তাঁরা বিশ্বকাপের তারা
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৫২ | আপডেট: ২০ জুলাই ২০২৬ | ১১:০৪
গাঢ় অন্ধকারে তীক্ষ্ণ আলো চোখে পড়লে পথিক পথভ্রান্ত হন। এবারের বিশ্বকাপে প্রত্যাশার আলোয় পথ হারানো তারকার সংখ্যা কম নয়। পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, জার্মানির ফ্লোরিয়ান উইর্টজ ও জামাল মুসিয়ালা, ব্রাজিলের রাফিনিয়া কিংবা নেদারল্যান্ডসের ফন ডাইকরা আছেন এই তালিকায়। তবে সব আলো কেড়ে বিশ্বকাপের তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া ফুটবলারও কম নয়। আগেও মঞ্চ মাতানো লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে কিংবা হ্যারি কেইনের খেলা ভক্তদের নজর এড়ায়নি। আবার নজর কেড়েছেন প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে নামা স্পেনের মাইকেল ওয়াইরসাবাল, ফ্রান্সের মাইকেল ওলিসে কিংবা নরওয়ের আর্লিং হালান্ড ও মরক্কোর ইসমাইল সাইবারিরা।
পারফরম্যান্স বিচারে নিজের ষষ্ঠ আসরে বিশ্বকাপের সেরা পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন আর্জেন্টিনার তারকা লিওনেল মেসি। ব্রাজিল বিশ্বকাপের রানার্সআপ তিনি। কাতারে চ্যাম্পিয়ন। তবে সামগ্রিক ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স দেখলে এটাকেই মেসির সেরা বিশ্বকাপ বলতে হবে। ফাইনালের আগে বিশ্বকাপে নিজের সর্বাধিক ৮ গোল করেছেন। বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক পেয়েছেন। ৩৯ বছরের মেসিকে ঘিরেই আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি কৌশল সাজিয়েছেন।
মেসির চেয়েও বিশ্বকাপের বড় তারকার খ্যাতি সম্ভবত কিলিয়ান এমবাপ্পেই পাবেন। আগেই বিশ্বকাপের শিরোপা ছুঁয়েছেন। সেরা উদীয়মান ও গোল্ডেন বুট জিতেছেন। বিশ্বকাপের ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে ১০ গোল করার পাশাপাশি চার গোল করিয়েছেন। তিন বিশ্বকাপ খেলেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বাধিক ২২ গোলের মালিক হয়েছেন। ভালো করেছেন রাশিয়া বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জেতা হ্যারি কেইনও। এ ইংলিশ স্ট্রাইকার এবার জালে বল পাঠিয়েছেন ছয়বার।
তবে নতুনদের মধ্যে চমক দিয়েছেন স্পেনের স্ট্রাইকার মাইকেল ওয়াইরসাবাল। ২৯ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারের প্রতিভা নিয়ে প্রশ্ন ছিল না কখনও। রিয়াল সোসিয়েদাদেই তাঁর ১১ বছরের ক্লাব ক্যারিয়ার। যে কারণে তারকাখ্যাতি জোটেনি। ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেক হলেও বিশ্বকাপ খেলছেন প্রথমবার। জাতীয় দলে দুই বছর আগে নিয়মিত হওয়া এই স্ট্রাইকার ৫ গোল করে লা রোজাদের বিশ্বকাপে তুলতে বড় ভূমিকা রেখেছেন। প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি বিশ্বকাপে এক গোল ও অ্যাসিস্ট করা ১৯ বছরের লামিনে ইয়ামাল। তবে মাঠে ঝলক দেখানো সেরা তরুণ তারকা তিনিই। তরুণ স্পেন দলটিকে এক সুতোয় গেঁথে রাখায় মিডফিল্ডার রদ্রিকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। টুর্নামেন্টে তিনি সর্বাধিক সফল পাসই কেবল দেননি, ফাইনাল পর্যন্ত স্পেনের ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছেন এক হাতে।
কাতার বিশ্বকাপে ১৯ বছর বয়সে গোল করে রেকর্ড গড়েছিলেন জুড বেলিংহাম। এবার রীতিমতো ইংল্যান্ডকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। সাত গোল করেছেন। ‘মাঠের তিন ভাগ বেলিংহাম’ এমন প্রশংসায় ভেসেছেন। ৬০ বছর পর ইংল্যান্ডের সেরা সাফল্য ব্রোঞ্জটা তাঁরই জন্য। হয়তো দল সেমিফাইনাল খেলেনি। তবে বিশ্বকাপের তারকাখ্যাতি পেয়েছেন হালান্ড-সাইবারির মতো বেশ ক’জন। নরওয়ে যেমন হালান্ডের কাঁধে সওয়ার হয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে। ব্রাজিলের বিপক্ষে ডাবলসহ ৭ গোল দিয়েছেন দীর্ঘদেহী এই স্ট্রাইকার। ইংল্যান্ডকেও রুখে দেওয়ার সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন।
মরক্কোর জন্য আবার আফসোসের নাম সাইবারি। বিশ্বকাপের প্রথম তিন ম্যাচেই গোল পেয়েছেন তিনি। নকআউটে ইনজুরিতে ছিটকে যাওয়ার আগেই ২৫ বছরের এই স্ট্রাইকার বায়ার্ন মিউনিখে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। ১৮ বছরের মরোক্কান মিডফিল্ডার আইয়ুব বোয়াদ্দি ভবিষ্যতের তারকা খ্যাতি পেয়েছেন। ১৯ বছরের আইভরিয়ান ফরোয়ার্ড ইয়ান দিয়ামন্ডে বড় বড় ক্লাবের নজর কেড়েছেন। আর বিশ্ব চিনেছে কেপ ভার্দের বুড়ো গোলরক্ষক জোসে ভোজিনহাকে।
- বিষয় :
- বিশ্বকাপ ফুটবল