বড় ফাটল ও ধসের ঝুঁকিতে গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধ, বন্যার আতঙ্কে বাসিন্দারা
ছবি: সমকাল
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬ | ২১:২১
ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধের শতাধিক স্থানে বড় ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। এতে যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে শহর প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে রয়েছেন পৌরবাসীসহ জেলার মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় ২৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ শহর রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, ফাটল ও মাটিধসের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও নদী ও বাঁধের মধ্যবর্তী দূরত্ব কমে মাত্র দুই থেকে আড়াই ফুটে নেমে এসেছে। অনেক স্থানে বৃষ্টির পানির ক্ষয়ে বাঁধের ঢাল দুর্বল হয়ে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি গর্তে শিশুদের খেলতেও দেখা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বেলে দোআঁশ মাটি দিয়ে নির্মিত হওয়ায় কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে বাঁধের বিভিন্ন অংশে বড় ধরনের ক্ষয় হয়েছে। তবে এসব ফাটল ও ধস স্থায়ীভাবে সংস্কারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
ডেভিড কোম্পানি পাড়া এলাকার বাসিন্দা জুয়েল মিয়া বলেন, প্রতিবছর বর্ষা এলেই শহর রক্ষা বাঁধ ঝুঁকিতে পড়ে। স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে বড় ধরনের দুর্যোগ ঘটতে পারে।
একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রতিবার বৃষ্টি হলেই বাঁধের মাটি সরে যায়। বড় বৃষ্টি হলে কী হবে, তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছি।
সরকার পাড়ার বাসিন্দা রাবেয়া বেগম বলেন, ২০১৯ সালে বাঁধ ভেঙে পুরো শহর পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। আমরা চাই না সেই পরিস্থিতি আবার ফিরে আসুক।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, সাদুল্লাপুর থেকে শুরু হয়ে সুন্দরগঞ্জ ও সাঘাটা পর্যন্ত বিস্তৃত শহর রক্ষা বাঁধটির দৈর্ঘ্য ২৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার। তবে বাঁধের কত অংশে ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য তাদের কাছে নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, নকশাগত ত্রুটি, বালুমাটি দিয়ে বাঁধ নির্মাণ এবং অতিবৃষ্টির কারণে পানির চাপে এসব ধস ও ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত সংস্কার না করলে ঝুঁকি আরও বাড়বে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, বাঁধের কিছু অংশে বৃষ্টির কারণে ক্ষয় হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে ঠিকাদারের মাধ্যমে সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী জিওব্যাগ ও বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করেই বিল পরিশোধ করা হবে।
সম্প্রতি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো সংস্কার এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, বাঁধের যেসব স্থানে গর্ত ও ফাটল সৃষ্টি হয়েছে, সেসব স্থান গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে কোনো ব্যত্যয় ঘটলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- বাঁধ
- বন্যা পরিস্থিতি