ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী 

তারা জনগণের জন্য রাজনীতি করে না

তারা জনগণের জন্য রাজনীতি করে না
×

কক্সবাজারে গতকাল শনিবার সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পিআইডি

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ০৮:৪২ | আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ | ১১:৩২

| প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষকসহ দেশের সবার ভাগ্য বদলাতে সরকার কাজ করছে। জনগণের পক্ষের এই বাজেট নিয়ে যারা সমালোচনা করে, তারা জনগণের জন্য রাজনীতি করে না। 

গতকাল শনিবার রাতে কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুদিন আগে আমরা বাজেট উত্থাপন করেছি। যারা দেশ সম্পর্কে চিন্তা করে তারা বলেছে এই বাজেটে দেশের মানুষের উপকার হবে। এই বাজেট জনগণের পক্ষের বাজেট। বাজেটে নিত্যপণ্যের ওপর ট্যাক্স উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগামী এক বছরে সারাদেশে ৪২ লাখ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। কিন্তু কিছু কিছু মানুষ বাজেটের বিপক্ষে রাস্তায় নেমে মিছিল করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এবারের বাজেটে আমরা সাধারণ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ওপর কর উঠিয়ে নিয়েছি। এই বাজেটে আমরা সাধারণ মানুষের যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবণ এই যে জিনিসগুলো, এইগুলোর ওপরে আগে যে ট্যাক্স ছিল, সেই ট্যাক্স আমরা উঠিয়ে নিয়েছি যাতে করে জিনিসপত্রের দাম না বাড়ে।’

প্রস্তাবিত বাজেটে কিডনি রোগীদের চিকিৎসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ওষুধপত্র থেকে চিকিৎসাসামগ্রীর ওপর কর হ্রাস, হৃদরোগের চিকিৎসার সঙ্গে সম্পৃক্ত সরঞ্জামাদির ওপর থেকে ট্যাক্স তুলে নেওয়ার ফলে চিকিৎসা খরচ কমিয়ে আনা, চোখের ছানি অস্ত্রোপচার সংশ্লিষ্ট লেন্সের ওপর কর বাতিল প্রভৃতি বিষয়গুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘জনগণের পকেট থেকে আগে যেখানে এক লাখ টাকা খরচ হতো, সেখানে এখন অর্ধেক টাকা খরচ হলে লাভটা কার? অবশ্যই জনগণের।’

প্রস্তাবিত বাজেটের বিপক্ষে বিরোধী দলের অবস্থানের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা মদের ওপর ট্যাক্স বাড়ানোর প্রতিবাদ জানায়, সিগারেটের ওপর ট্যাক্স বাড়লে প্রতিবাদ জানায়, তারা জনগণের জন্য রাজনীতি করে না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের আগে এদের জনগণের কাছে বিভিন্ন টিকিট বিক্রি করতে দেখেছি। এখন তারা আর টিকিট বিক্রির কথা বলে না। কেন বলে না? কারণ, ওই টিকিটের দেওয়ার মালিকানা বা ক্ষমতা তাদের নেই। তারা জনগণকে ঠকিয়ে শুধু জনগণের ভোটটা নিতে চেয়েছিল, জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল।’ 

গত ২৫ বছরে কক্সবাজারের গুরুত্ব অনেক বেড়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েক দিন পরই মাতারবাড়ী বন্দর চালু হবে। আগামী দিনে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কক্সবাজার-চট্টগ্রাম সড়ক অন্তত ছয় লেন হওয়া উচিত। এই মহাসড়ককে চার লেন থেকে ছয় লেনে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়ে শিগগিরই এর কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।

লবণ চাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা তাদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক দাম পান না। কিছুদিনের মধ্যে একটি দাম নির্ধারণ করা হবে। জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের সমস্ত কাজই তাঁর ‘আই হ্যাব অ্যা প্ল্যানের’ অংশ।

চকরিয়া উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত এ সভায় দলের প্রধান তারেক রহমান ছাড়াও বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন একাধিক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। পরে কক্সবাজার শহরে একটি সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।

পাতলী খাল পুনর্খনন কর্মসূচি উদ্বোধন  
কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নে পাতলী খাল পুনর্খনন কর্মসূচি গতকাল শনিবার সকালে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালের ৪ ডিসেম্বর পাতলী খাল খনন করেছিলেন। 

পুনর্খনন উদ্বোধনের সময় বিরোধী দলের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, তারা বলছে, এই বাজেট মানে না। যে বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয়, মদ ও সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়, সে বাজেটও বিরোধী দল মানে না। এ থেকে বোঝা যায়, দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য। বাজেটে প্রতিটি ঘরে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সবকিছুর লক্ষ্য একটিই, জনগণের সেবা। দেশের মালিক জনগণ। দেশের মালিক কোনো পরিবার বা কোনো দল নয়। জনগণের কাছে প্রশ্ন, যে বাজেটে জনগণের স্বস্তি আনার ব্যবস্থা করা হয়, যারা এর বিরোধিতা করে তারা কি জনগণের বন্ধু হতে পারে? তিনি বলেন, প্রতিটি বাজেটের পরই জিনিসের দাম বাড়ে। কিন্তু বর্তমান সরকারের বাজেট দেওয়ার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়েনি।

২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন
চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারার মালুম ঘাট সংরক্ষিত বনে চারা রোপণের মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি দেশের প্রত্যেক নাগরিককে একটি করে গাছের চারা রোপণের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আমি দেশের সবার কাছে আহ্বান জানাব আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে, আপনার সন্তান যেন একটি সুন্দর পরিবেশে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারে এই বিষয়টি মাথায় রেখে, যেখানে সম্ভব সেখানে একটি করে বৃক্ষের চারা রোপণ করবেন। সবাই চেষ্টা করলে বাংলাদেশের বাতাসকে বিশুদ্ধ বাতাসে রূপান্তর করতে পারব।’

দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমনাকে নিয়ে বৃক্ষরোপণের পর ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে প্রবেশ করেন। তিনি পার্ক ঘুরে দেখেন। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদসহ  সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।

জুলাইযোদ্ধা শহীদ ওয়াসিমের পরিবারকে অনুদান 
চব্বিশের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুপুরে পেকুয়া উপজেলা সদরে তিনি ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী জোবাইদা রহমান এ সময় ওয়াসিমের মা জোছনা বেগমের হাতে ২০ লাখ টাকার পরিবার সঞ্চয়পত্র তুলে দেন। ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলমসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

‎প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং ওয়াসিমের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে। ‎পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ওয়াসিম আকরামের স্মৃতি সংরক্ষণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
নতুন পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, তাদের দীর্ঘদিনের দাবি আজ পূরণ হলো।

নিজেই গাড়ি চালিয়ে গেলেন অনুষ্ঠানস্থলে
প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সকাল ১০টায় কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরে নেমে নিজেই গাড়ি চালিয়ে প্রতিটি অনুষ্ঠানস্থলে যান। কক্সবাজার শহর থেকে পেকুয়া উপজেলা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় সাধারণ মানুষ এবং দলীয় নেতাকর্মীরা ফুল ছিটিয়ে ও হাত নেড়ে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে জনসভা বিকেল ৪টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা শুরু হয় রাত ৮টায়। প্রধানমন্ত্রী রাতে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়ক এবং সমুদ্রসৈকত পরিদর্শন করেন। পরে ঢাকার উদ্দেশে আকাশপথে কক্সবাজার ত্যাগ করেন তিনি।

আরও পড়ুন

×