ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২১ বছরের মায়া কাটিয়ে শেফিল্ডে হামজা

২১ বছরের মায়া কাটিয়ে শেফিল্ডে হামজা
×

হামজা চৌধুরী

তরিকুল ইসলাম রাজন

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:৩৭ | আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:৪৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

সাত বছর বয়সে যে ক্লাবের একাডেমিতে পা রেখেছিলেন, ২১ বছর পর সেই লেস্টার সিটির সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টানলেন হামজা চৌধুরী। দীর্ঘ এই সময়ে বদলে গেছে অনেক কিছু। লেস্টারের একাডেমির সেই ছোট্ট শিশুই একসময় হয়ে উঠেছেন প্রিমিয়ার লিগের ফুটবলার, এফএ কাপজয়ী তারকা এবং বাংলাদেশের জাতীয় দলের অন্যতম পরিচিত মুখ। এবার সেই দীর্ঘ সম্পর্কের অধ্যায় পেছনে ফেলে পাড়ি জমালেন শেফিল্ড ইউনাইটেডে।

চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাবটি লেস্টার থেকে এক বছরের চুক্তিতে হামজাকে দলে নিয়েছে। নিজেদের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে বাংলাদেশি মিডফিল্ডারকে দলে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে শেফিল্ড।

হামজার ফুটবলে আসার গল্পটা শুরু হয়েছিল তাঁর মায়ের হাত ধরে। পাঁচ বছর বয়সে ভীষণ চঞ্চল ছেলেকে সামলাতে ফুটবল কোচিংয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন মা রাফিয়া চৌধুরী। লাফবরো বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ফুটবল ওপেন ডেতে সেদিন প্রথমবার বল পায়ে নেন হামজা। ছেলের অতিরিক্ত শক্তি খেলাধুলায় ব্যয় করানোই ছিল মায়ের উদ্দেশ্য। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত বদলে দেয় হামজার জীবন।

এর দুই বছর পর লেস্টার সিটি একাডেমিতে ভর্তি হন হামজা। সেখানেই শুরু তাঁর দীর্ঘ ফুটবলযাত্রা।  মাথার ঝাঁকড়া অ্যাফ্রো চুল আর মধ্যমাঠের নির্ভীক ট্যাকলে দ্রুতই কোচদের নজর কাড়েন তিনি। ধীরে ধীরে বয়সভিত্তিক দল পেরিয়ে নিজেকে তৈরি করেন পেশাদার ফুটবলের জন্য। ২০১৬ সালে ধারে খেলেন বার্টন অ্যালবিয়নে। পরের বছর লেস্টারে ফিরে লিগ কাপে লিভারপুলের বিপক্ষে মূল দলে অভিষেক। এরপর ২০১৭ সালের নভেম্বরে টটেনহ্যামের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগে অভিষেক। এরপরের গল্পটা রূপকথার মতো। বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন টুর্নামেন্ট ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন টানা ছয় মৌসুম।

লেস্টারে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল সময় কেটেছে ২০২১ সালে। চেলসিকে হারিয়ে এফএ কাপ জেতা লেস্টার দলের সদস্য ছিলেন হামজা। ইউরোপা লিগ ও কনফারেন্স লিগেও খেলেছেন। মাঝে ওয়াটফোর্ডে ধারে গেলেও লেস্টারের সঙ্গে সম্পর্ক কখনও পুরোপুরি ছিন্ন হয়নি। সব মিলিয়ে ক্লাবটির মূল দলের হয়ে ১১ মৌসুমে ১৬৬ ম্যাচ খেলেছেন হামজা। চলতি মৌসুমেও লেস্টারের হয়ে তিন ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন। কয়েকবার অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরেছেন। লেস্টারের ইতিহাসে হামজা দ্বিতীয় খেলোয়াড়, যিনি দীর্ঘ সময় ক্লাবটির হয়ে খেলেছেন।

২০২৪-২৫ মৌসুমের দ্বিতীয় ভাগে ধারে শেফিল্ড ইউনাইটেডে গিয়ে নতুন করে নিজের সামর্থ্য দেখান। ১৯ ম্যাচে তাঁর পারফরম্যান্স দলটিকে চ্যাম্পিয়নশিপের প্লে-অফ ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হামজার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট ছিল ক্লাবটি। তাই এবার আর ধারে নয়, স্থায়ীভাবেই তাঁকে দলে টেনেছে শেফিল্ড। ক্লাবটির কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার হামজার সামর্থ্য নিয়ে বেশ আশাবাদী। ওয়াইল্ডারের সঙ্গে হামজার সম্পর্ক নতুন নয়। ওয়াটফোর্ডে ধারে থাকার সময় এই কোচের অধীনে খেলেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা সবাই জানি, হামজা রাইট-ব্যাক পজিশনে খেলতে পারে এবং আরও অনেক কিছু করতে পারে। এখানে তার প্রথম স্পেলের শেষ ১০ ম্যাচে, বিশেষ করে প্লে-অফের সেমিফাইনাল ও ফাইনাল মিলিয়ে, সে সম্ভবত আমাদের সেরা খেলোয়াড় ছিল।’

দীর্ঘ দুই দশকের সম্পর্ক শেষ করে নতুন ক্লাবে যাওয়াটা হামজার কাছেও বড় পরিবর্তন। শেফিল্ডে যোগ দেওয়ার পর সেই অনুভূতির কথাই জানিয়েছেন হামজা চৌধুরী। ‘লেস্টারে আমি ২০ বছর ছিলাম। তাই এটা আমার ও আমার পরিবারের জন্য বড় পরিবর্তন। তবে এই পরিবর্তনের জন্য আমি সত্যিই মুখিয়ে আছি। আশা করি, এখানে আমাদের বড় একটি মৌসুম কাটবে।’

ওয়াইল্ডারের অধীনে খেলাটাও তাঁর জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা। হামজা বলেন, ‘আমি ওয়াটফোর্ডে এবং পরে এখানে ম্যানেজারের সঙ্গে কাজ করেছি। আমরা সব সময় যোগাযোগ রেখেছি। তাঁর অধীনে খেলতে আমি সত্যিই ভালোবাসি।’

সামনে চ্যাম্পিয়নশিপে শেফিল্ডের হয়ে নিজের জায়গা আরও শক্ত করার চ্যালেঞ্জ হামজার। পাশাপাশি বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলেও তাঁর ওপর থাকবে বড় প্রত্যাশা। ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ফিফা আসিয়ান কাপে বাংলাদেশ অংশ নেবে।

আরও পড়ুন

×