ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ ফুটবল

ফিফার পোয়াবারো, দর্শকের মাথায় হাত

ফিফার পোয়াবারো, দর্শকের মাথায় হাত
×

বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে চড়া মূল্যে। টিভি সম্প্রচার স্বত্বও বিক্রি করেছে মোটা অঙ্কের টাকায়। উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপ থেকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক সফল ফিফা -সংগৃহীত

 আহসান হাবিব সম্রাট

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬ | ০৯:০৩ | আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৪৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপ আসরের বিদায় ঘণ্টা বাজছে। আগামীকাল রোববার রাতে নিউইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে স্পেন ও আর্জেন্টিনার ম্যাচ দিয়ে ৩৯ দিনের এই টুর্নামেন্টের পর্দা নামবে। বিশ্বকাপ মানেই বিশাল বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড। অর্থের স্রোত ছুটে যাওয়া। ইতোমধ্যে এই টুর্নামেন্টে আর্থিকভাবে লাভবান ও ক্ষতিগ্রস্তদের হিসাব-নিকাশও শুরু হয়েছে। এতে বিজয়ীর তালিকায় সবার শীর্ষে ছিল বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফা। আর ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছেন স্বয়ং দর্শকরা! 

অনেক ফুটবল অনুরাগীর আজীবনের স্বপ্ন থাকে একবার স্টেডিয়ামে গিয়ে বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখা। কিন্তু দিন দিন সেটা অনেক ফুটবলভক্তের আর্থিক সামর্থ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। ফাইনালের জন্য একটি সাধারণ টিকিটের অফিশিয়াল মূল্য ৩২ হাজার ৯৭০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪০ লাখ টাকা। কালোবাজারে বিশ্বকাপ ফাইনালের একটি টিকিট সংগ্রহ করতে অনেককে দুই মিলিয়ন ডলারের (২৪ কোটি টাকার বেশি) বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এটা না হয় গেল স্টেডিয়াম টিকিটের মূল্য। এর সঙ্গে বিমান ভাড়া, স্টেডিয়ামে যাতায়াত, আবাসন, খাবারের মূল্যও ছিল আকাশচুম্বী। একটি উদাহরণেই বিষয়টি পরিষ্কার বোঝা যাবে। নিউইয়র্ক থেকে নিউ জার্সি স্টেডিয়াম অভিমুখী ট্রানজিট ট্রেনের টিকিটের মূল্য ১২ ডলার ৯০ সেন্ট। কিন্তু বিশ্বকাপ উপলক্ষে এটি একপর্যায়ে ১৫০ ডলারে উঠে যায়।

এবারের বিশ্বকাপে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় দর্শকদের পরেই ছিল বিশ্বকাপ ভেন্যু শহরগুলো। ফিফার হিসাব ছিল বিশ্বকাপ বিশ্ব অর্থনীতিতে বাড়তি প্রায় ৪১ বিলিয়ন ডলার যোগ করবে। এর মধ্যে বিশ্বকাপের মার্কিন ভেন্যু শহরগুলোর অর্থনীতিতে ১৭ বিলিয়ন ডলার যোগ হবে। কিন্তু সেটা বাস্তবে ঘটেনি বলে জানিয়েছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো আলেকজান্ডার বাদজিয়ের। তিনি বলেন, বিশ্বকাপের কারণে কিছু ক্ষেত্রে বরং উল্টো ঘটনা ঘটেছে। স্বাভাবিক সময়ে এসব শহরে যত পর্যটক আসতেন, বিশ্বকাপের সময় ব্যাপক ভিড় ও কোলাহল সৃষ্টির শঙ্কায় সাধারণ পর্যটকরা এসব শহর এড়িয়ে চলেছেন। এ ছাড়া বিশ্বকাপ উপলক্ষে ভেন্যু শহরগুলোতে নতুন কোনো স্টেডিয়াম, হোটেল, আবাসনসহ অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়নি। পুরোনো অবকাঠামো দিয়েই টুর্নামেন্ট চালিয়ে নেওয়া এসব শহরগুলোতে ব্যাপক বিনিয়োগ আসেনি। ফলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তেমন বাড়েনি। 

আসল বিজয়ী ফিফা ও ব্রডকাস্টাররা 
বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট মানেই ফিফার পৌষ মাস। ২০২২ সালে ৩২ দলকে নিয়ে অনুষ্ঠিত কাতার বিশ্বকাপ থেকে ফিফা প্রায় ৭.৬ বিলিয়ন ডলার আয় করে। এবার ৪৮ দল নিয়ে আয়োজিত আসরে ফিফার আয় স্বাভাবিকভাবেই দুই অঙ্কের বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে, সেটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। ডয়েচ ব্যাংক রিসার্চের সিনিয়র স্ট্র্যাটেজিস্ট ম্যারিয়ন ল্যাবোরে জানান, এবারের বিশ্বকাপে ফিফার আয় ১৩ বিলিয়ন ডলার ছুঁতে পারে। টুর্নামেন্টে বাড়তি দল মানেই আরও কোটি কোটি দর্শকের টিভি পর্দায় চোখ রাখা। এর সঙ্গে সম্প্রচার, লাইসেন্সিং ও ম্যাচ ভেন্যুতে আতিথেয়তা সংক্রান্ত স্বত্ব, স্পন্সরশিপ চুক্তি এবং টিকিট বিক্রি থেকেও বিপুল অর্থ যোগ হওয়া। এদিকে  বিশ্বকাপে এবার নতুন করে ‘হাইড্রেশন ব্রেক’  যুক্ত হওয়ায় টিভি চ্যানেলগুলোও বিজ্ঞাপনের অর্থে ফুলেফেঁপে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ সম্প্রচার করা ফক্স টেলিভিশন তিন মিনিটের হাইড্রেশন ব্রেকও স্পন্সরের কাছে মোটা অঙ্কের অর্থে বিক্রি করে দিয়েছে। যে চ্যানেলটি বিশ্বকাপ চলাকালে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন প্রচারে দুই লাখ ডলার থেকে পৌনে এক মিলিয়ন ডলার অর্থ নিচ্ছে। বিশ্বকাপ চলাকালে বিশ্বব্যাপী টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিলিয়ন ডলারের বেশি অতিরিক্ত মুনাফা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×