ঢাকা রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গোলরক্ষক নির্বাচনে চ্যালেঞ্জ ডুলির

গোলরক্ষক নির্বাচনে চ্যালেঞ্জ ডুলির
×

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:১৪

প্রাথমিক ক্যাম্পে থাকা ৩৪ জনের মধ্যে বাদ পড়েছেন ছয় ফুটবলার। ফিফা আসিয়ান কাপের জন্য চূড়ান্ত স্কোয়াডে থাকবেন ২৩ জন। ২৮ ফুটবলারের মধ্যে বাদ পড়বেন পাঁচজন। এই পাঁচ ফুটবলারের মধ্য থেকে গোলরক্ষকের দুটি নাম কাটা পড়বে। পাঁচ গোলরক্ষকের মধ্যে কোন দুজনকে ‘না’ বলবেন কোচ থমাস ডুলি, তা নিয়ে চলছে আলোচনা। আনিসুর রহমান জিকো, মেহেদী হাসান শ্রাবণ, মিতুল মারমা ও সুজনের সঙ্গে আছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী গোলরক্ষক সাইফ কেরাওয়ালা। ফিটনেস ও পারফরম্যান্সের বিবেচনায় কারও চেয়ে কেউ কম যাচ্ছেন না। অনুশীলনে সর্বোচ্চটা দিয়ে কোচের মন জয়ের চেষ্টা। পাঁচ গোলরক্ষকের পারফরম্যান্স দেখে ঘুম হারাম বাংলাদেশ কোচ ডুলির। জাতীয় দলের চূড়ান্ত স্কোয়াড নির্বাচনে তার জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ তিন গোলরক্ষকের নাম চূড়ান্ত করা।

২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে ফিফা আসিয়ান কাপ। প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠেয় ফিফার এই প্রতিযোগিতার জন্য আটঘাট বেঁধে নেমেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। এরই মধ্যে ডুলির সহকারী হিসেবে কয়েকজনকে নিয়োগ দিয়েছে বাফুফে। গোলরক্ষক হিসেবে চুক্তি করা হয়েছে ক্রিশ্চিয়ান বারবুকাসের সঙ্গে। কয়েক দিন হলো গোলরক্ষকদের নিয়ে কাজ করছেন বারবুকাস। পাঁচ গোলরক্ষকের সবাই জাতীয় দলের চূড়ান্ত স্কোয়াডে থাকার দাবিদার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুজনকে বাদ পড়তেই হবে। তাই তো গোলরক্ষক কোচ বারবুকাসের সঙ্গে আলোচনাটা একটু বেশিই করছেন হেড কোচ ডুলি। দল নির্বাচনে কোচের সঙ্গে কাজ করছে বাফুফের টেকনিক্যাল টিমও। তারাও নজর রাখছে পাঁচ গোলরক্ষকের দিকে।

আনিসুর রহমান জিকো কয়েক বছর আগেও ছিলেন দলের প্রাণভোমরা। সাম্প্রতিক সময়ে সেই জিকোর ফর্ম আগের মতো নেই। বসুন্ধরা কিংসে মেহেদী হাসান শ্রাবণের কাছে জায়গা হারিয়েছেন। গেম টাইমিং পাওয়ার জন্য কিংস ছেড়ে যোগ দিয়েছেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে। ঠিকানা বদল করলেও জাতীয় দলে জিকোর ভাগ্য পরিবর্তন হবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ সংশ্লিষ্টদের। আর মিতুল মারমা এক বছরের বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের এক নম্বর গোলরক্ষক। আবাহনী লিমিটেডের জার্সিতে গত মৌসুমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। তবে গোলপোস্টের নিচে মিতুল সেই অর্থে ছন্দে নেই। কয়েকটি ম্যাচে দেখা গেছে তাঁর নড়বড়ে পারফরম্যান্স। এ দুজনের চেয়ে সবচেয়ে ভালো ফর্মে আছেন মেহেদী হাসান শ্রাবণ। একে তাঁর উচ্চতা, দুইয়ে পারফরম্যান্স। নানা সমালোচনার পরও শ্রাবণ দেখিয়েছেন নিজের সেরাটা। তবে পাসিং দেওয়ার ক্ষেত্রে মাঝেমধ্যে ভুল করে বসেন শ্রাবণ। এই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন। সাইফ আর সুজনের মধ্যে বিচার করলে এগিয়ে সাইফ। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এই গোলরক্ষক ট্রায়ালে অন্য সবার চেয়ে সেরা পারফরম্যান্স করেছেন। ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার কারণে তিনি এগিয়ে আছেন। সিটি ক্লাবের বিপক্ষে ম্যাচে সাইফ লাফিয়ে উঠে একটা দুর্দান্ত সেভ করেছিলেন। তবে থমাস ডুলির দলটা ফর্টিস এফসির কাছে পরাজয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সুজন গত মৌসুমে মোহামেডানের হয়ে প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তি মেলাতে পারেননি, যে কারণে সুজনের বাদ পড়ার আশঙ্কা আছে। একই সঙ্গে কম ম্যাচ খেলায় জিকোরও সেরা তিনজনে থাকাটা কঠিন বলা চলে। সে ক্ষেত্রে ফিফা আসিয়ান কাপে মিতুল, শ্রাবণ ও সাইফকে নিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় যাবেন কোচ ডুলি।

আরও পড়ুন

×