ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাক্ষাৎকারে হাথুরুসিংহে

বাংলাদেশের সাফল্যে আমি মুগ্ধ

বাংলাদেশের সাফল্যে আমি মুগ্ধ
×

ছবি- সমকাল

সেকান্দার আলী, সিডনি থেকে

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ১৩:৩৯ | আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ১৩:৪০

২০২৪ সালের অক্টোবরে বরখাস্ত হয়ে ঢাকা ছেড়েছিলেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। দুই দফায় (২০১৪-১৭ এবং ২০২৩-২৪) বাংলাদেশের দায়িত্ব ছিলেন, কোনো বারই হাসিমুখে বিদায় নিতে পারেননি। তার পরও বাংলাদেশকে সফল হতে দেখলে খুশি হন টাইগারদের সাবেক এ কোচ। অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট জয় আনন্দে ভাসিয়েছে তাঁকে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ১-১ ব্যবধানে সিরিজ ড্র করাকে সেরা সাফল্য বলে মনে করেন তিনি। জাতীয় দলের সাবেক এই কোচ মনে করেন ধারাবাহিকতা রাখা গেলে ২০২৭ ওয়ানডে আর ২০২৮ সালের টি২০ বিশ্বকাপে ভালো করা সম্ভব। সিডনিতে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের একান্ত সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সেকান্দার আলী।

সমকাল: ডারউইনে প্রথম টেস্ট ম্যাচটি দেখেছেন?
হাথুরুসিংহে:
হ্যাঁ, দেখেছি। বাংলাদেশ সত্যিই খুব ভালো খেলেছে। এমন না যে অস্ট্রেলিয়া চেষ্টা করেনি। তারাও ভালো ক্রিকেট খেলেছে। তবে বাংলাদেশ চারটি দিন নিখুঁত ক্রিকেট খেলে সফল হয়েছে।

সমকাল: ম্যাকাইতে পরিস্থিতিটা একটু অন্যরকম ছিল, এই ধরনের উইকেটে খেলা কি সত্যিই কঠিন?
হাথুরুসিংহে:
হ্যাঁ, এ ধরনের উইকেটে খেলা খুবই কঠিন। শুধু বাংলাদেশ নয়, যে কোনো দল ওই কন্ডিশনে সমস্যায় পড়ত। প্রথম দিনে দুই দলের জন্যই উইকেটটা খুব কঠিন ছিল। বাংলাদেশ টস জিতে অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাট করতে পাঠালে তারাও চাপে পড়ত। আমি বলছি না, অলআউট হয়ে যেত। এ রকম কন্ডিশন বিশ্বের যে কোনো দলের জন্য সমস্যা। অ্যাশেজে ইংল্যান্ড দুটি ম্যাচ দুই দিনে হেরেছে। উইকেটগুলো ব্যাটসম্যানদের জন্য একটু বেশি কঠিন। কুকাবুরা বলের সিম বদলে যাওয়ার পর থেকে এটা হচ্ছে। 

সমকাল: ২০২২ সালে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে নিউজিল্যান্ডকে টেস্টে হারায় বাংলাদেশ। ২০২৩ সালে নভেম্বরে দেশেও কিউইদের হারায়, পাকিস্তানে জিতেছে। ওই জয়গুলো কি আজকের সাফল্যের ভিত?
হাথুরুসিংহে:
হ্যাঁ, যেটা আপনি শুরুতে বলেছিলেন, এটা ধারাবাহিক উন্নতির ফল। এখন অনেক উন্নতি হয়েছে। এই দলে বিশ্বমানের ফাস্ট বোলার আছে। বোলাররা খুব ভালো করছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছিল। সিলেটে টেস্ট ম্যাচ জিতেছিলাম। নিউজিল্যান্ডে একটি ওয়ানডে ম্যাচ ও টি২০ ম্যাচ জিতেছি। পাকিস্তানকে তাদের মাটিতে হোয়াইটওয়াশ করেছি। এই সাফল্য একটি প্রক্রিয়ার ফল।

সমকাল: হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলামের বোলিং কেমন লেগেছে?
হাথুরুসিংহে:
একজন বোলারকে পাঁচ উইকেট দিয়ে বিচার করা ঠিক না। বোলিং জুটি, রান চেক দেওয়া, ব্যাটারদের চাপে ফেলা– একজন বোলারদের মূল কাজ। সেগুলো খুব ভালো হয়েছে ডারউইনে। আমার কাছে সাত উইকেটের থেকে বোলিং ছন্দটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। হ্যাঁ, শরিফুলের বোলিং খুব ভালো লেগেছে।

সমকাল: ব্যাটিং কেমন লেগেছে? 
হাথুরুসিংহে:
মুমিনুল হক ও তানজিদ হাসান তামিমের ৯০ রানের জুটি খুব ভালো ছিল। নাজমুল হোসেন শান্ত পরে ক্যারি করেছে। মেহেদী মিরাজের ব্যাটিং, বোলিং দারুণ ছিল। আপনাদের মনে আছে কি আমি মেরুন জ্যাকেট পাঠাতাম? ছোট ছোট জয়গুলোর যোগফল ম্যাচের সাফল্য। টেস্টে বাংলাদেশকে সেটাই করতে দেখছি।

সমকাল: বিদেশের মাটিতে মিরাজের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স কেমন লেগেছে?
হাথুরুসিংহে:
আমার ধারণা সে ১০ বছর ধরে খেলছে। সাকিব আল হাসানের সম্ভাব্য উত্তরসূরিও। মিরাজ ধীরে ধীরে উন্নতি করছে। এখন একজন সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবেও নিজের অবস্থান বুঝতে পারছে সে। যেটা ভালো খেলতে আত্মবিশ্বাস জোগায়। 

সমকাল: সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহরা অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে পারেননি। মুশফিকুর রহিম তাদের প্রতিনিধি ছিলেন। বাকিরা কি কিছুটা দুর্ভাগা?
হাথুরুসিংহে:
অন্যদের খেলার সুযোগ না পাওয়া দুর্ভাগ্য। তারা বিশ্বমানের খেলোয়াড়। টেস্ট খেলতে পারলে হয়তো খুশি হতো।

সমকাল: আপনার কাছে অনেকে প্রস্তুতি নিতে আসে...
হাথুরুসিংহে:
হ্যাঁ, বিষয়টি আমার ভালো লাগে। এটা একটা দারুণ ব্যাপার বলতে পারেন। আমাকে আবেগী করে। আসলে সততা ও বিশ্বাস দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠে। এটা রাতারাতি তৈরি করা যায় না। আদর্শিক জায়গায় ঠিক থাকলে প্রতিদান পাবেন। 

সমকাল: টিম কালচার গড়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সেটা সম্পূর্ণ না করেই চলে আসতে হয়েছিল। বিষয়টি কি আপনাকে পীড়া দেয়?
হাথুরুসিংহে:
আমি আপনাকে খুব সংক্ষেপে উত্তর দেব; হ্যাঁ। হতাশাজনক ছিল। আমি এই পরিবর্তনটা আঁচ করতে পেরেছিলাম। ২০২৩ বিশ্বকাপের পর আমরা যে কয়েকটি পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছিলাম এবং বাস্তবায়নও করেছিলাম, সেটা এখন কাজে দিচ্ছে। টেস্ট দলে একটি ভালো সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। পাকিস্তানকে তাদের মাটিতে আর নিউজিল্যান্ডকে দেশের মাটিতে হারিয়েছি। আর ভারতে কঠিন সময় ছিল। 

সমকাল: আপনি দলটাকে কোথায় দেখতে চান? 
হাথুরুসিংহে:
আগে এই কন্ডিশনে খেলতে এসে আমরা পরিস্থিতি সামলাতে চেষ্টা করতাম। আর এখন রেজাল্ট পাওয়ার সময়। অনেক ভালো বোলার আছ। ভালো প্রস্তুতি নেওয়া গেলে ২০২৭ সালের ওয়ানডে আর ২০২৮ সালে টি২০ বিশ্বকাপে ভালো করা সম্ভব। দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন কাছাকাছি।  

সমকাল: বিসিবি আপনাকে আবার প্রস্তাব দিলে কোচের দায়িত্ব নিতে রাজি হবেন?
হাথুরুসিংহে:
এটা আমার সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় নয়। আপনাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়। অথবা আপনাদের নিজেদের মধ্যে আলোচনা করার বিষয়।

সমকাল: কোচিং ডিরেক্টর হতে বললে?
হাথুরুসিংহে:
আপনার কি মনে হয় ওটা ঘটবে? আমার তো তা মনে হয় না। তারা আগে ভাবুক। তার পর দেখা যাবে।

সমকাল: ক্রিকেটাররা যখন আপনার কাছে পরামর্শের জন্য ফোন করে, তখন কেমন  লাগে?
হাথুরুসিংহে:
ওরা যখন এটা করে, তখন আমি খুব খুশি হই। কে কী মনে করে, তাতে কিছু যায় আসে না। আমার সঙ্গে কথা বলে কেউ উপকৃত হলে ভালো লাগে। কারণ আমি বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ভালোবাসি। কারণ দেশটিতে আমি কাজ করেছি।

সংশ্লিষ্ট খবর

আরও পড়ুন

×