স্রেফ একটি ম্যাচ হবে, অন্য কিছু নয়- ইংল্যান্ডকে নিয়ে স্কালোনি
দুর্দান্ত গোল করা আলভারেজকে নিয়ে স্কালোনির উচ্ছ্বাস। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ | ১৯:২৭ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬ | ২০:২৫
সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ জানিয়েছেন, জীবন বাজি রেখে লড়াই করতে তারা প্রস্তুত।
চলতি টুর্নামেন্টে অনেকদিন সাইডবেঞ্চে ছিলেন লোপেজ। তবে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে একটি দারুণ অ্যাসিস্ট করেন। তার পাস থেকে হুলিয়ান আলভারেজ দারুণ গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। পরে লাউতারো মার্টিনেজ আর্জেন্টিনার জয় সুনিশ্চিত করলে আটলান্টায় ইংল্যান্ডের সঙ্গে উত্তেজনাময় ম্যাচের মঞ্চ প্রস্তুত হয়।
সামনের ওই ম্যাচ সম্পর্কে লোপেজ বলেন, ‘ম্যাচটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক কিছু। তবে আমরা পেশাদার এবং অন্য যেকোনো ম্যাচের মতোই ম্যাচটি খেলব। শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত লড়াই করব।’
আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি অবশ্য ম্যাচের ঐতিহাসিক আবহ নিয়ে পড়ে না থেকে বরং টানা দ্বিতীয়বার সেমিফাইনালে ওঠা এবং বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের কাছে রাখার মিশনকে বড় করে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা হয়তো আরও ভালো খেলতে পারতাম, তবুও এই দল যা অর্জন করেছে তা ঐতিহাসিক। আবারও সেমিফাইনালে ওঠা এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ফুটবলে এটি বিশেষ ও সৌভাগ্যের জায়গা, যা অর্জন করা মোটেও সহজ নয়। আমরা এখন রোমাঞ্চিত। নিজেদের সবটুকু দিয়ে ফাইনালের মঞ্চে যাওয়ার চেষ্টা করব।’
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দেওয়ার মতো মন্তব্য করা থেকে নিজেকে দূরে রাখেন স্কালোনি। স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেন, ‘আমার বার্তা একটাই, এটি স্রেফ একটি ফুটবল ম্যাচ হবে। তবে এটুকু বলতে পরি, শক্ত প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি এবং তাদের একজন চমৎকার কোচ রয়েছেন।’
এর আগে ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে ড্যান এনদোয়ের গোলে আর্জেন্টিনাকে স্তব্ধ করে সমতায় ফেরে সুইজারল্যান্ড। পরে ব্রিল এম্বোলোর লাল কার্ডে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় আর্জেন্টিনার হাতে। প্রতিপক্ষের শারীরিক ফুটবল বা ফিজিক্যাল গেমের কাছে নিজেদের নজুক অবস্থার কথা স্বীকার করে স্কালোনি বলেন, ‘বল দখলের লড়াইয়ে জেতা আমাদের জন্য কঠিন ছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত আমরা ঠিকই সমাধান খুঁজে পাই এবং জয় ছিনিয়ে আনি।’ সুইজারল্যান্ডের ফিজিক্যাল গেম বড় শিক্ষা ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সুইজারল্যান্ডের প্রধান কোচ মুরাত ইয়াকিন তার দলের খেলোয়াড়কে দেওয়া দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের (লাল কার্ড) সমালোচনা করেছেন। আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস প্রথমে এম্বোলোকে ফাউল করার জন্য হলুদ কার্ড দেখলেও পরে ডাইভিংয়ের দায়ে সুইস ফরোয়ার্ড এম্বোলোকে উল্টো শাস্তি দেওয়া হয়।
ম্যাচ শেষে ক্ষুব্ধ সুইস কোচ বলেন, ‘পারেদেসকে ওই হলুদ কার্ড দেওয়ার কোনো কারণই ছিল না। ওটা খুবই সাধারণ পরিস্থিতি ছিল। বুঝতে পারছি না কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, যার খেসারত হিসেবে আমাদের খেলোয়াড়কে মাঠ ছাড়তে হলো।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিয়মটি আমাদের খেলাটাই ধ্বংস করে দিয়েছে। এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা সেমিফাইনালে যেতে পারছি না ঠিকই, তবে আমরা সেখানে থাকার যোগ্য ছিলাম। এভাবে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়াটা ভীষণ কষ্টের। তবে এই টুর্নামেন্টে পারফরম্যান্স নিয়ে আমরা অত্যন্ত গর্বিত।’ সূত্র: গার্ডিয়ান।
- বিষয় :
- ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬