স্রোতের তোড়ে নদীতে ভেঙে পড়ল সেতু, সাঁতরে পাড়ে উঠলেন শিশুসহ ৩ জন
ভেঙে পড়া সেতু
নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬ | ২১:৫৮
শেরপুরে ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে নালিতাবাড়ীতে পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে চেল্লাখালী নদীর ওপর নির্মিত একটি বেইলি সেতু ভেঙে পড়েছে। এ সময় সেতুতে থাকা দুই শিশুসহ তিনজন নদীতে পড়ে যান। পরে তারা সাঁতরে পাড়ে উঠে প্রাণে বেঁচেছেন।
আজ সোমবার দুপুরে নালিতাবাড়ী উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের নয়াপাড়া দক্ষিণ সন্ন্যাসীভিটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সেতুটি ভেঙে পড়ায় আশপাশের কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চেল্লাখালী নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে সেতুটির বেশির ভাগ অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। পরে প্রবল স্রোতের তোড়ে সেতুটি ভেঙে পড়লে সেতুতে থাকা দুই শিশুসহ তিনজন পানিতে পড়ে যান। তাঁরা সাঁতরে নদীর পাড়ে উঠে প্রাণে রক্ষা পান।
সেতুটি ভেঙে পড়ায় নয়াপাড়া, দক্ষিণ সন্ন্যাসীভিটাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও একই স্থানে নির্মিত একটি বেইলি সেতু পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে গিয়েছিল। পরে ২০২০ সালের দিকে নতুন করে নির্মিত সেতুটি স্থানীয়ভাবে ‘মায়ের ব্রিজ’ নামে পরিচিত ছিল।
স্থানীয়রা জানান, নদীর পশ্চিম তীরে বসবাসকারী মানুষের জন্য সেতুটি ছিল একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম। সেতু ভেঙে পড়ায় শিক্ষার্থী, কৃষকসহ সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
এদিকে চেল্লাখালী নদীর পানি বেড়ে শেরপুর-নালিতাবাড়ী-গাজীরখামার সড়কের গোল্লারপাড় এলাকায় সড়কের ওপর দিয়ে প্রবল স্রোতে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে সকাল থেকে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। রানীগাঁও এলাকায় ভাঙনে গ্রামীণ সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলায় সোমেশ্বরী নদীর পানি বেড়ে আয়নাপুর ও কাড়াগাঁও এলাকায় তীব্র স্রোত ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। মহারশী নদীর পানি বেড়ে রামেরকুড়া এলাকার পুরোনো ভাঙন দিয়ে ঢলের পানি ঝিনাইগাতী সদর বাজারে প্রবেশ করেছে। এতে বিভিন্ন দোকানে পানি ঢুকে ব্যবসায়ীরা দুর্ভোগে পড়েছেন।
শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী জানান, সোমবার সকাল ৯টায় চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ৩২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বিকেল ৩টায় পানি কমে বিপৎসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ২১ দশমিক ৯৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল।
তিনি বলেন, এ সময় সোমেশ্বরী নদীর পানির উচ্চতা ছিল ২৪ দশমিক ১৭ মিটার এবং মহারশী নদীর পানির উচ্চতা ২১ দশমিক ৬২ মিটার। দুপুরের পর বৃষ্টি কমে যাওয়ায় নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। নতুন করে ভারি বৃষ্টি না হলে এবং উজান থেকে অতিরিক্ত পানি না এলে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।
- বিষয় :
- শেরপুর
- পানি উন্নয়ন বোর্ড
- সেতু