ইংল্যান্ডের গোল নিয়ে বিতর্ক
হালান্ডদের কোচ বললেন, ‘বল কেবলে লেগেছিল, সবাই দেখেছে’
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ | ১৪:৪৮
কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড ও নরওয়ের মধ্যকার ম্যাচে জুড বেলিংহামের প্রথম গোল নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কে ইতোমধ্যেই ব্যাখ্যা দিয়েছে ফিফা। তবে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার সেই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ নরওয়ে কোচ স্টেল সোলবাকেন। ম্যাচ শেষে তিনি দাবি করেন, বল স্পাইডারক্যামেরার কেবলে লেগেছিল এবং মাঠে উপস্থিত সবাই বিষয়টি স্পষ্টভাবে দেখেছেন।
বিতর্কের সূত্রপাত মূলত ইংল্যান্ডের সমতাসূচক গোলটি নিয়ে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে নরওয়ে গোলরক্ষক ওরইয়ান নিলান্ডের নেওয়া উড়ন্ত গোলকিক হঠাৎ দিক পরিবর্তন করে ইংলিশ মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসনের কাছে চলে যায়। সেই বিল্ড-আপ থেকেই জুড বেলিংহাম গোল করে ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান।
গোলের পরই নরওয়ের খেলোয়াড়রা ফরাসি রেফারির কাছে বল স্পাইডারক্যামেরার কেবলে লেগেছিল বলে অভিযোগ জানিয়ে গোল বাতিলের দাবি তোলেন। তবে রেফারি গোল বহাল রাখেন। আর তাতে ১-১ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা। তবে শেষ পর্যন্ত নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড।
এদিকে প্রথমার্ধের বিরতিতেই ফ্রেঞ্চ রেফারির সাথে কথা বলতে দেখা যায় নরওয়েজিয়ান কোচকে। রেফারির সাথে কী কথা হয়েছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তিনি বলেছেন তিনি নিজে কিছু দেখেননি। এমন কিছু ঘটেছে সে সংক্রান্ত কোনো বার্তাও পাননি। যেহেতু ফিফা বলেছে বল কেবলে স্পর্শ করেনি, সেক্ষেত্রে তার এখানে কিছু করার নেই। কিন্তু আমরা যারা বেঞ্চে বসা ছিলাম, আমাদের সবার চোখের সামনেই বলটা পড়েছে। সবাই দেখেছে কী ঘটেছে। আমার মনে হয় বল কেবলে লেগেছে এটা স্পষ্টভাবে বোঝা গেছে।’
ঘটনাটি দলের খেলোয়াড়দের মনোযোগে প্রভাব ফেলেছে জানিয়ে সোলবাকেন বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক ছিল। এমন অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের মধ্যেও কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এখন আর কিছু করার নেই। ম্যাচ তো আর নতুন করে খেলা হবে না। তাই যা হয়েছে সেটাই মেনে নিতে হবে’
গোল বহাল রাখার সিদ্ধান্তকে ‘উদ্ভট’ বললেও রেফারির সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া ছাড়া আর কিছু করার নেই বলে মন্তব্য করেছেন নরওয়ে কোচ। তিনি বলেন, ‘আমি চাইলে এখানে বসে কান্নাকাটি করতে পারি। কিন্তু আমি তা করব না। আমাদের পক্ষে যা যা করা সম্ভব ছিল সব করেছি। খেলোয়াড়েরা পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে অসাধারণ খেলেছে। হ্যাঁ, সিদ্ধান্তটা অদ্ভুত। কিন্তু এটা খেলারই অংশ। আমাদের এটা মেনে নিতে হবে।’
এদিকে রেফারির খেলা বন্ধ কিংবা গোল বাতিল না করার বিষয়ে ইতোমধ্যেই ব্যাখ্যা দিয়েছে ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বলেছে, ইংল্যান্ডের সমতাসূচক ওই গোলের আগে বল মাঠের ওপরের ঝুলন্ত তারে লাগার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ফুটবলের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, বল তারে লাগার বিষয়টি রেফারির নজরে এলে খেলা থামিয়ে দেওয়ার কথা। তবে ফিফার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডের গোলের আগে বাতাসে থাকা অবস্থায় বলের ভেতরের সেন্সরে (কানেক্টেড বল টেকনোলজি) অস্বাভাবিক কোনো কম্পন বা ‘হার্টবিট’ ধরা পড়েনি। তাই বলটি ওপরের তারে লেগেছিল বা এর গতিপথ পরিবর্তন হয়েছিল-এমন কোনো প্রমাণ নেই।