ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কোরাল আইল্যান্ড

ক্যাঙারুর সৈকত ভ্রমণ

ক্যাঙারুর সৈকত ভ্রমণ
×

হিলব্রো ন্যাশনাল পার্কে সৈকত মাতাচ্ছে ক্যাঙারু। গতকাল সোমবার তোলা- সমকাল

সেকান্দার আলী, ম্যাকাই থেকে

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৪৬ | আপডেট: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ১৩:৪৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

শহর থেকে কেপ হিলব্রো ন্যাশনাল পার্কের দূরত্ব ৪৮ কিলোমিটারের কিছু বেশি। ভাড়ার গাড়ি নিয়ে যেতে হয়। স্পটে পৌঁছাতে হবে সূর্য ওঠার আগেই। কারণ আলো ফোটার আগে ক্যাঙারু সৈকত ভ্রমণ করে। আমরা চার সাংবাদিক ভোর ৫টায় রওনা হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাই পুব আকাশে সূর্য উঁকি দেওয়ার আগে। আর আমাদের আগে পৌঁছেছেন দেড়শর মতো দেশি-বিদেশি পর্যটক। তারা বড় একটা জায়গা নিয়ে ফাঁকা হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। ক্যাঙারুগুলো এসে সৈকত মাতাচ্ছে। সবাই স্বর্গীয় সে দৃশ্য উপভোগ করছেন। কেউ কেউ লতাপাতা-ফলমূল দিচ্ছিলেন ক্যাঙারুকে। প্রাণীগুলো আয়েশ করে খেয়েদেয়ে, নাচতে নাচতে পার্কে ফিরে যাচ্ছিল। ততক্ষণে পাহাড়ের ওপার থেকে লাল আভা ছড়িয়ে সতেজ সূর্য মাথা তুলেছে। সমুদ্রের নীল জল আর সূর্যের লাল রং মিলে নৈসর্গিক এক দৃশ্য তৈরি হয় সৈকতে।

ক্যাঙারু আগে অনেকবার দেখার সুযোগ হয়েছে। তাই আমি দেখতে গিয়েছিলাম কোরাল আইল্যান্ড, সূর্যোদয় ও মহাসাগরের নীল জলরাশি। এ কারণে দলছুট হয়ে একাকী চলে গিয়েছিলাম বাঁক নেওয়া সৈকতের শেষ প্রান্তে। দেখাদেখিটা মনে হয় ছোঁয়াচে রোগের মতো। পর্যটকের ভিড় থেকে আলাদা হয়ে কয়েকটি কাপল আমার পিছু পিছু গিয়েছিল সূর্যের জেগে ওঠার দৃশ্য দেখতে। স্বদেশি দুজন সাংবাদিকও অনুসরণ করেন আমাকে। সবাই মিলে চুটিয়ে ছবি তুলি কোরাল, পাথর আরও অনেক কিছুকে ব্যাকগ্রাউন্ডে রেখে। এই পার্ক দেখতে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ ও ম্যানেজমেন্টের সদস্যরাও।  আসলে পুরো অস্ট্রেলিয়া এমনভাবে সাজানো গোছানো যে, মনে হবে পটে আঁকা ছবি।  অস্ট্রেলিয়া দেশটির সীমান্তের শহর ম্যাকাই একটু বেশিই সুন্দর। এক লাখ ২০ হাজারের মতো জনবসতি। কোনো রকম বিশৃঙ্খলা গত ছয় দিনে চোখে পড়েনি। বরং শান্তির শহর মনে হয়েছে। বিকেল ৫টায় শপিংমল বন্ধ। খাবারের দোকান খুঁজে পাওয়াও মাঝেমধ্যে কঠিন হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশের টেস্ট সিরিজ কাভার করতে আসা ঢাকার সাংবাদিকরা খুব স্বস্তির দিন কাটিয়েছেন। কারণ খাবারে ভেজাল নেই, গাড়ির উচ্চ হর্ন নেই, পথঘাটে ময়লাকাদা নেই, রাতের গভীরেও ছিনতাই হয় না। তবে চাঁদেরও কলঙ্ক আছে, তাই অস্ট্রেলিয়ায়ও চোর আছে। ম্যাকাইয়ে দেখেছি হোটেলে তালা লাগাতে। সিসি ক্যামেরা থাকার পরও অরক্ষিত মালপত্র চুরি হয়ে যায়। কয়লা খনির জন্য বিখ্যাত ম্যাকাই পর্যটনেরও শহর। কুইন্সল্যান্ডের ব্রিসবেন থেকে প্রায় হাজার কিলোমিটারের পথ ম্যাকাই। এই পথ বাস বা ট্রেনে পাড়ি দিতে ১৭ ঘণ্টার মতো লাগে। বয়স্ক নারী-পুরুষ বাস-ট্রেনে বেশি ভ্রমণ করে। কারণ তাদের হাতে অফুরান সময়। গত এক সপ্তাহ কাজের ফাঁকে ম্যাকাই শহর ঘুরে দেখেছি। নীল জলের নদীতীর ধরে জগিং করেছি। ভোরের সতেজ বাতাসে বুক ভরে গেছে। ভালো লেগেছে হার্বার। হাজার কোটি টাকা খরচ করে হার্বারকে সাজানো হয়েছে অষ্টাদশীর মতো করে। পোতাশ্রয়ে শত শত ইয়োট বাঁধা। মালিকদের কেউ মাছ শিকার করতে গভীর সমুদ্রে যাচ্ছেন, কেউ কেউ পরিবার নিয়ে বিশাল জলরাশি উপভোগ করছেন। দূরে মালবাহী বিশালাকার জাহাজ নোঙর করা। হার্বারের পরিবেশ এতটাই সুন্দর যে, ঘরে ফেরার তাড়না পাবেন না।
 

আরও পড়ুন

×