটি নিয়ে কি বিশ্বকাপ ট্রফি জিততে পারবেন রোনালদো? বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়ে এ প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন তিনি, ‘টুর্নামেন্ট শেষেই দেখা যাবে। আমরা খেলার জন্য মুখিয়ে আছি। ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের মতো বিশ্বকাপও বিশেষ টুর্নামেন্ট। আমরা অনেক আশা নিয়ে সেখানে যাচ্ছি। আমাদের এই ফুটবল প্রজন্মটা দারুণ। তবে সবসময় ম্যাচের সবকিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। জয় বা পরাজয়ই এখানে আসল বিষয়। আমি বিশ্বাস করি, এই দলটি পর্তুগালের মানুষকে অনেক আনন্দ দেবে।’ ভালো শুরুর ওপর বেশ গুরুত্ব দিয়েছেন রোনালদো, ‘মূল বিষয় হলো প্রথম ম্যাচটি ভালোভাবে শুরু করা। এরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচে ভালো করে গ্রুপের শীর্ষে থেকে শেষ করা। একটি একটি ম্যাচ ধরে আগাতে হবে।’ টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী স্কোয়াডের কারণেই অনেক দূর যাওয়ার আত্মবিশ্বাস দেখাচ্ছে পর্তুগাল। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের (২১টি) রেকর্ড করা ব্রুনো ফার্নান্দেজ দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। প্রস্তুতি ম্যাচেও তিনি অসাধারণ খেলেছেন। এ ছাড়া প্রতিটি পজিশনে সময়ের অন্যতম সেরা সব ফুটবলার রয়েছেন তাদের দলে। এই যেমন ভিতিনহা, জোয়াও নেভেস, বার্নার্দো সিলভা, রুবেন দিয়াজ, গনসালো র্যামসরা আছেন। রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া রোনালদোর এটাই হয়তো শেষ আসর।
- বিষয় :
- বিশ্বকাপ ফুটবল
