ঢাকা রোববার, ২১ জুন ২০২৬

এই ভিনি সুন্দর

এই ভিনি সুন্দর
×

ছবি- এএফপি

সেকান্দার আলী

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬ | ০৭:৫৩ | আপডেট: ২১ জুন ২০২৬ | ০৮:২৬

‘ভেনি, ভিডি, ভিসি’– এলাম, দেখলাম, জয় করলাম। ব্রাজিল তারকা ভিনিসিয়ুসের পারফরম্যান্স বিশ্বকাপে অনেকটা এ রকম। ভিনি তো বিজয়ী। আর বিজয়ী নামের সার্থকতা দেওয়ায় স্বর্গী সুখ। সেই অমৃত তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করছেন তিনি। আক্রমণে জাদুর ঝাঁপি খুলছেন একটু একটু করে।

মরক্কোর জালে বল জড়িয়ে ব্রাজিলকে দিয়েছেন ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ার স্বস্তি। জড়তায় পা জড়ানো ম্যাচে তিনিই তো একমাত্র নিশানাভেদী। চিতার ক্ষিপ্রতায় প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ তছনছ করা স্ট্রাইকার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র আক্রমণের ঢেউ তুলে ভেঙে চুরমার করেছেন হাইতির রক্ষণের দেয়াল। ‘কালো’ মানিকের ক্ল্যাসিক উত্তরসূরি বলতেই পারেন তাঁকে। এই ভিনি সুন্দর ব্রাজিলের আক্রমণে। এই ভিনি অনিন্দ্য গোল করায় ও গোল করাতে।

রিয়াল মাদ্রিদে ভিনিসিয়ুসের পজিশন রাইট উইং। ওই পজিশনে খেলেই তো হয়েছেন তারকা। ব্রাজিলের একাদশে তাঁর খেলার পজিশনটাও গেছে বদলে। গোল বের করার জন্য বাঁ উইংয়ে খেলাচ্ছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। কোচের চাওয়া মেনে নিয়ে ভালোও করছেন তিনি। হাইতির বিপক্ষে তিনটি গোলের উৎস হলেন ভিনি। মাতেউস কুনিয়ার কাছ থেকে ধন্যবাদ পেতেই পারেন তিনি। ভিনির বাঁকানো শট হাইতির গোলরক্ষকের গ্লাভসে লেগে ফিরে এলে আলতো টোকায় নিশানায় পাঠান কুনিয়া। ২৩ মিনিটে লিড পাওয়া ব্রাজিলের দ্বিতীয় গোলটিও (৩৬ মিনিট) তাঁর। ভিনিই তো তাঁকে বল বাড়িয়ে দেওয়া খেলোয়াড়।

ভিনি, কুনিয়া, রাফিনিয়া ত্রয়ীর আক্রমণের তীব্র তোড়ে ভেসে যেতে থাকে হাইতি। ফিলাডেলফিয়া থেকে সে ঢেউ ক্যারিবীয় সাগরের দ্বীপ দেশটিতে গিয়ে আছড়ে পড়ে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের একক প্রচেষ্টার গোলে ব্রাজিল ব্যবধান তিনে উন্নীত করে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে। ম্যাচের দ্বিতীয় ভাগেও গোলের নেশায় বুঁদ হলে গোলবন্যায় ভেসে যেত হাইতি। ব্রাজিল কোচ সেখানে বেঞ্চের খেলোয়াড়দের নামিয়ে স্বাদ দেন বিশ্বকাপে ম্যাচ খেলার।

ব্রাজিলের এই ‘বিজয়ী’কে রুখে দেওয়ার মতো ডিফেন্ডার কি খুব বেশি আছে এই বিশ্বকাপে। কারণ, তিনি পরিপূর্ণ ফুটবলারের সব গুণ নিয়ে খেলছেন ২৬ বছর বয়সে। ফর্মের চূড়ায় থাকার ঘোষণা তিনি নিজেই দিলেন ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে পেয়ে, ‘আমি আমার সেরা ফর্মে আছি–  শারীরিকভাবে, কৌশলগত ও মানসিকভাবে। আমি আমার শতভাগ সক্ষমতা নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় পৌঁছাতে চেষ্টা করেছি। আমি এখানে এসেছি নিজেকে আরও উন্নত করতে এবং ব্রাজিলকে শীর্ষে নিয়ে যেতে।’ 

খেলার মাঠে দলের ক্ষতি না করে স্বার্থপর হওয়া দোষ না। দেশের কথা ভেবে ওই সামান্য স্বার্থপরতাও দেখান না ভিনি। পোস্টে যে শট নিজে নিতে পারেন, সেটিও ছেড়ে দেন ভালো পজিশনে থাকা সতীর্থকে। তাঁর মতো একজন উদার স্ট্রাইকারেরই তো প্রয়োজন ব্রাজিলের এ মুহূর্তে। কোচ আনচেলত্তির পরিকল্পনায় পরম রত্ন তিনি।

কোচ তাঁকে লেফট উইং খেলতে বললে খেলেন এবং গোল করেন। তাই কোচের আবদার বেশি করে রাখতে হয় তাঁকে। ব্রাজিলের এই স্ট্রাইকার মাঠে ছিলেন ৮১ মিনিট। আক্রমণভাগের দুই সতীর্থের সঙ্গে সমন্বয় করেছেন দারুণভাবে। মাঝমাঠের পরিকল্পিত পাসে ছন্দময় ফুটবল খেলা উপহার দিতে পেরেছেন প্রথমার্ধে। ভিনির কথায়, মাঠ ভালো হওয়ায় আনন্দ পেয়েছেন ম্যাচ খেলে। 

প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ড্র করার পর হাইতির বিপক্ষে জয় ভীষণ প্রয়োজন ছিল বলে দাবি ম্যাচসেরা ভিনিসিয়ুসের, ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচ ছিল আমাদের জন্য। আমরা নিজেদের খেলাটা খেলতে পেরেছি। যেটা মাঠের ভেতরে মানসিক শান্তি ও আধিপত্য এনে দিয়েছিল, যার ফলে আমরা অনেক আক্রমণ তৈরি করতে এবং গোল করতে সক্ষম হয়েছি।’ 

এই ব্রাজিলকে আরও ছন্দময় ফুটবল খেলতে হলে ভিনি, কুনিয়া, রাফিনিয়ার ওপর নির্ভর করলেই চলবে না। কোচ আনচেলত্তিকে দৃষ্টি দিতে হবে মাঝমাঠে। মধ্যভাগের খেলোয়াড়রা বল দখল ও পাসিংয়ে দক্ষ হলেও প্রতিরোধ গড়ে তোলায় বেজায় দুর্বল। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের ছেড়ে খেলার আলসেমি রয়েছে ক্যাসেমিরোদের। যেদিন থেকে ব্রুনোরা আক্রমণের সঙ্গে ডিফেন্সের দায়িত্ব নেবেন, সেদিন দেখা মিলবে আসল ব্রাজিলের।

আরও পড়ুন

×