ঢাকা রোববার, ২১ জুন ২০২৬

ইকুয়েডরের সুনামি ঠেকিয়ে দেওয়া কে এই এলয় রোম?

ইকুয়েডরের সুনামি ঠেকিয়ে দেওয়া কে এই এলয় রোম?
×

ছবি- এএফপি

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬ | ০৯:০৩

কানসাস সিটির মাঠে ফুটবলপ্রেমীরা আজ বুঁদ হয়েছিলেন এক অতিমানবীয় জাদুতে। তবে বিশ্বমঞ্চের সেই রূপকথার রূপকার কোনো নামী স্ট্রাইকার বা মিডফিল্ডার নন। তিনি কুরাসাওয়ের ৩৭ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক এলয় রোম। লাতিন পরাশক্তি ইকুয়েডরের ২৪টি আক্রমণের সুনামি একাই রুখে দিয়েছেন তিনি। ম্যাচে অবিশ্বাস্য ১৫টি চোখধাঁধানো সেভ করে রাতারাতি পুরো ফুটবল বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রে এখন এই অভিজ্ঞ গোলকিপার।

এভাবেই একের পর এক গোল ঠেকিয়েছেন রোম। ছবি-এএফপি

২০১৪ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের টিম হাওয়ার্ড ১৬টি সেভ করেছিলেন। কিন্তু হাওয়ার্ড নির্ধারিত ৯০ মিনিটে করেছিলেন ১২টি সেভ, আর বাকি ৪টি করেছিলেন অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। অন্যদিকে, এলয় রোম ইকুয়েডরের বিপক্ষে কোনো অতিরিক্ত সময় ছাড়াই ম্যাচের ৯০ মিনিটেই ১৫টি সেভ সম্পন্ন করেন।

এলয় রোমের জন্ম নেদারল্যান্ডসের নিমেগেন শহরে। ডাচ ফুটবলের চেনা পরিবেশেই তার বেড়ে ওঠা। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি যোগ দেন বিখ্যাত ডাচ ক্লাব ‘ভিতেসে’র একাডেমিতে। যুব দল থেকে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে ২০০৮-০৯ মৌসুমে ভিতেসের মূল দলে অভিষেক হয় তার। এই ক্লাবের হয়ে দীর্ঘ ১৫টি মৌসুম কাটিয়েছেন রোম। যার মধ্যে মূল দলের হয়েই মাঠে নেমেছেন ১৩০-এর বেশি ম্যাচে। ভিতেসের হয়ে ২০১৬-১৭ মৌসুমে ঐতিহাসিক ‘কেএনভিবি কাপ’ (ডাচ কাপ) জেতার স্বাদও পান তিনি। এরপর ২০১৭ সালে তিনি যোগ দেন ডাচ ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি পিএসভি আইন্দহোভেনে। যেখানে ২০১৭-১৮ মৌসুমে ডাচ লিগ শিরোপার মেডেলও নিজের গলায় জড়ান।

৩৭ বছরের বুড়ো রোমের গ্লাভসে বিশ্বকাপে প্রথম পয়েন্ট কুরাসাওয়ের। ছবি-এএফপি

ডাচ যুব দল অনূর্ধ্ব-২০-এর হয়েও একটি ম্যাচ খেলেছিলেন রোম। কিন্তু শিকড়ের টানে ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলের জন্য কুরাসাওকে বেছে নেন রোম। বর্তমানে কুরাসাওয়ের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকা তিনি। দেশের হয়ে রেকর্ড ৭২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে তিনি এখন লিয়ান্দ্রো বাকুনার সাথে যৌথভাবে কুরাসাওয়ের সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা ফুটবলার। ২০১৭ সালে কুরাসাওকে তাদের ইতিহাসের প্রথম ‘ক্যারিবীয় কাপ’ জেতাতে ভূমিকা রাখেন তিনি। সেই টুর্নামেন্টে সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার ‘গোল্ডেন গ্লাভস’ও জিতেছিলেন তিনি।

ইকুয়েডরের ম্যাচ দিয়ে বিশ্ব ফুটবলে আলোচনায় আসলেও যুক্তরাষ্ট্রের ঘরোয়া ফুটবলে রোম কিন্তু ‘বাজপাখি’ নামে বেশ পরিচিত। ২০১৯ সালে পিএসভি ছেড়ে মেজর লিগ সকারের ক্লাব কলম্বাস ক্রুতে যোগ দিয়েছিলেন রোম। সেখানে নেমেই নিজের জাত চেনান তিনি। ২০২০ সালে কলম্বাস ক্রুকে এমএলএস কাপ চ্যাম্পিয়ন করার পেছনে মূল অবদান ছিল তারই। সেই মৌসুমে ফাইনালের সেরা গোল বাঁচানোর জন্য ‘এমএলএস সেভ অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারও জিতেছিলেন তিনি। বর্তমানে এই ৩৭ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক খেলছেন মার্কিন ফুটবলের দ্বিতীয় স্তরের লিগ ইউএসএল চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব ‘মিয়ামি এফসি’র হয়ে।

ইকুয়েডরের সুনামিতে রোম যেন চীনের প্রাচীর। ছবি- এএফপি

প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে হওয়ায় কুরাসাওকে হয়তো গোনায় ধরেনি ইকুয়েডর। কিন্তু কানসাস সিটিতে ইকুয়েডরের একের পর এক বুলেট গতির শট যেভাবে প্রতিরোধ করেছেন রোম, তা ফুটবল ইতিহাসের পাতায় অনেকদিন অমলিন থাকবে।

ম্যাচ শেষে ধারাভাষ্যকাররা বলছিলেন, ‘এই মানুষকে হারানোর জন্য ইকুয়েডরের আর কী করার ছিল?’ প্রথম ম্যাচে বিধ্বস্ত হওয়া কুরাসাওকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম পয়েন্ট এনে দিয়ে এলয় রোম এখন কুরাসাও ফুটবল ইতিহাসের অবিসংবাদিত নায়ক।

আরও পড়ুন

×