ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বেসবলের মাঠে শুরু ক্রিকেট

বেসবলের মাঠে শুরু ক্রিকেট
×

ছবি: সমকাল

সাখাওয়াত হোসেন জয়, নাগোয়া, জাপান থেকে

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:০৯

করোগি স্পোর্টস পার্কে একসময় বেসবলের মিলনমেলা বসত। জাপানের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা বেসবলের কয়েকটি ভেন্যু ছিল আইচির রাজধানী নাগোয়ার এই পার্কে। ক্রিকেটকে প্রসারিত করার জন্য জাপান সরকার তিনটি বেসবল মাঠ ভেঙে করোগিতে নির্মিত করে ক্রিকেট স্টেডিয়াম। সবুজের সমারোহে ঘেরা এই ভেন্যুতেই হতে যাচ্ছে ক্রিকেটের বাইশ গজের লড়াই। টি২০ ফরম্যাটের যে লড়াইটি এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের। এই ভেন্যুতেই পদকের লড়াইয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আজ চীনের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। 

বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে নেই স্বস্তির সুবাতাস। সর্বশেষ এশিয়া কাপ ক্রিকেটের বাজে পারফরম্যান্সের সঙ্গে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির আচরণে সমালোচিত পুরো দল। সেমিফাইনালে ভারত অধিনায়ক হারমান প্রীতের সঙ্গে টসের সময় হাত না মেলানো ছাড়া জ্যোতির ব্যাটিং নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। চারদিক থেকে সমালোচনা হওয়ায় এশিয়ান গেমসের পর টি২০-এর নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ব্যক্তি জ্যোতির মতো নারী দলের পারফরম্যান্সও যাচ্ছেতাই। সর্বশেষ খেলা ২০ ওভারের চারটি ম্যাচের মধ্যে দুটিতে জিতেছে তারা। 

একটি ইন্দোনেশিয়া, অন্যটি দুর্বল সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে। এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার মতো সমশক্তি দলের কাছে পরাজয় এবং ভারত-চ্যালেঞ্জ জিততে না পারা মেয়েরা আছে কোণঠাসা অবস্থায়। ব্যর্থতার এই বৃত্ত থেকে বের হতে প্রয়োজন একটি জয়। সেই জয়টি বাংলাদেশ পেতে চাইছে চীনের বিপক্ষে। দলটির বিপক্ষে অতীতে কখনও না খেললেও বাংলাদেশ যে ফেভারিট, তা অনুমেয়ই। কাগজে-কলমে এবং শক্তির বিচারে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে। 

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ পদকের স্বপ্ন দেখছে এই ক্রিকেট থেকেই। সর্বশেষ চীনের হ্যাংঝুতে অনুষ্ঠিত গেমসে নারী ক্রিকেট দলের হাত ধরে এসেছিল ব্রোঞ্জ পদক। এবার স্বপ্নটা আরও বড়। ফাইনালের মঞ্চে পা রাখতে চান মেয়েরা। চীন ম্যাচের প্রস্তুতিটা গতকাল ভালোভাবে নিতে পারেনি বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। কয়েক দিন ধরেই নাগোয়াতে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে বুধবার পুরো সময় অনুশীলন করতে না পারলেও চীনের বিপক্ষে জয় পেতে আত্মবিশ্বাসী পুরো দল। শুধু একটি জয়ই নয়; পদকের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ‘আমার সোনার বাংলা’ জাতীয় সংগীত গাওয়ার স্বপ্ন ব্যাটার সুবহানা মুস্তারির, ‘জাপানে আজকে (বুধবার) আমরা এশিয়ান গেমস সামনে রেখে অনুশীলন করেছি। কালকে আমাদের চায়নার সঙ্গে ম্যাচ। আমরা প্রথম ম্যাচে নামব। আশা করি, এবারও আমরা একটা পদক নিয়ে দেশে ফিরতে পারব। এর আগে (হ্যাংঝুতে) আমরা একটা পদক পেয়েছিলাম। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

এশিয়ান গেমসে কিংবা অলিম্পিকের মতো মাল্টিস্পোর্টসের অংশ যেসব খেলা, চীন সেসব খেলাতেই বিনিয়োগ করতে পছন্দ করে। ২০১০ ও ২০১৪ এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর মেয়েদের ক্রিকেটের দিকে মনোযোগ দেয় চীন সরকার। ক্রিকেটের প্রসারের জন্য ২০০৭ সালে চীন ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন ১০ বছরের বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেয়। সেই ফলও পাচ্ছে দেশটি। পুরুষ দলের চেয়ে চীনের নারী ক্রিকেট দলের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেক দ্রুত অগ্রগতি হয়েছে। দেশটিতে ক্রিকেট ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মূল কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। যেভাবে ক্রিকেটে উথান ঘটেছে দেশটির, তাতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ভালো করলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। অবশ্য বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা এই চীনকে নিয়ে খুব একটা ভীত নন। বড় কোনো অঘটন না ঘটলে জ্যোতিদের সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাই বেশি। আর বৃষ্টির কারণে ম্যাচ না হলে আম্পায়ার শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন যেন ম্যাচটা অন্তত সুপার ওভারেও হয়। সেটি সম্ভব না হলে র‍্যাঙ্কিং বিবেচনায় যে দলটি এগিয়ে থাকবে, তারা যাবে শেষ চারে। সেই হিসেবে ৩৬তম স্থানে থাকা চীনকে টপকে ১০ নম্বরে থাকা বাংলাদেশ উঠবে এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের সেমিফাইনালে।

আরও পড়ুন

×