ঢাকা রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

মিষ্টি হেসে জবাব দিলেন ভিনি

মিষ্টি হেসে জবাব দিলেন ভিনি
×

সঞ্জয় সাহা পিয়াল, নিউইয়র্ক থেকে

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ০৮:৩৬ | আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ | ০৮:৩৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

‘নো সেলফি, নো অটোগ্রাফ’– হাতে লেখা এই প্রেস ক্লিপবোর্ডটি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের একপাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক অল্পবয়সী ভলান্টিয়ার। অটোগ্রাফের চল আর সেভাবে নেই, কিন্তু সেলফির চাহিদা তুঙ্গে। আর সেটি যদি হয় দুজনের সম্মতিতে, তাতে আপত্তি থাকার কথা নয় তৃতীয় পক্ষের। তাই শুক্রবার নিউ জার্সিতে সংবাদ সম্মেলন থেকে বেরোনোর মুখে মরক্কোর আশরাফ হাকিমির সঙ্গে সেলফি তুলে নেন সাও পাওলো থেকে আসা ব্রাজিলিয়ান এক বয়স্ক সাংবাদিক। শুভেচ্ছা জানান তাঁর দেশের পক্ষ থেকে। নিয়ম ভাঙার এই মিষ্টি প্রশ্রয়টুকু পেয়ে সেই করিডোরে সুযোগ মিলে যায় ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের খুব কাছাকাছি চলে আসার। ভিনি... ডাকটা শুনে যেতে যেতেও ফিরে তাকান। বাংলাদেশের কোটি কোটি ব্রাজিল-ভক্তের পক্ষ থেকে তখন জানিয়ে দেওয়া– ‘লাভ ফ্রম বাংলাদেশ!’ মিষ্টি হাসিতে সেই শুভেচ্ছা গ্রহণ করে নেন ভিনি। থামস-আপ দেখান তিনি। ফিফার নিয়ম– সংবাদ সম্মেলনের ছবি ও ভিডিও তারা নিজেরাই নিবন্ধিত মিডিয়াগুলোকে পাঠিয়ে দেয়। সেখানকার কোনো ছবি বা ভিডিও প্রকাশের অনুমতি নেই। স্মৃতিটা শুধু তাই হৃদয়েই থেকে যায়।

এমনিতে এমন সব সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দুটি দেশের মিডিয়া ছাড়া বাকিদের প্রশ্ন করার সুযোগ বিরল। তার ওপর আবার আগে থেকেই বলে দেওয়া হয়, কোন কোন ভাষায় প্রশ্ন করা যাবে। মরক্কোর সংবাদ সম্মেলনেই যেমন শুধু অ্যারাবিক, পর্তুগিজ আর ইংলিশ অনুমোদন ছিল। এক মেক্সিকান সাংবাদিক স্প্যানিশে প্রশ্ন করায় তাঁকে থামিয়ে দেন ফিফার মিডিয়াকর্মী। হাকিমি অবশ্য সেই সাংবাদিকের প্রশ্ন নেন হাসিমুখেই। মাদ্রিদে জন্ম তাঁর, তাই স্প্যানিশেও চোস্ত তিনি। পাশে থাকা ফিফার কর্মীকে বলে দেন, ‘আমার ভালো লাগছে এই ভেবে যে মরক্কোর ফুটবল নিয়ে সবার আগ্রহ বাড়ছে। তারা জানতে চাইছে আমাদের কাছে। আমি প্রশ্নটি নেব।’ হাকিমির এই বিনয়ে মুগ্ধতা ছড়ায় উপস্থিত মিডিয়াকুলে।

ভিনিসিয়ুস জুনিয়র অবশ্য পুরো সংবাদ সম্মেলনই পর্তুগিজে উত্তর দিয়ে গেলেন। ফিফার ট্রান্সলেটর অ্যাপ দিয়ে যা সাংবাদিকরা নিজ নিজ ভাষায় তা শুনে নেন। তাঁকে ঘিরে মিডিয়ার সমস্ত আলো পড়লেও নিজেকে এতটুকু বিচ্যুত করেননি ভিনি। বার্সেলোনার অনেক মিডিয়ায় ভিনিকে ‘ক্ষেপাটে’ বলা হয়। কিন্তু কাছ থেকে দেখা এই ভিনিকে মোটেই তা মনে হয়নি। 

তিনি নিজে বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার। সংবাদ সম্মেলনেও বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকদের কৌতূহল মিটিয়ে প্রমাণ করেছেন, এখানেও সাম্যের সঙ্গেই তিনি। বাংলাদেশি সাংবাদিকের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসার বার্তাটি তিনি গ্রহণ করেছেন মাথার টুপি নাড়িয়ে। হাজার হাজার মাইল দূরে বাংলাদেশেও যে ব্রাজিলের পতাকা ওড়ে, হলুদ জার্সিতে ভালোবাসা জড়িয়ে থাকে– সেটি জানেন ব্রাজিলিয়ান সাংবাদিকরা। তাই বাংলাদেশি সাংবাদিক পরিচয় পেলেই প্রথমে মিষ্টি হাসিতে হাত বাড়িয়ে দেয়। হয়তো ভিনি নিজেও জানেন তা। এদিন ভিনিকে নেইমার নিয়ে অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। যেখানে তিনি জানিয়ে দেন, নেইমার তাঁর আদর্শ। সব সময় সব পরিস্থিতিতে তিনি তাঁর পাশে থাকবেন।

কিন্তু কার্লো আনচেলত্তি থাকবেন কি? ভিনি উঠে যাওয়ার পরেই সেই চেয়ারে বসেছিলেন তাদের কোচ। বিশ্ব ফুটবলে তাঁকে ‘ডন কার্লো’ বলেই ডাকে অনেকে। ইউরোপের সেরা লিগগুলোর চ্যাম্পিয়ন কোচ এবার ব্রাজিলের হেক্সা মিশনে। সামনে থেকে দেখে সত্যিকার অর্থেই ডন মনে হয়েছে তাঁকে। পর্তুগিজ কিংবা ইংলিশ– যে ভাষায় প্রশ্ন এসেছে, সে ভাষাতেই উত্তর তাঁর। মাঝে রসিকতাও করেন, ‘ব্রাজিল কোচের চেয়ারে বসা মানে দেশের প্রেসিডেন্টের চেয়েও বেশি চাপ মাথায় নেওয়া।’ পরেই আবার গম্ভীর হয়ে যান, ‘নেইমারের লিডারশিপের গুরুত্ব আমাদের কাছে অনেক বেশি। আগামী সপ্তাহ থেকেই সে ট্রেনিং শুরু করবে।’

হাত-ছোঁয়া দূরত্বে বিশ্বফুটবলের এমন সব ব্যক্তিত্ব। কিন্তু বারবার চোখ চলে যায় সেই ভলেন্টিয়ারের হাতে থাকা প্রেস ক্লিপবোর্ডের দিকে– ‘নো সেলফি, নো অটোগ্রাফ’।

আরও পড়ুন

×