সাক্ষাৎকারে তামিম
দল নির্বাচনে সম্পৃক্ত হই না
ছবি- বিসিবি
সেকান্দার আলী
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ১১:০৬ | আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ১২:৩৪
দেশের ক্রিকেট নিয়ে মহাপরিকল্পনা তামিম ইকবালের। সেন্টার অব এক্সিলেন্স গড়ে তোলার পাশাপাশি স্টেডিয়ামগুলোতে ছোট ছোট অনেক সংস্কার করছেন। গতকাল শনিবার সমকালকে একান্ত সাক্ষাৎকারে তামিম ইকবাল বলেন, উন্নয়নের পথেই আছে দেশের ক্রিকেট। বিসিবি সভাপতির সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সেকান্দার আলী
সমকাল: অনেক আলোচনা-সমালোচনার পর বিসিবির সভাপতি পদে এসেছেন। কাজ করতে কেমন লাগছে?
তামিম: একটা লক্ষ্য ছিল আর ওই লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছিলাম। প্রতিবন্ধকতা থাকবেই, এটা মেনে নিতে হয়। ওর থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো বড় দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালন করা। যে কাজের জন্য দায়িত্ব পাওয়া, সে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য পূরণ করা আমার কর্তব্য। আমি অল্প কিছু লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি এবং সেগুলো অর্জন করার চেষ্টা করছি।
সমকাল: অবকাঠামোগত উন্নয়নে হাত দিয়েছেন। এটা বাস্তবায়ন করা কি খুব কঠিন?
তামিম: আমি বা আমার বোর্ড জাতীয় দলের ফলকেন্দ্রিক চিন্তা করছি না। দেশের ক্রিকেট কাঠামো মজবুত করার পরিকল্পনা নিয়েছি। আমার কাছে সিরিজ জেতা-হারার চেয়েও এ মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ হলো সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো। আজ থেকে ২০ বছর আগে সুযোগ-সুবিধাগুলো গড়ে তোলা হলে আমি অন্যভাবে চিন্তা করতাম। যেহেতু হয়নি, তাই ক্রিকেটীয় কাঠামো গড়ে তোলা প্রধান লক্ষ্য। এখন যে প্রকল্পগুলো নিয়েছি, সেগুলো বাস্তবায়ন হলে পাঁচ থেকে সাত বছর পর ৫০ থেকে ৬০ জন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার থাকতে পারে। কারখানা না থাকলে প্রডাক্ট বের করবে কোথা থেকে? সেন্টার অব এক্সিলেন্স সেই কারখানা।
সমকাল: পূর্বাচল স্টেডিয়াম নিয়ে পরিকল্পনা কী?
তামিম: ২০৩১ সালের বিশ্বকাপের বিডিং করার সময় পূর্বাচল স্টেডিয়ামে দেখানো হয়েছিল। একটি স্টেডিয়াম করতে এখন ৭০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা লেগে যাবে। আমরা ওই পরিমাণ টাকা বিসিবির ফান্ড থেকে ব্যয় করলে প্রতিষ্ঠান চলবে না। আমি আশা করি, সরকার এক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে। আমরা আলোচনা শুরু করেছি। এই সরকার যেভাবে স্পোর্টসকে গুরুত্ব দিচ্ছে, তাতে আমি নিশ্চিত বিশ্বকাপের স্বার্থে স্টেডিয়ামটা করবে।
সমকাল: বাংলাদেশের ক্রিকেট রেজাল্ট ওরিয়েন্টেড। সে জায়গাটাও তো দেখতে হবে?
তামিম: এই দল বা বর্তমান দলে যারা আছে, তাদের ভালো পারফরম্যান্সের জন্য যা করার আমরা করব। এই দল থেকে আমরা কতটা আশা করতে পারি, সবার তা ধারণা আছে। কিন্তু রাজশাহী বা বরিশালের একটি ১৬ বছরের ছেলের কতটা ক্ষমতা আছে, সে ধারণা নেই। পৃথিবীর সেরা ব্যাটার হওয়ার, বাংলাদেশকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার সম্ভাবনা থাকতে পারে। আমরা ওটাতে ফোকাস করছি।
সমকাল: বিশ্বকাপের তো বেশি সময় নেই?
তামিম: যে দলটি খেলছে, তার সঙ্গে বাইরে থাকা ১০-১৫টি ছেলে যোগ হবে পুলে। এখান থেকে বিশ্বকাপ দল গড়া হবে। এর মধ্যে কোনো বিশেষ প্রতিভা পাওয়া গেলে আলাদা কথা। আমরা ব্যাট বা বল করব না। আমরা সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করে দেব, খেলাটা ক্রিকেটারদের খেলতে হবে। আমি দল নির্বাচনে সম্পৃক্ত হই না। কোন ১১ জন খেলবে, সেটা আমার কাজ না। টিম ম্যানেজমেন্ট আর সিলেকশন প্যানেল আছে, তারা দেখবে। আমি হস্তক্ষেপ করলে আর দল ফেল করলে, তখন তারা বলবে সিদ্ধান্ত আপনার। ব্যর্থতার ভাগীদারও করা হবে আমাকে। আমি প্রতিটি সিদ্ধান্তে জড়ালে কাউকে জবাবদিহিতায় রাখা সম্ভব হবে না।
সমকাল: ভারত কি খেলতে আসছে?
তামিম: আমি আগেও বলেছি, আমার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বোর্ড সভাপতি হিসেবে যতটা যাওয়ার, আমি ততটা গিয়েছি। আমাদের সীমা অতিক্রম করতে চাই না। বিসিসিআইর সঙ্গে ক্রিকেট বোর্ডের নিয়মিত যোগাযোগ আছে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সিরিজ আনন্দদায়ক হয়। এ মুহূর্তে আরও নির্দিষ্ট করে বলতে পারছি না।
সমকাল: বিপিএল কি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা?
তামিম: এ বছর না-ও হতে পারে বিপিএল। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আরও ভালো বলতে পারবেন। আমার ব্যক্তিগত ইচ্ছা বিপিএলটা গুছিয়ে করা। যেখানে খেলা নিয়ে আলোচনা হবে, হার-জিত নিয়ে কথা হবে। টাকাপয়সা নিয়ে নেতিবাচক খবর হোক, সেটা চাই না। বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট হলেও বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের টুর্নামেন্ট। ইমেজ রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য।
সমকাল: ২০২৮ সালে টি২০ বিশ্বকাপ আছে, বিপিএল না হলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে?
তামিম: আমরা এ বছর করতে না পারলেও ২০২৭ সালে ভালোভাবে করতে পারব। এ ছাড়া টি২০ টুর্নামেন্ট আছে।
সমকাল: ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট কি গুছিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে?
তামিম: মোটামুটি ভালোই হয়েছে। আমরা আসার পর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ হয়েছে। তৃতীয় বিভাগ হয়েছে। নতুন মৌসুম শুরু হয়ে যাবে। দ্বিতীয় বিভাগে দলগুলো অংশগ্রহণ করেনি, সেই খেলোয়াড়দের আর্থিক অনুদান দেওয়ার একটি ব্যাপার আছে। আলোচনা করে সেটাও সমাধান করে ফেলব।
সমকাল: বিসিবির ইমেজ ফেরাতে চেয়েছেন। এখন পর্যন্ত কতটা পারলেন?
তামিম: এটা আপনারা আমার থেকে ভালো বলতে পারবেন। একটা কথা বলতে পারি ক্রিকেট নিয়ে এখন আলোচনা হচ্ছে। এটা ভালো দিক।
সমকাল: বিসিবির খরচ কমাতে কি উদ্যোগ নিচ্ছেন?
তামিম: আমার কাছে মনে হয় অনেক বেশি স্টাফ আছে বোর্ডে। এই একটা জায়গায় ভবিষ্যতে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। যারা অনেক বছর ক্রিকেটে সার্ভিস দিয়েছেন, তাদের সঙ্গেও গোল্ডেন হ্যান্ডশেক হতে পারে। আমরা যখনই এ রকম কোনো সিদ্ধান্ত নিতে যাই, খুব নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়। সবকিছুরই একটা শেষ আছে। তাই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে বিন্দুমাত্র বিচলিত হব না।
সমকাল: সভাপতির পদ কেমন উপভোগ করছেন?
তামিম: খেলোয়াড়ি জীবনে দল নিয়ে চিন্তা করতাম। এখন দেশের ক্রিকেট নিয়ে। ব্যক্তিগত ইগো, পছন্দ, অপছন্দ আনা যাবে না। একজনকে ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ না-ও হতে পারে, কিন্তু সে প্রতিষ্ঠানের জন্য ভালো হলে, তাকে মেনে নিয়ে আমাকে এগোতে হবে। আমার পজিশন বড়, তাই বলে সব কিছু বুঝে ফেলেছি, শিখে ফেলেছি ভাবা ভুল। প্রতিটি দিন আমি শিখছি। আমার ব্যক্তিগত ইগো বাইরে রেখে বিসিবিতে ঢুকি।
সমকাল: আইসিসিতে প্রথম সভায় একটি কমিটির চেয়ারম্যান হলেন।
তামিম: প্রথম বোর্ড মিটিংয়ে একটা কমিটির চেয়ারম্যান বানানো আমার ও দেশের জন্য অনেক সম্মানের। বৈশ্বিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ কমিটির চেয়ারম্যান হওয়া সত্যিই আনন্দের। ওরা যে আস্থা রেখেছে, আমি তার প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করব।
সমকাল: বাহ্যিক চাপ কেমন?
তামিম: ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্তে কোনো আপস নেই। ক্রিকেটকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে সেখানে আমি কোনো ধরনের কম্প্রোমাইজ করতে পারি না।
সমকাল: চার বছর পর দেশের ক্রিকেটকে কোথায় দেখতে চান?
তামিম: তিন-চারটি ভালো ফ্যাসিলিটির বাস্তবায়ন দেখতে চাই। যেখানে খেলোয়াড়রা আগ্রহ নিয়ে যাচ্ছে ও নিজেদের উন্নয়নে কাজ করছে। একজন সাধারণ ক্রিকেটারকে অসাধারণ করে গড়ে তোলার জায়গা দেশে আছে, সেখানে দেখতে চাই।
সমকাল: ধন্যবাদ
- বিষয় :
- তামিম ইকবাল
- সাক্ষাৎকার
- বিসিবি
- বিসিবি সভাপতি