সংস্কৃতি
দুই মঞ্চে উদীচীর বর্ষাবরণ
ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরবোরে গতকাল সোমবার বাংলাদেশ উদীচী শিল্পগোষ্ঠী ঢাকা মহানগর সংসদ (একাংশ) আয়োজিত বর্ষা উৎসবে শিল্পীদের পরিবেশনা - সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬ | ০৮:৪৯ | আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ | ০৯:২৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলার ঋতুচক্রে বর্ষা নবজীবনের আহ্বান, প্রকৃতির পুনর্জাগরণ এবং মানুষের হৃদয়ে সঞ্চারিত এক অনির্বচনীয় আবেগের প্রতীক। গ্রীষ্মের তাপদাহ, ধুলোঝড় আর শুষ্কতার পর যখন আকাশে জমে ওঠে মেঘের ঘনঘটা, তখন বাংলার মানুষও নতুন করে ফিরে পায় প্রাণের সজীবতা। সেই চিরায়ত অনুভূতিকে ধারণ করেই আষাঢ়ের প্রথম সকালে রাজধানীতে দুটি পৃথক মঞ্চে বর্ষা উদযাপন করেছে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। গান, কবিতা, নৃত্য ও বক্তব্যে সাজানো উৎসব দুটি হয়ে ওঠে প্রকৃতি, সংস্কৃতি এবং মানবিক সমাজ বিনির্মাণের এক সম্মিলিত প্রত্যয়।
উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের একাংশ বর্ষা উৎসব ১৪৩৩ নিয়ে আসে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে। গতকাল সোমবার ভোর সাড়ে ছয়টায় শুরু হওয়া আয়োজনে বর্ষার আবহ মিশে যায় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও সামাজিক অঙ্গীকারের সঙ্গে। ২০০৯ সাল থেকে উদযাপিত হওয়া এই উৎসবের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘আষাঢ়ের গর্জনে নবযাত্রার ডাক, বৈষম্য বিনাশে মানুষ জেগে থাক’।
উৎসবের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সভাপতি নূর মোহাম্মদ তালুকদার। বর্ষাকথন পাঠ করেন শেখ আনিসুর রহমান। রাগসংগীতে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন পূর্ণচন্দ্র মণ্ডল ও তাঁর দল। এরপর একক সংগীত পরিবেশন করেন মহাদেব ঘোষ, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস, জয়া সেন গুপ্তা ও শাওন কুমার রায়। একক নৃত্যে অংশ নেন তর্পিতা ইসলাম অবধি। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে ধৃতি নর্তনালয় এবং স্পন্দন। সমবেত সংগীতে অংশ নেয় উদীচীর বিভিন্ন শাখা ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। আবৃত্তি পরিবেশন করেন রেজীনা ওয়ালী লীনা ও সুবর্ণা আরফিন। পাশাপাশি বৃন্দ আবৃত্তিতে অংশ নেয় মুক্তধারা, সংস্কৃতি বিকাশ ও চর্চাকেন্দ্র এবং স্রোত আবৃত্তি সংসদ।
অন্যদিকে, বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চেও ছিল উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর আরেকাংশ আয়োজিত বর্ষা উৎসব। আয়োজকদের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘প্রাণ-প্রকৃতি ধ্বংস করে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা যাবে না।’ শহরে সৌন্দর্যবর্ধনের নামে নির্বিচারে গাছ কাটা ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস বন্ধের দাবি জানানো হয়। সুন্দরবন রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, নাব্য ফিরিয়ে আনা, নদী দখল রোধ, হাওর অঞ্চলে ক্ষতিকর বাঁধ নির্মাণ বন্ধ এবং অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের কথাও তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসন এবং বর্ষা ও বন্যা মৌসুমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক-শ্রমজীবী মানুষের জন্য রেশন ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়। বাংলা একাডেমির এই আয়োজনের সূচনা হয় শিল্পী জাবীর ইমাম খান শাহীর পরিবেশিত বর্ষার রাগ ‘মিয়া কি মল্লার’ সুরধ্বনিতে। এরপর কামরুল হাসান ফেরদৌসের পরিচালনায় দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে বহর। নজরুলসংগীতশিল্পী মাহমুদুল হাসান একক সংগীত পরিবেশন করেন। উদীচীর শিল্পীদের সমবেত পরিবেশনার পাশাপাশি গান শোনান অনিমা রায় ও মীর সাখাওয়াত।
- বিষয় :
- সংস্কৃতি
