বিসিবির কাঠগড়ায় চিকিৎসা বিভাগ
সেকান্দার আলী
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬ | ১২:৩০
জাতীয় দলের পাঁচজন ক্রিকেটার এ মুহূর্তে চোটাক্রান্ত। তাদের মধ্যে চারজন পেস বোলার। তানজিম হাসান সাকিব বেশ আগে চোট পেলেও মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা চোট পেয়েছেন জিম্বাবুয়ে সফরে। লিটন কুমার দাস চোট পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডে ম্যাচে। একই সিরিজে তিনজন পেসারের চোট পাওয়া আর লিটন কুমার দাসের সঠিক চিকিৎসা না হওয়ার কারণে জবাবদিহির মুখে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মেডিকেল বিভাগ।
বিসিবির প্রধান ফিজিশিয়ান দেবাশীষ চৌধুরী ও জাতীয় দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলামের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলে জানায় একটি সূত্র। বিশেষ করে, লিটনের কাফ মাসলের চোট নির্ণয় ও চিকিৎসা প্রটোকলে ত্রুটি ছিল কিনা খতিয়ে দেখছে বোর্ড। গত এক মাসে লিটনের চিকিৎসা প্রটোকলের ত্রুটিবিচ্যুতি নিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছে বোর্ড।’
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে গত ১৪ জুন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে ব্যাটিং করার সময় চোট পান লিটন। আম্পায়ারের অনুমতি নিয়ে তাৎক্ষণিক মাঠ ছাড়েন তিনি। শুশ্রূষা করে ব্যাটিংয়ে ফিরে অপরাজিত ছিলেন ৫৮ রানে। ওই ব্যাটিং করা কাল হয় লিটনের। সে সময় চোটের মাত্রা সঠিকভাবে নির্ণয় করা হয়নি বলে অভিযোগ বায়েজিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ঢাকায় করা স্ক্যান রিপোর্ট নিয়েও আছে প্রশ্ন। বিসিবি মেডিকেল বিভাগ ও ফিজিও বায়েজিদুলকে অভিযোগের কাঠগড়ায় তোলার বড় কারণ লিটনকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি২০ দলে রাখা ও জিম্বাবুয়ে সফরে পাঠানো নিয়ে।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দলে রাখা হয়েছিল তাঁকে। হারারেতে ফিটনেস পরীক্ষা দেওয়ার সময় কাফ মাসলে ব্যথা অনুভূত হওয়ায় ম্যাচ না খেলে দেশে ফেরেন লিটন। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের অনুমতি নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে ডাক্তার দেখান তিনি। সেখানে স্ক্যানে চোট চিহ্নিত হওয়ায় প্লাটিলেট-রিচ প্লাজমা (পিআরপি) থেরাপি দেওয়া হচ্ছে তাঁকে। অথচ ফিজিওর দেওয়া প্রটোকল মেনে চোট পরিচর্যা ও অনুশীলনে ছিলেন লিটন।
মেডিকেল বিভাগের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হলে বিসিবির একজন অফিসিয়াল বলেন, ‘একটা সমস্যা হলে ব্যাখ্যা চাওয়া নিয়মিত ব্যাপার। লিটনের ভুল চিকিৎসা হয়নি। চিকিৎসকরা প্রটোকল দেন স্ক্যান রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে। তাই করেছে বিসিবির মেডিকেল বিভাগ। দুর্ভাগ্যবশত বেঁধে দেওয়া সময়ে সুস্থ হননি লিটন।’
ফিজিও বায়েজিদুলের পুনর্বাসন প্রটোকলে ভুল ছিল কিনা জানতে চাওয়া হলে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘লিটনকে এমন কোনো এক্সারসাইজ করানো হয়নি, যেটা ভুল ছিল।’ বিসিবি মেডিকেল বিভাগ থেকে জানা গেছে, চোটাক্রান্ত কাফ মাসলে রক্তক্ষরণ হওয়ায় তরল জমে আছে। প্লাটিলেট থেরাপি দেওয়ার পর রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতা বাড়লে মাসল স্বাভাবিক হতে পারে লিটনের।
এক সিরিজে তিনজন পেসার পেশির চোটে পড়া নিয়েও প্রশ্ন রাখা হয়েছে মেডিকেল বিভাগের কাছে। এক্ষেত্রে ফিজিওর কোনো ভুল ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখছে বোর্ড। জিম্বাবুয়ে সফরে প্রথম চোটে পড়েন মুস্তাফিজুর রহমান। তাঁর ডান হ্যামস্ট্রিংয়ে গ্রেড ওয়ান স্ট্রেইন। এ ছাড়া হাঁটুতে মাথা চাড়া দিয়েছে পুরোনো ব্যথা। বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম ১৪ জুলাই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাম পায়ে চোট পান। তিনিও গ্রেড ওয়ান স্ট্রেইনে আক্রান্ত। শরিফুলের চোট পরিচর্যা ও পুনর্বাসন প্রায় শেষের পথে। ২৯ জুলাই থেকে বোলিং করার কথা তাঁর।
জিম্বাবুয়ে সফরের শেষদিকে এসে বড় বিপত্তি ঘটে নাহিদ রানা চোটে পড়ায়। সিরিজের দ্বিতীয় টি২০ ম্যাচে ২.৩ ওভার বোলিং করে মাঠ ছাড়েন এ চাঁপাই এক্সপ্রেস। দেশে ফিরে স্ক্যান করা হলে বাঁ পাঁজরের পেশিতে দ্বিতীয় গ্রেডের চোট ধরা পড়ে। এ ধরনের চোট সারতে চার থেকে আট সপ্তাহ লাগে। বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ আট সপ্তাহের প্রটোকল দিয়েছেন নাহিদকে।