ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এশিয়ান গেমসের জমকালো উদ্বোধন আজ

এশিয়ান গেমসের জমকালো উদ্বোধন আজ
×

ছবি- এএফপি

সাখাওয়াত হোসেন জয়, নাগোয়া, জাপান থেকে

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:১৯

অনিন্দ্যসুন্দর নাগোয়া শহর যেন সবুজ অরণ্য। রাস্তার দুপাশে সবুজে ঘেরা। পিচঢালা পথে হাঁটতে গেলে চোখ জুড়িয়ে যাবে আইচির রাজধানীর সৌন্দর্যে। শিল্পের জন্য বিখ্যাত এই নগরী কিছুদিন ধরে বুদ হয়ে আছে এশিয়ান গেমসকে ঘিরে। ঘড়ির কাঁটা ঘুরে এখন এশিয়ায় সববৃহৎ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক পর্দা ওঠার অপেক্ষা। ৪৫ দেশের ১১ হাজার ক্রীড়াবিদের মিলনমেলায় স্থানীয় সময় আজ সন্ধ্যা ৬টায় নাগোয়ার ঐতিহ্যবাহী মিজুহো পার্ক অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে জমকালো আয়োজনে উদ্বোধন হবে এশিয়ান গেমসের বিশতম আসরের। ৩০ হাজার ধারণক্ষমতা এই স্টেডিয়ামকে গেমসের জন্য নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে।

দুই ঘণ্টা ব্যাপ্তির এই অনুষ্ঠানে ফুটিয়ে তোলা হবে জাপানের ইতিহাস আর ঐতিহ্য। জাপানের সম্রাট নারুহিতো এবং সম্রাজ্ঞী মাসাকোসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তির এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। উদ্বোধনীর মার্চ পাস্টে বাংলাদেশের পতাকা বহন করবেন শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকি এবং কারাতেকা হুমায়রা আক্তার অন্তরা। জাপানের ঐতিহ্যবাহী পারফরম্যান্স এবং সংস্কৃতির মিশ্রণে একটি বর্ণিল প্রদর্শনীর মাধ্যমে স্বাগত জানানো হবে অতিথিদের। সবশেষে আসরের অফিসিয়াল মশাল প্রজ্বালনের মাধ্যমে গেমসের উদ্বোধন ঘোষণা করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে বরাবরই গোপনীয়তা রক্ষা করে আয়োজকরা। বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিতে এমন পরিকল্পনা। হ্যাংঝু এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনীতে যেমন প্রযুক্তির ছোঁয়া ছিল, নাগোয়াতেও সেটি থাকতে পারে বলে মিলেছে আভাস। জাপানি ঐতিহ্য, বিশেষ করে আইচি অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী সুদীর্ঘ ইতিহাস এবং সংস্কৃতিকে ফুটিয়ে তুলতে ড্রাম পারফরম্যান্স এবং স্থানীয় সংস্কৃতির নানা প্রদর্শনী থাকছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল ধারণা বা থিম হলো ‘হারমোনিক হার্ট বিট’; যা দিয়ে এশিয়ার অ্যাথলেটদের এক হৃদয়ে স্পন্দিত হওয়ার ঐক্যকে ফুটিয়ে তোলা হবে। 

অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান হাইলাইট হলো জাপানের অতীত গেমসের ইতিহাসবিজড়িত তিনটি স্থান। ১৯৫৮ সালের টোকিও, ১৯৯৪ সালের হিরোশিমা এশিয়ান গেমস, ২০২০ সালে টোকিও অলিম্পিক এবং বর্তমানের আইচি-নাগোয়া থেকে সংগৃহীত পবিত্র শিখা একত্রে মিলিত করে মূল স্টেডিয়ামে শিখা প্রজ্বালন করা হবে। এবারের এশিয়ান গেমসে জাপানের সংস্কৃতির ছোঁয়া দিতে পদকের কেসগুলো তৈরি করা হয়েছে আইচি প্রিফেকচারের ঐতিহ্যবাহী চা-চক্র সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে স্থানীয় ‘হিনোকি’ কাঠ দিয়ে। ঐতিহাসিক আয়োজনের প্রধান নির্দেশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নাগোয়ায় জন্ম নেওয়া খ্যাতিমান চলচ্চিত্র পরিচালক সুকিহিকো সুতসুমি।

উদ্বোধনীর রং লাগার আগেই পদকের লড়াই শুরু হয়েছে। যে লড়াইয়ে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট, নারী ফুটবল এবং পুরুষ হকি দল নেমেছে। আইচির এশিয়ান গেমসে ৪৩টি ডিসিপ্লিনের ৪৬৯ ইভেন্টে ১ হাজার ৪০৭টি পদকের লড়াইয়ে অংশ নেবেন অ্যাথলেটরা। স্বপ্ন ও বাস্তবতার সংমিশ্রণে লাল-সবুজের দলটি অংশ নেবে ২২টি ডিসিপ্লিনে। ক্রিকেট আর ফুটবল দিয়ে স্বপ্নের পথচলা শুরু হয়েছে। মেয়েদের ক্রিকেটে সেমিফাইনালে উঠলেও নারী ফুটবলে হয়েছে বিপর্যস্ত। দুই কোরিয়ার কাছে ১৬ গোল হজম করা ঋতুপর্ণা চাকমা-মনিকা চাকমাদের পরের রাউন্ডে ওঠার আশা প্রায় ফিকে। ২০১০ গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশকে স্বর্ণ এনে দেওয়া ক্রিকেটকে ঘিরে এবার পদকের আশা। এরসঙ্গে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন শুটার, আরচাররাও।

আরও পড়ুন

×