গেইলের সম্মতিপত্র আছে বিসিবির কাছে
ছবি: ফাইল
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০১৯ | ০১:২৯
ড্রাফট থেকে বিদেশি খেলোয়াড় ডাকার প্রথম সুযোগটি পেয়েছিল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। প্রথম ডাকেই ক্রিস গেইলকে দলে ভিড়িয়ে নিয়েছিল দলটি। লটারির মাধ্যমে প্রথম ডাকের সুযোগ পাওয়াকে সেদিন সৌভাগ্যের মনে হলেও চ্যালেঞ্জার্সের জন্য এখন তা দুর্ভাগ্যের কারণ। গেইল জানিয়ে দিয়েছেন, এ বছর তিনি আর মাঠে নামবেন না।
আর বিপিএল ড্রাফটে কীভাবে তার নাম গেল, সেটিও তিনি জানেন না। গেইলকে না পাওয়ায় এখন বিকল্প নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। সেদিন ড্রাফটে তার নাম না থাকলে নাগালে থাকা অন্য ভালো বিদেশিদের নিতে পারার আক্ষেপে পুড়ছে দলটি। তবে বিসিবি এখনও গেইলকে পাওয়ার আশা ছাড়ছে না। তাদের দাবি, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই গেইলের নাম ড্রাফটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। সব মিলিয়ে গেইল ইস্যুতে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে এবারের বঙ্গবন্ধু বিপিএলে।
ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ম বাতিল করে এবারের বিশেষ বঙ্গবন্ধু বিপিএল হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সরাসরি তত্ত্বাবধানে। সব দলের মালিকানা ও পরিচালনা বিসিবির। সাতটি দলের সঙ্গে একজন করে বোর্ড পরিচালককে যুক্ত করার অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সে আছেন জালাল ইউনুস। মঙ্গলবার দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া টি২০-তে নিজের শেষ ম্যাচ খেলে গেইল 'এ বছরের খেলায় ইতি' টানতে গিয়ে 'বিপিএলে কীভাবে নাম গেল, জানি না' বলে যে মন্তব্য করেছেন, তাতে চট্টগ্রাম বড় ধাক্কা খেয়েছে বলে জানান জালাল, 'ড্রাফটে নাম ছিল বলেই আমরা গেইলকে নিয়েছি। তাকে ঘিরেই দলের পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। নয়তো সেদিন থিসারা পেরেরা বা অন্য কাউকে নিয়ে নিতাম।'
বিপিএল ড্রাফটে তাদেরই নাম থাকে, যারা খেলতে লিখিত সম্মতি দিয়ে থাকেন। বিসিবির একজন পরিচালক জানান, গেইলের স্বাক্ষর সংবলিত সম্মতিপত্রই তার এজেন্ট জমা দিয়েছিলেন। এখন এজেন্টই বলতে পারবেন গেইল বিষয়টি জানতেন কি-না? হতে পারে ওই এজেন্টের সঙ্গে গেইলের কোনো সমস্যা হয়েছে অথবা ভায়া এজেন্টের মাধ্যমে ব্যাপারটি ঘটেছে।
জানা গেছে, বিপিএলের সর্বশেষ চার আসরে বিদেশি খেলোয়াড়দের ড্রাফটে অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতের কাজটি করত ইমেগো স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। এবার দল পরিচালনার মতো বিদেশিদের নাম নিবন্ধনের কাজটিও বিসিবিই করে। বোর্ডের একটি সূত্রের ধারণা, পুরোনো এজেন্টের শরণাপন্ন অথবা ভায়া এজেন্ট (এজেন্ট টু এজেন্ট টু প্লেয়ার) প্রক্রিয়ার কারণে গেইলকেন্দ্রিক এই বিব্রতকর অবস্থাটি তৈরি হয়ে থাকতে পারে। বিশেষ করে আর্থিক কারণ থাকার সম্ভাবনা বেশি।
কারণ, ড্রাফটে গেইলের নাম ছিল এক লাখ ডলার ক্যাটাগরিতে। আগের আসরগুলোয় ড্রাফটের বাইরে থেকে এর চেয়ে দ্বিগুণ অর্থে ফ্র্যাঞ্চাইজিভুক্ত হয়েছিলেন তিনি। এবারও ড্রাফটের বাইরে থেকে বেশি অর্থে রাজশাহী রয়্যালসে যুক্ত হয়েছেন গেইলের স্বদেশি আন্দ্রে রাসেল ও পাকিস্তানের শোয়েব মালিকরা। ড্রাফটে না থাকলে দরকষাকষির মাধ্যমে নির্ধারিত অর্থের চেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়ার সুযোগ থাকত তারও।
এমন একটি সম্ভাবনার ইঙ্গিত আছে বিসিবির সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরীর কথায়ও, 'আমরা অবগত নই যে, কীভাবে বা কোন পরিস্থিতিতে কথাটি এসেছে। সংশ্নিষ্ট ক্রিকেটারের এজেন্টের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হচ্ছে। যে দলে তার খেলার কথা ছিল, তাদের সঙ্গেও এজেন্টের যোগাযোগ হচ্ছে। আশা করছি খুব শিগগির একটি সমাধান হবে। প্রক্রিয়া মেনেই তাকে ড্রাফটে রাখা হয়েছিল। হয়তো আর্থিক কোনো ব্যাপার ছিল। সে বিষয়গুলো নিয়ে তারা কাজ করছেন। সমাধান হলেই বোঝা যাবে।'
চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স অবশ্য গেইলকে পাওয়া যাবে না ধরে নিয়েই এগোচ্ছে। চেষ্টা করা হচ্ছে ভারতের যুবরাজ সিং অথবা অন্য কোনো হিটার ব্যাটসম্যান আনা যায় কি-না। ১১ ডিসেম্বর বিপিএলের উদ্বোধনী দিনেই সিলেটের মুখোমুখি হবে চট্টগ্রাম।