ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

দিয়ালোর খ্যাতির আড়ালে অন্য গল্প

দিয়ালোর খ্যাতির আড়ালে অন্য গল্প
×

ইকুয়েডরের বিপক্ষে গোলের পর আমাদ দিয়ালোর উদযাপন

আহসান হাবিব সম্রাট 

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬ | ০৮:২৯

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আইভরি কোস্টকে পূর্ণ পয়েন্ট এনে দিয়েছেন দলের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা আমাদ দিয়ালো। ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে দিয়ালোর করা ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তের গোলে ইকুয়েডরের বিপক্ষে তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে আইভরি কোস্ট। এই জয়ে আফ্রিকান দলটির ‘ই’ গ্রুপ থেকে নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিতই বলা চলে। ফুটবলার আমাদ দিয়ালোর ক্যারিয়ার যেমন বৈচিত্র্যময়, তেমন তাঁর জীবনের গল্পও কম বৈচিত্র্যময় নয়।

শিশু বয়সেই আফ্রিকান একটি মানব পাচারচক্র দিয়ালোকে অবৈধভাবে ইতালিতে নিয়ে আসে। ওই সময়ে মানব পাচারকারী চক্রগুলো আফ্রিকার দেশগুলো থেকে অনেক শিশু-কিশোরকে ফুটবলার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ইউরোপে নিয়ে আসত। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অবৈধ সংগঠনের মাধ্যমে জাল কাগজপত্র তৈরি করে ইতালিতে প্রবেশ করায় ২০২০ সালে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ততদিনে ইউরোপীয় পেশাদার ফুটবলে নিজের জায়গা করে নেওয়া দিয়ালোও ছিলেন।

ইউরোপে প্রবেশের জন্য দিয়ালোর একটি মিথ্যা পরিচয়পত্র তৈরি করা হয়েছিল। ওই পরিচয়পত্রে যাঁকে দিয়ালোর বাবা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল আসলে ওই ব্যক্তিকে চিনতেনই না এই ফুটবলার। ওই জাল পরিচয়পত্রে দিয়ালোর আপন ভাই হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল আইভরি কোস্ট জাতীয় দলের অপর ফুটবলার ও বর্তমানে অলিম্পিক ডি মার্সেইয়ের মিডফিল্ডার হামেদ জুনিয়র ট্রাওরেকে। তবে কয়েক বছর পর স্পষ্ট হয়ে যায়, হামেদ জুনিয়র ট্রাওরে আসলে দিয়ালোর রক্ত সম্পর্কীয় কেউ নন। এভাবে মানব পাচারকারী চক্রগুলো দিয়ালোর মতো আফ্রিকার অসংখ্য শিশু-কিশোরকে নানা কৌশলে ইউরোপে পাচার করে থাকে। তাদের সবার ভাগ্য দিয়ালোর মতো প্রসন্ন হয় না। ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে আসা আফ্রিকার এসব শিশু-কিশোর অনেককেই শেষ পর্যন্ত আর খুঁজে পাওয়া যায় না। তাদের ইউরোপের নানা প্রান্তে পাচার করে দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রেই এসব শিশু-কিশোর তাদের নিয়ে কী ঘটছে সেটি বুঝে উঠতেও পারেন না।

আইভরি কোস্টের বৃহত্তম শহর আবিদজানে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলার ২০১৪ সালে বোকা বারকো যুবদলের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন। একই বছর স্থানীয় ক্রিসমাস ফুটবল টুর্নামেন্টে নিজের প্রতিভার ঝলক দেখান। ওই আসরে সেরা গোলদাতা হওয়ার কৃতিত্ব দেখান টুর্নামেন্ট অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে সবার ছোট দিয়ালো। তাঁর পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে পরের বছরের শুরুতেই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে ভেড়ায় বোকা বারকো। ২০১৫ সালে দিয়ালোর ফুটবলপ্রতিভা দেখে ইতালির খ্যাতনামা আটালান্টা ক্লাব তাঁকে লুফে নেয়। ক্লাবটির যুব ও সিনিয়র দলে অর্ধযুগ খেলার পর ইংলিশ প্রিমিয়ারে খেলার ডাক পান দিয়ালো। তাঁকে ৩৭ মিলিয়ন ইউরোতে পাঁচ বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ করে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। তবে তারকা খেলোয়াড়ের ভিড়ে ম্যানইউতে প্রথমদিকে বেশি সুবিধা করতে পারছিলেন না। এ সময় তাঁকে দলের সাইডবেঞ্চেই বেশি বসে থাকতে হতো। পরের দুই মৌসুমে তাঁকে রেঞ্জার্স ও সান্দারল্যান্ডে ধারে খেলতে পাঠানো হয়। ২০২৩ সালে আবার ম্যানইউতে ফিরে সাফল্যময় একটি মৌসুম পার করেন তিনি।

দিয়ালোর জীবনে একটি কষ্টের অধ্যায় রয়েছে। তিনি কখনোই জানতে পারেননি তাঁর প্রকৃত (জৈবিক) বাবা-মা কারা। তা সত্ত্বেও ইউরোপের পেশাদার ফুটবল অঙ্গনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পর তাঁর জন্মস্থান আইভরি কোস্টের জাতীয় দলের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন। রোববার বিশ্বকাপ আসরে দলকে অসাধারণ জয় এনে দিয়ে নিজ দেশের মানুষকে আনন্দে ভাসান ২৩ বছরের এই ম্যানইউ তারকা।

আরও পড়ুন

×