টাকা বা ট্রফি নয়, ম্যাচসেরা হলে মিলছে ডিম, দুধ আর ১০০টি গাজর!
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬ | ১৪:১৬ | আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬ | ১৪:২৩
ফুটবল মাঠে ম্যাচসেরা খেলোয়াড়ের হাতে সাধারণত জমকালো কোনো ট্রফি, মেডেল কিংবা মোটা অঙ্কের চেক তুলে দেওয়াটাই চিরাচরিত নিয়ম। কিন্তু বিশ্বফুটবলের প্রচলিত সেই রীতির ঠিক উল্টো পথে হাঁটছে নরওয়ের একটি ক্লাব। সেখানে ম্যাচসেরা খেলোয়াড়ের হাতে ট্রফির বদলে তুলে দেওয়া হচ্ছে কার্টন ভর্তি ডিম, গ্যালনভর্তি দুধ, শতাধিক শসা কিংবা ১০০টি তাজা গাজর!
বিস্ময়কর ও হাস্যরসাত্মক এই কাণ্ডটি ঘটিয়ে চলেছে নরওয়ের ক্লাব ‘ব্রিনে এফকে’। বিশ্বফুটবলে এই ক্লাবের আরও একটি বড় পরিচয় আছে। ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডের শৈশবের ক্লাব এটি। এই ব্রিনে থেকেই ফুটবলার হিসেবে প্রথম আলোয় এসেছিলেন হালান্ড।
সবশেষ গত রোববার দলের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ম্যাচসেরা হন স্ট্রাইকার আলফ্রেড স্ক্রিভেন। তবে ম্যাচের পর তার খেলা নয়, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে পুরস্কার। ট্রফির বদলে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় ১০০টি তাজা গাজর।
অবশ্য ১০০টি গাজর দেওয়ার এই ঘটনাটি ব্রিনে ক্লাবের জন্য কোনো নতুন বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত কয়েক মাস ধরেই ম্যাচসেরা খেলোয়াড়দের এমন বিচিত্র সব কৃষিজাত পণ্য পুরস্কার দিয়ে আসছে ক্লাবটি। কখনো কার্টন ভর্তি ডিম, কখনো লিটার লিটার খাঁটি দুধ, শত শত কাঁচা শসা কিংবা আস্ত একটি ভেড়ার বাচ্চাও পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন দলটির ফুটবলাররা!
২০২৫ সালের মার্চ মাসে নরওয়েজিয়ান লিগে পেনাল্টি সেভ করে দলকে জেতানোর পর ব্রিনের গোলরক্ষক ইয়ান ডি বুরকে দেওয়া হয়েছিল ১২০টি ডিম। এর ঠিক কয়েকদিন পরই দলটির মিডফিল্ডার লাসে কুইগস্তাদ পুরস্কার হিসেবে পান কয়েক ডজন লিটার তরল দুধ। আর গত জুনে দলটির এক ফুটবলারকে ম্যাচসেরা হিসেবে দেওয়া হয়েছিল ১০০টি তাজা শসা।
এই ব্যতিক্রমী পুরস্কারের পেছনেও রয়েছে দারুণ এক গল্প। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা কিংবা সিরি আ-এর তুলনায় নরওয়ের মতো দেশের লিগগুলোকে অনেক সময় ব্যঙ্গ করে ‘ফার্মার্স লিগ’ বা ‘কৃষকদের লিগ’ বলা হয়। অনেক ক্লাবই এমন মন্তব্যে বিরক্ত হলেও ব্রিনে এফকে সেটিকেই নিজেদের পরিচয়ের অংশ বানিয়ে ফেলেছে।
নরওয়ের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ইয়ারেন অঞ্চল কৃষি উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। সেই কৃষি ঐতিহ্যকে সামনে রেখেই ক্লাবটি স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যকে ম্যাচসেরার পুরস্কার হিসেবে তুলে দিচ্ছে। এমনকি স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে মাঠের একপাশে বিশেষ ভিআইপি জোনও তৈরি করা হয়েছে, যেখানে সমর্থকেরা চেয়ার নয়, ট্রাক্টরের ওপর বসেই খেলা উপভোগ করেন।
বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড ২০১৬ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে ব্রিনে এফকের জার্সিতেই পেশাদার ফুটবলে অভিষেক করেন। এরপর মল্ডে, রেড বুল সালজবুর্গ, বরুশিয়া ডর্টমুন্ড হয়ে আজ তিনি ম্যানচেস্টার সিটির অন্যতম বড় তারকা। হালান্ডের সময় অবশ্য এই ব্যতিক্রমী পুরস্কারের প্রচলন ছিল না। তবে তার শৈশবের ক্লাব হওয়ার কারণেই ব্রিনের ডিম-দুধ-গাজরের এই অভিনব উদ্যোগ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
- বিষয় :
- নরওয়ে
- আরলিং হ্যালন্ড