মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে খাবারে রাখুন যেসব পুষ্টি
ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪:২০
শরীরের সুস্থতার জন্য আমরা হৃৎপিণ্ড, চোখ কিংবা ত্বকের যত্নে কী খাবার খাওয়া উচিত, তা নিয়ে প্রায়ই আলোচনা করি। কিন্তু শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ মস্তিষ্কের প্রয়োজনীয় পুষ্টির বিষয়টি অনেক সময়ই উপেক্ষিত থাকে। মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে প্রয়োজন বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান।
পুষ্টিবিদ অঞ্জলি মুখার্জি সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজনীয় কয়েকটি পুষ্টি উপাদান এবং সেগুলোর খাবার উৎসের কথা জানিয়েছেন। প্রতিদিন একই ধরনের খাবারের ওপর নির্ভর না করে খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনা উচিত। আপনার মস্তিষ্ক দিনের প্রতিটি মুহূর্তে কাজ করে চলেছে। অথচ মনোযোগ বা শক্তি কমে গেলেই কেবল আমরা এর যত্ন নেওয়ার কথা ভাবি। শুরু করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো খাদ্যে বৈচিত্র্য আনা।
ওমেগা-৩ ফ্যাট
মস্তিষ্কের কোষের গঠন ও কোষগুলোর মধ্যে যোগাযোগে ওমেগা-৩ ফ্যাট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চর্বিযুক্ত মাছ, তিসি, চিয়া সিড ও আখরোট ওমেগা-৩ ফ্যাটের অন্যতম উৎস।
কোলিন
কোলিন অ্যাসিটাইলকোলিন তৈরিতে সহায়তা করে, যা স্মৃতিশক্তি ও স্নায়বিক যোগাযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। ডিম, সয়াবিন, টফু, দুধ ও চিনাবাদাম থেকে কোলিন পাওয়া যায়।
বি ভিটামিন
বি ভিটামিন শরীরে শক্তি উৎপাদন, নিউরোট্রান্সমিটারের কার্যকারিতা ও স্নায়ুর সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। ডাল, শাকসবজি, পূর্ণশস্য, ডিম, দুগ্ধজাত খাবার ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার বি ভিটামিনের ভালো উৎস।
আয়রন
মস্তিষ্কে অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়া এবং স্নায়বিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে আয়রন প্রয়োজন। ডাল, শিম বা বিনস, তিল, শাকসবজি ও মাংস থেকে আয়রন পাওয়া যায়।
ম্যাগনেসিয়াম
স্নায়ুর স্বাভাবিক সংকেত আদান-প্রদান এবং মস্তিষ্কের কোষগুলোর মধ্যে যোগাযোগে ম্যাগনেসিয়াম সহায়তা করে। বাদাম, বিভিন্ন ধরনের বীজ, ডাল, পূর্ণশস্য ও শাকসবজি ম্যাগনেসিয়ামের উৎস।
জিঙ্ক
মস্তিষ্কের কোষের সংকেত আদান-প্রদান এবং স্বাভাবিক স্নায়বিক কার্যকারিতায় জিঙ্ক ভূমিকা রাখে। কুমড়োর বীজ, তিল, শিম বা বিনস, দুগ্ধজাত খাবার, ডিম ও সামুদ্রিক খাবার থেকে জিঙ্ক পাওয়া যায়।
অঞ্জলি মুখার্জির পরামর্শ, প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি, ডাল, বাদাম, বীজজাতীয় খাবার, পূর্ণশস্য ও বিভিন্ন প্রোটিনের উৎসের মধ্যে বৈচিত্র্য রাখা। বিভিন্ন খাবার থেকে ভিন্ন ভিন্ন পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। তাই কোনো একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এসব খাবার রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভর করার আগে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে কি না, সেদিকেও নজর দেওয়া।
সূত্র: এনডিটিভি
- বিষয় :
- মস্তিষ্ক
- পুষ্টি
- বিশেষজ্ঞ মত