কন্ডিশন চেনা সাদমানদের
ছবি- বিসিবি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬ | ১৮:০৬
বাংলাদেশের এক দল ক্রিকেটার অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনের জল-হাওয়ার সঙ্গে আগে থেকে পরিচিত টপ অ্যান্ড টি২০ সিরিজ ও চার দিনের ম্যাচ খেলার সুবাদে। ২০২৪ সালে এইচপি আর ২০২৫ সালে ‘এ’ দলের ডারউইন সফরে ছিলেন সাদমান ইসলাম, অমিত হাসান, হাসান মাহমুদ ও মুশফিক হাসান। মাহমুদুল হাসান জয়ও খেলে এসেছেন প্রথম শ্রেণির ম্যাচ। এই ওপেনারের টেস্ট দলে না থাকা বড় ক্ষতি। তবে যে চার ক্রিকেটার ডারউইনে লাল বলে আগে খেলেছেন, সে অভিজ্ঞতার মূল্য অনেক। কারণ মুশফিকুর রহিমের মতো ক্রিকেটার ২১ বছরে অস্ট্রেলিয়ায় লাল বলে খেলার সুযোগ পাননি। সেদিক থেকে সাদমানরা সৌভাগ্যবান। পেস বোলার হাসান মাহমুদ জানান, ডারউইনে পেস ও বাউন্সি কন্ডিশন থাকবে। অসিদের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলার জন্য ব্যাটারদের কাছে বড় স্কোর চেয়ে রাখলেন তিনি।
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সিরিজ মাথায় রেখে ২০২৪ সাল থেকে ডারউইনের টপ অ্যান্ড টি২০ সিরিজের সঙ্গে তিনটি চার দিনের ম্যাচ খেলার ব্যবস্থা করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিসিবি প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশারের মতে, ‘অস্ট্রেলিয়ায় প্রতিবছর দুটি করে চার দিনের ম্যাচ খেলতে পারলে ভালো হতো। গত দুই বছর যেটুকু খেলার সুযোগ হয়েছে, সেটাও কম না। অস্ট্রেলিয়ায় যারা আগে খেলেছে, আশা করি তারা অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবে।’
ডানহাতি পেসার হাসান মাহমুদ গত বছর টি২০ সিরিজ ও একটি চার দিনের ম্যাচে খেলেছেন ‘এ’ দলের পক্ষে। সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান দুই টেস্টের সিরিজে, ‘ডারউইনের পিচে অতিরিক্ত বাউন্স থাকে। ভালো চ্যানেলে বোলিং করতে হবে বোলারদের। প্রথম ইনিংসে ব্যাটাররা বড় রান করলে আমাদের কাজটা সহজ হবে। আত্মবিশ্বাস নিয়ে বোলিং করা যাবে’ টেস্টের আগে ম্যাচ ভেন্যুতে প্রস্তুতির ওপর জোর দেন হাসান, ‘ওখানে গিয়ে যে যত তাড়াতাড়ি মানিয়ে নিতে পারবে, ততো ভালো। প্রস্তুতি ম্যাচের উইকেট আর ম্যাচের উইকেট কাছাকাছি হলে প্রথম থেকে সঠিক চ্যানেলে বোলিং করা আর ভালো ব্যাটিং করা সম্ভব হবে।’
উইকেটরক্ষক ব্যাটার অমিত হাসান দুই বছর চার দিনের ম্যাচ খেলেছেন ডারউইনে। ২০২৪ সালে পাকিস্তান শাহিনসের (এ) বিপক্ষে ছিল দুটি চার দিনের ম্যাচ। ১-১ ব্যবধানে ড্র হয়েছিল সিরিজটি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক করা অমিত খেলতে পারেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। নিজের অভিজ্ঞতা শোনালেন ফোনে, ‘আমি টানা দুই বছর ওখানে খেলেছি। যে মাঠে টেস্ট ম্যাচ হবে, সেখানে খেলিনি। ওখানে খেলার অভিজ্ঞতা কাজে দেবে। এই সময়েই খেলতে গিয়েছি– জুলাই-আগস্টে। আশা করি, আবহাওয়ায় দ্রুত মানিয়ে নিতে পারব।’
বিকল্প পেসার মুশফিক হাসানের মতে, ‘অস্ট্রেলিয়ার ওই কন্ডিশনে পেস ও বাউন্সি উইকেট থাকে। আমি অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, ধৈর্য নিয়ে খেলতে পারলে রান করা সম্ভব। পেস বোলাররা ওখানে সুবিধা পায়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভালো করতে হলে সুশৃঙ্খল বোলিং করতে হবে।’
টেস্ট বোলার খালেদ আহমদ গুরুত্ব দেন লাইন ও লেন্থের ওপর, ‘কন্ডিশন যা-ই হোক ভালো বোলিং করতে না পারলে ব্যর্থ হবেন। টেস্টে এক চ্যানেলে বল করতে হয়। আমি জানি কন্ডিশন ভালো, কিন্তু জায়গা মতো বল ফেলতে না পারলে কিছু হবে না।’
তিনি বলেন, ‘আশীষ নেহরার একটা সাক্ষাৎকার দেখছিলাম কাল (বৃহস্পতিবার)। তিনি বলছিলেন, পেস যতই থাক বলের লাইন-লেন্থ ঠিক না থাকলে কেউই ভালো বোলার নন। আমার কাজ হচ্ছে, লেন্থ ঠিক রেখে লাইনে বল করা। টেস্ট ক্রিকেটে ধৈর্য ধরে এক জায়গায় বল করতে হয়। এলোমেলো বল করলে রান হবে।’
তিনি জানান, ‘জিম্বাবুয়ে সিরিজে আমি এক চ্যানেলে বল করায় ২টি উইকেট পেয়েছি। জুটি হলে আরও উইকেট পেতাম। অনেক দিন পরে খেলায় ৮০ ভাগ জায়গায় বল করতে পেরেছি। অস্ট্রেলিয়ায় ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলে শতভাগ স্পটে বল করার চেষ্টা করব। কারণ অস্ট্রেলিয়ার মতো কন্ডিশনে খেলার সুযোগ খুব কম আসে।’
সিরিজের আগে তিন দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ৬ থেকে ৮ আগস্ট হবে গা গরমের ম্যাচটি।
বিসিবি ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফীস জানান, এই পরিকল্পনা দুই বছর আগে নেওয়া। আর এই সুযোগ লুফে নিতে চান খালেদ, ‘আগে তো যে কোনো সিরিজের আগে প্র্যাকটিস ম্যাচ হতো, এখন হয় না। আমরা এবার তিন দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছি। আমরা যারা অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে আগে খেলিনি, তাদের জন্য এই অভিজ্ঞতা দারুণ কাজে দেবে।’
- বিষয় :
- বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া
- বিসিবি
- সাদমান ইসলাম