সংস্কৃতি
রঙের ক্যানভাস ও মঞ্চের আলোয় ঢাকার বিস্তৃত বর্তমান
ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে গতকাল শনিবার ‘দি লং প্রেজেন্ট: বিস্তৃত বর্তমান’ শিরোনামের চিত্রপ্রদর্শনী উদ্বোধনের পর ঘুরে দেখেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ০৭:৫৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
শিল্পের কোনো নির্দিষ্ট সীমারেখা নেই, নেই কোনো সরলরৈখিক গতি। সময় তার নিজস্ব নিয়মে অতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যৎকে এক সুতোয় বেঁধে দেয়। ক্যানভাসের রং, মঞ্চের সংলাপ আর সুরের মূর্ছনায় ঢাকার সাংস্কৃতিক অঙ্গন যেন সেই সত্যকেই আবার নতুন করে মনে করিয়ে দিল।
এই সাংস্কৃতিক উদযাপনের সবচেয়ে জমকালো আর ভাবনাসমৃদ্ধ আয়োজনটি ডানা মেলেছে ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে। গতকাল শনিবার সেখানে শুরু হয়েছে দলীয় চিত্রপ্রদর্শনী ‘দি লং প্রেজেন্ট: বিস্তৃত বর্তমান’।
ষাটের দশক থেকে শুরু করে বর্তমান সময়– টানা চার প্রজন্মের ১৫ জন প্রথিতযশা শিল্পীর তুলির আঁচড় স্থান পেয়েছে এখানে। অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা হলেন– হাশেম খান, রফিকুন নবী, আব্দুস শাকুর শাহ, নাজলী লায়লা মনসুর, ফরিদা জামান, মোহাম্মদ ইউনুস, জামালউদ্দিন আহমেদ, রঞ্জিত দাস, আহমেদ শামসুদ্দোহা, শিশির ভট্টাচার্য, কনক চাঁপা চাকমা, মোহাম্মদ ইকবাল, মাকসুদা ইকবাল নিপা, কামাল উদ্দিন ও সহিদ কাজী।
প্রদর্শনীর শুরুতে বেঙ্গল শিল্পালয়ের দীর্ঘ পথচলাকে স্মরণ করে প্রদর্শিত হয় তথ্যচিত্র ‘পথ চলাতেই আনন্দ’। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বরেণ্য কার্টুনিস্ট রফিকুন নবী বলেন, ‘শিল্পের সামাজিক ভূমিকা অপরিসীম, এমন আয়োজন আমজনতার সঙ্গে শিল্পের দূরত্ব কমায়।’
প্রদর্শনীর উদ্বোধন করে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী একটি টেকসই ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ বা ‘ক্রিয়েটিভ হাব’ গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, স্পেন ও ভারতের শীর্ষ কূটনীতিকদের উপস্থিতিও ছিল নজরকাড়া।
শিল্পালয়ের ক্যানভাস থেকে চোখ ফিরিয়ে যখন জাতীয় নাট্যশালার এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে আলো ফেলা হয়, তখন সেখানে দেখা মেলে পাহাড়ি জীবনের এক জীবন্ত আখ্যান। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ‘নতুন নাটকের উৎসব-২০২৬’-এর দ্বিতীয় দিনে মঞ্চস্থ হলো বান্দরবানের ইয়াং বংহুং থিয়েটারের নাটক ‘রিনা প্লুং’।
অন্যদিকে, সমসাময়িক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মঞ্চস্থ করেছে পথনাটক ‘গোলামি ডট কম’।
এদিকে রাশিয়া দিবস উপলক্ষে ঢাকাস্থ রাশিয়ান হাউসে বসেছিল বহুজাতিক সাংস্কৃতিক মিলনমেলা। রুশ ফেডারেশনের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য আর তাতারস্তানের লোকসংগীত ও নৃত্যদল ‘আলাবুগা’-এর মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের শিশু নৃত্যদল ‘হ্যাপিনেস’ ঐতিহ্যবাহী বাংলা নাচ পরিবেশন করে।
- বিষয় :
- সংস্কৃতি
