ঢাকা রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

৩৫ বছর পর বন্ধুকে খুঁজে ঋণ শোধ, ১ হাজার টাকার বদলে দিলেন ২৫ হাজার

৩৫ বছর পর বন্ধুকে খুঁজে ঋণ শোধ, ১ হাজার টাকার বদলে দিলেন ২৫ হাজার
×

ইসমাইল লাচান্নার কাছ থেকে ১২০ সৌদি রিয়াল ধার নেন এডলা লাচান্নার

এনডিটিভি

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ | ১৫:৪৬

সৌদি আরবে একসঙ্গে কাজ করার সময় বন্ধুর কাছ থেকে ধার নিয়েছিলেন ১ হাজার টাকার সমপরিমাণ অর্থ। প্রায় ৩৫ বছর পর সেই ঋণ শোধ করতে পুরোনো বন্ধুকে খুঁজে বের করে সুদসহ ২৫ হাজার টাকা ফিরিয়ে দিলেন ভারতের কেরালার বাসিন্দা ইসমাইল।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯১ সালে সৌদি আরবের আবকাইক শহরে কাজ করার সময় ইসমাইলের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় তেলেঙ্গানার জাগতিয়াল জেলার ধর্মপুরি এলাকার বাসিন্দা এডলা লাচান্নার। আরও তিনজন প্রবাসী কর্মীর সঙ্গে প্রায় পাঁচ বছর একই বাসায় থাকতেন তারা।

সেই সময় ইসমাইল লাচান্নার কাছ থেকে ১২০ সৌদি রিয়াল ধার নেন। তখন এর মূল্য ছিল প্রায় ১ হাজার ভারতীয় রুপি। তিনি সুযোগ হলে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

কিছুদিন পর লাচান্না ভারতে ফিরে যান। তখন মোবাইল ফোন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম না থাকায় ধীরে ধীরে দুজনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে ধার নেওয়া অর্থের কথা ভুলে যাননি ইসমাইল।

সম্প্রতি পুরোনো সেই ঋণ শোধের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কিন্তু বন্ধুর কোনো ফোন নম্বর বা ঠিকানা তার কাছে ছিল না। শুধু মনে ছিল, লাচান্নার বাড়ি ধর্মপুরি এলাকায়। এই সামান্য তথ্যকে ভিত্তি করে অনলাইনে খোঁজ শুরু করেন ইসমাইল। পরে ধর্মপুরিতে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় খুঁজে বের করেন তার পুরোনো বন্ধুকে।

লাচান্না তখন আবারও উপসাগরীয় অঞ্চলে কর্মরত ছিলেন। তাই দুজনের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলে কথা হয়। পরে ইসমাইল লাচান্নার পরিবারের হাতে ২৫ হাজার রুপি তুলে দেন।

লাচান্না বলেন, ৩৫ বছর আগে দেওয়া মাত্র ১২০ সৌদি রিয়ালের ঋণের বিপরীতে ইসমাইল ২৫ হাজার রুপি ফেরত দেবেন, তা তিনি কল্পনাও করেননি। তিনি বলেন, ‘আমরা সৌদি আরবে একসঙ্গে থাকতাম। সন্ধ্যায় একসঙ্গে রান্না করতাম, খেতাম। সেখান থেকেই আমাদের বন্ধুত্ব। প্রায় ৩৫ বছর আগে আমি তাকে ১২০ রিয়াল ধার দিয়েছিলাম। কীভাবে তিনি ২৫ হাজার রুপি হিসাব করলেন, তা আমি জানি না। তিনি অত্যন্ত সৎ ও ভালো মানুষ। বন্ধুত্বের মূল্য দিতেই তিনি এত টাকা দিয়েছেন।’

লাচান্না আরও বলেন, ওই টাকার সঙ্গে সুদ যোগ করা হয়েছিল কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় ইসমাইল হয়তো সুদের হিসাবও যুক্ত করেছেন বলে তার ধারণা। এত বছর পরও দেওয়া কথা রেখে ঋণ পরিশোধ করায় তিনি ইসমাইলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
 

আরও পড়ুন

×