ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শনিবার দ্বিতীয় টেস্টে নামছে বাংলাদেশ 

ম্যাকাইয়ে অচেনা ভেন্যুর পরীক্ষা

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শনিবার দ্বিতীয় টেস্টে নামছে বাংলাদেশ 

ম্যাকাইয়ে অচেনা ভেন্যুর পরীক্ষা
×

ডারউইন থেকে ম্যাকাই যাওয়ার পথে বিমানে ওঠার আগে এবাদতের সেলফিতে হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ ও খালেদ আহমেদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ | ১২:২৮

ভোর ৫টায় ফ্লাইট, তাই সারারাত প্রায় নির্ঘুম কাটিয়েই ডারউইন থেকে ম্যাকাইয়ের ফ্লাইট ধরে বাংলাদেশ দল। ক্রেইনস থেকে টাউন্স ভিল দু’দফায় ফ্লাইট বদলিয়ে প্রায় বারো ঘণ্টার আকাশ ভ্রমণ শেষে গতকাল মঙ্গলবার কুইন্সল্যান্ডের সাউথ ম্যাকাইয়ে পৌঁছান নাজমুল হোসেন শান্তরা। বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানাতে বেশ কিছু প্রবাসী বাংলাদেশি হাজির হয়েছিলেন এদিন। 

ডারউইন থেকে ঐতিহাসিক জয় পাওয়ার পর নতুন অচেনা এই শহরে নতুন এক পরীক্ষায় বসতে যাচ্ছে এবার টাইগাররা। শনিবার এই ভেন্যুতে সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে দ্বিতীয় টেস্টে নামবে তারা। এবং এখানেও অজানা এক প্রতিপক্ষ গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনার (স্থানীয়দের কাছে স্টেডিয়ামটির আগের নাম হারাপ পার্ক নামেই পরিচিত) বাইশ গজ। বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার এই ম্যাচটি দিয়েই মাঠটি টেস্ট ভেন্যু হিসেবে নাম লেখাতে যাচ্ছে। 

অস্ট্রেলিয়ার দ্বাদশতম টেস্ট ভেন্যু হবে এই মাঠ। ডারউইনে তাও একুশ বছর পর টেস্ট আয়োজন করা হয়েছিল এবার, তবে ম্যাকাইয়ের এই ভেন্যু অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে তার চেয়েও যেন বেশি অবহেলিত। এখানে ৩১ বছরের মধ্যে প্রথম শ্রেণির ম্যাচই হয়েছে মাত্র পাঁচটি!

তাই অচেনা কোনো ম্যাচের ভিডিও নিয়ে যে এই ভেন্যুকে পর্যালোচনা করবেন শান্তরা, সেই সুযোগও কম। মূলত অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবলই খেলা হয় এই মাঠে। ক্রিকেট বলতে উইমেন্স বিগ ব্যাশের কিছু ম্যাচ রাখা হয় এখানে। সেই ১৯৯৫-৯৬ সালে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ান ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রথম লাল বলের ম্যাচ হয়েছিল এখানে। তারপর প্রায় কুড়ি বছর অপেক্ষা করতে হয় ম্যাকাইয়ে পরের প্রথম শ্রেণির ম্যাচটি আয়োজনে। ২০১৫-১৬ সালে শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচ হয়েছিল। ২০২৩-২৪ সালে নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের সঙ্গে গোলাপি বলের একটি ম্যাচ খেলেছিল অস্ট্রেলিয়া ‘এ’। আর সর্বশেষ ২০২৪ সালের অক্টোবরে ভারত আর অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের একটি ম্যাচ দেখেছিল ম্যাকাই। 

মজার ব্যাপার হচ্ছে এই মাঠে প্রথম শ্রেণির ম্যাচে যে দুটি সেঞ্চুরি আছে তার দুটিই ম্যাট রেনশের। এই টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে এই ম্যাট রেনশকেই ডাকা হয়েছে। ম্যাকাইয়ের মাঠে তাঁর খেলার অভিজ্ঞতাটা কাজে লাগাতে চায় অস্ট্রেলিয়া। তবে অস্ট্রেলিয়ার নতুন এই টেস্ট ভেন্যু নিয়ে শুধু শান্তরা নন, স্মিথরাও অজানা আতঙ্কে থাকবেন। কেননা এখানে তাদেরও খেলার তেমন অভিজ্ঞতা নেই। তবে ভিডিও না থাকলেও কিছু পরিসংখ্যান নথিভুক্ত আছে। যেমন ৬০ শতাংশ দল টস জিতে এখানে প্রথম ব্যাটিং নিয়েছে এবং ৮০ শতাংশ ম্যাচ তারাই জিতেছে। প্রথম ইনিংসে এখানে গড় রান ২৫৭, পেসাররা এখানে ১২২টি উইকেট দখল করেছেন, স্পিনাররা সেখানে ৫০টি। 

এই মাঠে ১৯৯২ বিশ্বকাপে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ শুরু হয়েছিল। ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যেকার সেই ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পন্ড হওয়ার আগে দুটি বল খেলা হয়েছিল, বলটি করেছিলেন লঙ্কান পেসার চম্পাকা রামানায়েক আর ব্যাট করেছিলেন কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত। তেত্রিশ বছর পর ২০২৫ সালে ফের ওডিআই হয়েছিল এখানে অস্ট্রেলিয়া আর দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে। 

এমনিতে কুইন্সল্যান্ডের টেস্ট ভেন্যু বলতে অনেকে ব্রিজবেনের গ্যাবাকে মনে করে থাকেন। সেখানকার বাউন্স পিচের আতঙ্কে থাকেন। তবে ম্যাকাইয়ের বাইশ গজ কেমন থাকবে সেটা নিয়ে কৌতূহল দুই দলেরই। তাছাড়া নতুন এই টেস্ট ভেন্যু নিয়ে অস্ট্রেলিয়ানদের মধ্যেও আগ্রহ রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় এ পর্যন্ত পুরুষদের আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করেছে মোট ১১টি ঐতিহাসিক ভেন্যু, যা দেশটির প্রধান প্রধান শহরে ছড়িয়ে রয়েছে। এর মধ্যে ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ভেন্যু মেলবোর্নের মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড এবং সিডনির সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ড অন্যতম। 

কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের ব্রিসবেনে রয়েছে বিখ্যাত ‘দ্য গ্যাবা ’ এবং প্রাচীন ‘ব্রিসবেন এক্সিবিশন গ্রাউন্ড’, আর দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার প্রধান ভেন্যু হিসেবে অ্যাডিলেড ওভাল। ক্রিকেট মানচিত্রে গতি ও বাউন্সের জন্য পরিচিত পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পার্থ শহরে রয়েছে দুটি ভেন্যু–ঐতিহাসিক ‘ওয়াকা গ্রাউন্ড’ এবং বর্তমানের আধুনিক ‘পার্থ স্টেডিয়াম’। এছাড়া তাসমানিয়ার হোবার্ট শহরে ‘বেলেরিভ ওভাল’ এবং দেশের রাজধানী ক্যানবেরায় ‘মানুকা ওভাল’ টেস্ট ক্রিকেট আয়োজন করে থাকে। 

মূলধারার এই ভেন্যুগুলোর বাইরে নর্দার্ন টেরিটরির ডারউইন শহরের ‘মাররারা ওভাল’ এবং কুইন্সল্যান্ডের কেয়ার্নস শহরের ‘ক্যাজালিস স্টেডিয়াম’ বিভিন্ন সময়ে টেস্ট ম্যাচ আয়োজন করে ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। ক্রিকেটের এই রোমাঞ্চকর তালিকায় এবার যোগ হচ্ছে এক নতুন অধ্যায়। বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্ট সিরিজকে বরণ করে নিতে এবং দেশের ১২তম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতে এখন পুরোপুরি প্রস্তুত কুইন্সল্যান্ডের নয়নাভিরাম শহর ম্যাকাই।

এরই মধ্যে নাকি এই টেস্টের প্রথম দিনের সব সাধারণ টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ওয়েবসাইটের খবর দশ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এই স্টেডিয়ামে টেস্টের দ্বিতীয় দিনের টিকিট এখনও কিছু বাকি আছে। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারানোর পর প্রবাসী বাংলাদেশি ছাড়াও স্থানীয় অসিদের মধ্যেও দ্বিতীয় টেস্টটি ঘিরে আগ্রহ এখন তুঙ্গে।
 

আরও পড়ুন

×