ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

ঐতিহাসিক জয়েও উৎসবহীন কানাডা

ঐতিহাসিক জয়েও উৎসবহীন কানাডা
×

স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়ছেন ইসমাইল কোনে

নাজমুল হক নোবেল

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬ | ১০:২১

ইতিহাস গড়েছে বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক কানাডা। বিশ্বকাপের তৃতীয় আসরে এসে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছে তারা। জোনাথন ডেভিডের হ্যাটট্রিকে ৬-০ গোলে কাতারকে উড়িয়ে দিয়ে প্রথম জয়টাকে স্মরণীয় করে রেখেছেন তারা। তবে এমন ঐতিহাসিক জয়ের পরও উৎসবে মাততে পারেনি কানাডা। ইসমাইল কোনের গুরুতর চোটে তাদের আনন্দটাই যে মাটি হয়ে গেছে!

ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল কানাডা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ঘটে সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি। ম্যাচের ৫২ মিনিটে কানাডার ইসমাইল কোনের কাছ থেকে বল কাড়তে গিয়ে পেছন থেকে ভয়ংকর ট্যাকল করেন কাতারের আসিম মাদিবো। পড়ে গিয়ে কাতরাতে থাকা কোনের বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ ভেঙে ঝুলতে দেখা যায়। মাঠেই কিছুক্ষণ চিকিৎসা দেওয়ার পর স্ট্রেচারে করে তাঁকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন কোনেকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে কানাডার কোচ জেসে মার্চ নিজেই কেঁদে ফেলেন। সাইড লাইন থেকে হাড় ভাঙার শব্দেই যা বোঝার বুঝে গিয়েছিলেন কোচ, ‘এটি ঘটেছে ঠিক বেঞ্চের সামনেই। আমরা সবাই শব্দ শুনতে পেয়েছি।’

২০২৪ কোপা আমেরিকার সময় অনুশীলনে হাড় ভেঙেছিল ভিয়ারিয়ালে খেলা কানাডিয়ান ফুটবলার তাহোন বিউক্যানানের। তেমন কিছুই যে হয়েছে, তা বুঝতে সময় লাগেনি মার্চের, ‘তখনই আমি বুঝে যাই, এটা অনুশীলনে যাওয়া তাহোনের ওই চোটের মতোই। সবাই হাড় ভাঙার শব্দ শুনেছিল।’

ওই ফাউলের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান কানাডার খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা। স্বাগতিক কয়েকজন খেলোয়াড় প্রতিপক্ষের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। কোচ মার্চকেও রেফারির কাছে ব্যাখ্যা চাইতে দেখা যায়, এমন ফাউলের পরও কেন সরাসরি লালকার্ড দেখানো হলো না! পরে ভিএআরের হস্তক্ষেপে লালকার্ড দেখানো হয় মাদিবোকে। এমন গুরুতর ফাউলের পর মাদিবোকেও অনুশোচনায় ভুগতে দেখা যায়। সতীর্থরা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়া চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় প্রায় সাড়ে ছয় মিনিট খেলা বন্ধ ছিল। ম্যাচ শেষে ক্ষমা চাইতে কানাডার ড্রেসিংরুমে এসেছিলেন মাদিবো।

তাঁর এই অনুশোচনা বোধের প্রশংসা করলেও কাতারের বেঞ্চের খেলোয়াড়দের আচরণের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান কানাডার কোচ, ‘এর জন্য আমি তাঁর (মাদিবো) দোষ দিচ্ছি না। কিন্তু আমি তাদের পুরো বেঞ্চের প্রতিক্রিয়া বুঝতে পারছি না। তারা লালকার্ড নিয়ে ঝামেলা শুরু করল, যখন এটি পরিষ্কার ফাউল এবং মাত্রই একজনের পা ভেঙেছে।’

অস্ত্রোপচারের জন্য সঙ্গে সঙ্গেই কোনেকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। গতকালই তাঁর অস্ত্রোপচার হয়ে যাওয়ার কথা। সুস্থ হতে তাঁর কমপক্ষে ৬ মাস লাগতে পারে বলে আপাত ধারণা করা হচ্ছে।

ওই লাল কার্ডে তিন গোলে পিছিয়ে পড়া কাতার ততক্ষেণ ৯ জনের দলে পরিণত হয়েছে। ৩৩ মিনিটে বাজে ফাউল করায় কাতারের হুমাম মোহাম্মদকেও লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। ওই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের দলটির ম্যাচে ফেরার আশা শেষ হয়ে যায়। আর দুজন খেলোয়াড় কম থাকার সুযোগ নিয়ে কাতারকে চেপে ধরে আরও তিন গোল করেন স্বাগতিকরা।

এর মধ্যে কোনের বদলি হিসেবে নামা নাথান সালিবা ৬৪ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে গোল করে তাঁর সতীর্থের জার্সি উঁচিয়ে ধরেন গ্যালারির সামনে গিয়ে। মাঠে তখন এক আবেগময় মুহূর্তের সৃষ্টি হয়। যোগ করা সময়ে জোনাথন ডেভিড হ্যাটট্রিক পূরণ করেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ষষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে স্বাগতিক দেশের হয়ে হ্যাটট্রিক করলেন তিনি। সেটিও দীর্ঘ ৬০ বছর পর। সর্বশেষ ১৯৬৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্ট হ্যাটট্রিক করেছিলেন।

তবে হ্যাটট্রিক করেও স্বস্তিতে ছিলেন না জোনাথন, ‘আমার মনে হয়, আমরা সবাই চাইছিলাম ম্যাচটা শেষ হোক, যেন আমরা সবাই একসঙ্গে হতে পারি। এই ঘটনা দলের সবাইকে ভড়কে দিয়েছে।’

এই জয়ে নকআউটের সম্ভাবনা তৈরি করেছে কানাডা। দুই ম্যাচ থেকে সুইজারল্যান্ডের সমান ৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছেন তারা। তবে গোল পার্থক্যে এগিয়ে থাকায় ‘বি’ গ্রুপে শীর্ষে উঠে গেছে কানাডা। 

আরও পড়ুন

×