ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

মরুতে পুরোনো হিসাব মেটানোর সিরিজ

মরুতে পুরোনো হিসাব মেটানোর সিরিজ
×
×

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:৩৪ | আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:৫৫

বাংলাদেশের ক্রিকেটে বহুদলীয় টুর্নামেন্ট জয়ের খুব বেশি স্মৃতি নেই। বড় প্রাপ্তি বলতে ২০১৯ সালে আয়ারল্যান্ডে খেলা ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ জয়। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতরা এখনও সেই স্মৃতি রোমন্থন করেন। সাত বছর পর আরেকটি ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলতে নামার আগে স্মৃতির অ্যালবাম খুলে হয়তো প্রেরণা খুঁজছেন তারা। আরব আমিরাতে আজ থেকে অনুষ্ঠেয় সিরিজ মাঠে গড়ানোর আগে একবার পেছনে চোখ বুলিয়ে নিলেন মোসাদ্দেকরা। তিনি ত্রিদেশীয় সিরিজ জয়ের স্বপ্নও দেখান বিসিবির এক ভিডিও বার্তায়। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে কী করতে হবে, সে বিষয়টি সতীর্থদের মনে করিয়ে দেন। ফাইনাল খেলতে হলে লিগ পর্বে জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানকে হারাতে হবে বাংলাদেশকে। আজ শনিবার বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্টের পর্দা উঠবে। টাইগারদের জন্য ম্যাচটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আবুধাবির শেখ আবু জায়েদ স্টেডিয়ামে খেলা হওয়ায় জয়ের প্রত্যাশা বেশি। জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে ভালো শুরুর কথা বলছেন ক্রিকেটাররা। কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে সর্বোচ্চ খেলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক। টাইগারদের প্রতিশোধের ম্যাচও এটি। 

আবুধাবিতে উদ্বোধন ম্যাচ হওয়ায় লিটন দাসদের কিছুটা সুবিধা পাওয়ার কথা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ খেলে কন্ডিশনে মানিয়ে নিয়েছেন তারা। লিটনও ছন্দে আছেন। হাফ সেঞ্চুরি, সেঞ্চুরি ও স্ট্যাম্পিংয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়ে হয়েছেন ম্যাচসেরা। এক দিনের ক্রিকেটেও ভালো কিছু আশা করা হচ্ছে তাঁর কাছে। এই ত্রিদেশীয় সিরিজে লিটনের দায়বদ্ধতাও বেশি। পূর্ণকালীন ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক করতে যাচ্ছেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই উইকেটরক্ষক এই ব্যাটারের চাওয়া থাকবে ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতে দেশে ফেরা। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের দল গঠনের প্রক্রিয়াও শুরু হবে এই টুর্নামেন্ট দিয়ে। তাই তো বৃহস্পতিবার বিসিবির ভিডিও বার্তায় মোসাদ্দেক বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই লক্ষ্য থাকবে চ্যাম্পিয়ন হওয়া। এর আগে আমাদের দুটি ম্যাচ আছে, ওই ম্যাচ দুটি জিততে হবে। আমাদের প্রথম প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। অবশ্যই চেষ্টা করব সর্বোচ্চ ভালো খেলে ম্যাচটি জিততে। যারা টেস্ট খেলেছে, তারা ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছে। আমরাও প্রস্তুতি নিয়েছি।’

২০০৫ সাল থেকে জিম্বাবুয়ে নড়বড়ে দলে পরিণত হয়েছিল। দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ভালো ক্রিকেট খেলছিল না তারা। সম্প্রতি বেশ উন্নতি হয়েছে দলটির। দেশের মাটিতে ভালো ক্রিকেট খেলছে। বাংলাদেশ সিলেটে টেস্ট হারিয়েছে ২০২৫-এ। গত জুলাইয়ে হারারে ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। চোটের কারণে ওই সিরিজ খেলা হয়নি লিটনের। বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান চোট নিয়ে দেশে ফিরেছিলেন। নাহিদ রানা ছাড়া পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই এবার খেলবে বাংলাদেশ। শক্তিশালী পেস ইউনিটের সঙ্গে বাঁহাতি, ডানহাতি ও লেগ স্পিনার আছে দলে। সুস্থ থাকলে তিন পেসার ও দুই স্পিনার দিয়ে একাদশ সাজাতে পারেন কোচ ফিল সিমন্স। তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল খেলতে পারেন। আর একজন বাঁহাতি নিয়ে খেললে সুযোগ পাবেন হাসান মাহমুদ। টেস্টে দারুণ বোলিং করেছেন তিনি। হ্যাটট্রিকসহ পাঁচ উইকেট নিয়েছেন ইনিংসে। এশিয়ান গেমসে ব্যর্থ হয়ে আমিরাতে যাওয়া শরিফুলরা উন্মুখ হয়ে আছেন ভালো কিছু করে দেখাতে। ব্যাটিং বিভাগও ভালো করবে বলে আশা টিম ম্যানেজমেন্টের। ভালো করছেন ওপেনার তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন, সৌম্য সরকার, তাওহীদ হৃদয়, মোসাদ্দেকরা। মেহেদী মিরাজও টেস্টে রান পেয়েছেন। সেদিক থেকে দেখলে ওয়ানডে দলটা মোটামুটি শক্তিশালী। দেশের মাটিতে স্পোর্টিং কন্ডিশনে পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে এ বছর। তাই লিটনের নেতৃত্বে ত্রিদেশীয় সিরিজ জয়ের আশা করতেই পারেন সমর্থকরা। এই টুর্নামেন্টের আরেকটি দল হলো আফগানিস্তান। টেস্টে ভালো ক্রিকেট খেলেছে তারা। সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চেষ্টা করবে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে। তবে সবকিছু বিবেচনায় নিলে এই টুর্নামেন্টের ফেভারিট বাংলাদেশ। বাস্তবতা হলো এক দিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের থেকেও ভালো দল আফগানিস্তান। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে দারুণ ক্রিকেট খেলেছে তারা। গত বছর আবুধাবিতে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে মেহেদী মিরাজদের হোয়াইটওয়াশ করেছেন রশিদ খানরা। তাই শেষ পরিসংখ্যান বিবেচনায় নিলে বাংলাদেশের থেকে এগিয়ে জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তান।

আরও পড়ুন

×