ঢাকা রোববার, ২১ জুন ২০২৬

ভ্রু কাঁপিয়ে ডন কার্লোর মোক্ষম চাল

ভ্রু কাঁপিয়ে ডন কার্লোর মোক্ষম চাল
×

ছবি- এএফপি

সঞ্জয় সাহা পিয়াল, ডালাস থেকে

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬ | ০৭:৪৯

আজ প্রায় এক বছর এক মাস হতে চললো ব্রাজিল দলটির সঙ্গে তিনি, কিন্তু এখনও কোচ ডন কার্লোর বাঁ দিকের ভ্রু ওপরে ওঠার রহস্যটা ভেদ করতে পারেনি ব্রাজিলিয়ান সাংবাদিক কুল। তাই হাইতিকে বিধ্বস্ত করে কার্লো আনচেলত্তি যখন সংবাদ সম্মেলনে এলেন তখন অনেকেই তাঁর ভ্রু নাড়ানোর ভাষা খুঁজতে চাইছিলেন। তাতে কেউ কেউ আনচেলেত্তির ট্যাকটিক্যাল জয়ের দম্ভ খুঁজে পেতে পারেন, কেউ আবিষ্কার করতে পারেন পরের ম্যাচের হুঙ্কার। কেউ যদি সেখানে চিন্তিত অভিভাবকের গম্ভীরতাও মিলিয়ে নেন তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কেননা ৩-০ গোলের এই ম্যাচের মূল্য তাঁকে চুকাতে হয়েছে রাফিনিয়াহকে খুইয়েই। 

ম্যাচের ৩৯ মিনিটে ডান উরুর পেছনে তীব্র ব্যথা অনুভব করায় মাঠ ছাড়েন তিনি। আনচেলত্তি জানিয়েছেন প্রাথমিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে তাঁর। স্ক্যান রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছেন তিনি। তবে কানাঘুষা আছে দুই সপ্তাহের আগে আর বিশ্বকাপে নামা হচ্ছে না বার্সা তারকা রাফিনিয়াহর। তবে চিকিৎসকের মতো গম্ভীর মুখ করে সুখবরটিই এদিন আগে জানালেন। ‘স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবেন নেইমার।’ ঘোষণাটুকুর মধ্যেই একটু দাদাগিরি ছিল তাঁর।

মরক্কোর সঙ্গে ড্র করার পর বিশ্বকাপ কভার করতে আসা ব্রাজিলিয়ান সাংবাদিকদের মধ্যেই ফিসফাঁস ছিল কাকে এনেছেন তারা। সাবেক কিছু ফুটবলারও ওই ম্যাচের পরই টেলিভিশন টকশোগুলোতে থিয়াগোকে শুরুর একাদশে নামানোয় সমালোচনা করেছেন। তবে মরক্কো ম্যাচের সেই মন্থরতা ঝেড়ে ফেলে হাইতির বিরুদ্ধে ডন কার্লো আনচেলত্তি মাঠের ভেতর যে ট্যাকটিক্যাল চালগুলো চেলেছিলেন, তাতে একজন জাত ইতালিয়ান মস্তানের মতোই অভিনবত্ব ছিল। কার্লোর কৌশলের প্রধান তিনটি অভিনব জায়গা ছিল এইরকম।

উইং ড্রপিং, সাধারণত ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ৯ নম্বর জার্সিধারীরা বক্সের ভেতর ওত পেতে থাকেন। কার্লো এই ম্যাচে মাথেউস কুনিয়াকে প্রথাগত স্ট্রাইকার হিসেবে খেলাননি। কুনিয়া বারবার নিচে নেমে আসছিলেন এবং উইংয়ের দিকে ছিটকে যাচ্ছিলেন। এর অভিনবত্ব ছিল–হাইতির ডিফেন্ডাররা কুনিয়াকে ম্যান-মার্ক করতে গিয়ে নিজেদের পজিশন ছেড়ে ওপরে চলে আসতে বাধ্য হন। ঠিক সেই ফাঁকা জায়গায় চিতার গতিতে ঢুকে পড়ছিলেন ভিনিসিয়ুস আর রাফিনিয়াহ। ব্রাজিলের আক্রমণভাগে এই পজিশন অদলবদলের রসায়নটাই ছিল কার্লোর প্রধান চমক। ম্যাচ শেষে তিনি বলেছেন তা। 

‘এটি আমাদের জন্য একটি অপশন ছিল, যা কিনা আগের দিনই আমরা আলোচনা করেছি। কুনিয়ার পজিশনটাই এমন ছিল; যাতে করে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা সমস্যায় পড়ে। সে তার পাসগুলো ভালো দিয়েছে এবং সামনের দিকে তার পজিশনগুলোও ভালোভাবে রাখতে পেরেছে।’ 

তবে স্বভাবসুলভ আনচেলত্তি এটিও জানিয়েছেন যে সাফল্য পেয়েছেন বলেই এই ফরমেশন পরের ম্যাচে নাও থাকতে পারে। ‘এটা এমন ম্যাচ ছিল যেমনটা আমি দেখতে চেয়েছিলাম। যদিও দ্বিতীয়ার্ধে আমরা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি।’ কখনও কখনও মনে হয়েছিল তিনি নিজেই সেটি চাননি। তিন গোল হয়ে যাওয়ার পর ভিনিকে উঠিয়ে এনড্রিককে নামিয়েছিলেন। রাফিনিয়াহর জায়গায় তরুণ রায়ানকে নামিয়েছিলেন, মার্তিনেল্লিকেও ম্যাচ টাইম দিয়েছিলেন। এর সব কিছুতেই পরীক্ষা ছিল তাঁর।

হাইতির হাইলাইন ফাঁদকে নিজেদের মারণাস্ত্র বানিয়ে নিয়েছিলেন। হাইতি রক্ষণাত্মক খেললেও তাদের ডিফেন্স লাইনটি মাঠের বেশ ওপরের দিকে ছিল। কার্লো মাঝমাঠের পাকেতা এবং ব্রুনো গিমারায়েসকে নির্দেশ দিয়েছিলেন ছোট ছোট পাস না খেলে সরাসরি হাইতির ডিফেন্ডারদের মাথার ওপর দিয়ে ‘লং-বল’ বা থ্রু-পাস বাড়াতে। ভিনিসিয়ুস ও কুনিয়ার গতি এতটাই বেশি ছিল যে, হাইতির ডিফেন্স কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই লম্বা পাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছিল। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের শক্তিকেই তাদের দুর্বলতায় পরিণত করা ছিল কার্লোর নিখুঁত বাজি। আসলে তিনি একজন দক্ষ দাবারু। অত সহজে তাঁকে চেনা যায় না। তাই তাঁর ভ্রু ওপরে ওঠার সংকেতও কেউ পড়তে পারে না।

আরও পড়ুন

×