ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ-নেপাল ফাইনাল আজ

জয়ের পতাকা উড়বে কি হিমালয়ের দেশে

জয়ের পতাকা উড়বে কি হিমালয়ের দেশে
×

ফাইনালের আগে রোববার কাঠমান্ডুতে ত্রিদেশীয় ফুটবল আসরের ট্রফি হাতে নেপাল অধিনায়ক কিরণ কুমার ও বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া- বাফুফে

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২১ | ১২:০০ | আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২১ | ১৩:৪২

বাইশ বছর আগে এই কাঠমান্ডুতে এসএ গেমস ফুটবলে সোনালি হাসি হেসেছিল বাংলাদেশ দল। সেই সময় লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জড়িয়েছিলেন ইকবাল হোসেন। ১৯৯৯ সালে গেমসের ফুটবলে প্রথম সোনাজয়ী দলের সদস্য ইকবাল এবার জাতীয় দলের ম্যানেজার। এবার আরেকটি শিরোপা জয়ের সাক্ষী হওয়ার অপেক্ষায় সাবেক এই ফুটবলার। খেলোয়াড়ের পর ম্যানেজার হিসেবে ট্রফি নিয়ে উচ্ছ্বাস করা থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে ইকবাল। জাতীয় দলের সাবেক এই ফুটবলারের কাছে আজ বাংলাদেশ-নেপাল ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচটি বিশেষ কিছু। তার মতো জামাল ভূঁইয়া-সোহেল রানারাও বেশ উৎফুল্ল। ২০১০ সালের পর এই প্রথম ফুটবলে বড় কোনো ট্রফি জয়ের হাতছানি বাংলাদেশের সামনে। মঞ্চটা চিরচেনা, প্রতিপক্ষও চেনা। গত নভেম্বরে ঢাকায় প্রীতি ফুটবল সিরিজে এই নেপালকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার সেই নেপালে ফুটবলে ভুলে যাওয়া ট্রফির স্বাদ নেওয়ার সঠিক সময়। জয়ের পতাকা কি আজ উড়বে হিমালয়ের দেশে? রঙ্গশালার দশরথ স্টেডিয়ামে আজ সন্ধ্যা পৌনে ৬টা শুরু হতে যাওয়া ফাইনাল ম্যাচে ফেভারিট বাংলাদেশই।

আজকের শিরোপা লড়াইকে অনেকেই '৯৯-এর সাউথ এশিয়ান গেমসের সঙ্গে তুলনা করেছেন। সেই সময়ও প্রতিপক্ষ ছিল নেপাল, এবারও হিমালয়ের দেশটিকে হারিয়ে এগারো বছর পর কোনো টুর্নামেন্টের শিরোপা জিততে চান মোহাম্মদ সাদ উদ্দিন-বিপলু আহমেদরা। ফাইনালের আগের দিন গতকাল শিষ্যদের মাঠের অনুশীলন করাননি জেমি ডে, শুধু রিকভারি করিয়েছেন।

সর্বশেষ ২০১৫ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের ফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ। আর বিদেশের মাটিতে ফাইনাল খেলার সময়কাল আরও বেশি; ১৬ বছর। ২০০৫ সালে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েছিল লাল-সবুজের দলটি। দীর্ঘদিনের ট্রফিখরা ঘোচানোর সুযোগ জেমি ডের দলের সামনে। অবশ্য নেপাল টুর্নামেন্ট শুরুর আগ থেকেই এটাকে দল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিযোগিতা হিসেবে মনে করে আসছেন বাংলাদেশ কোচ। তবে এখন শিরোপা মঞ্চে ওঠায় কিছুটা হলেও সুর বদলেছেন ব্রিটিশ এ কোচ, 'আমি বলব না যে, ট্রফি জিততে চাই না। ফাইনালে উঠলে যে কোনো কোচের চাওয়া থাকে শিরোপা জেতা। সেটা আমারও আছে। তবে আমি আবারও বলছি, নেপালে ট্রফি জয়টাই মুখ্য নয়।' কোচ ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে দল নিয়ে পরীক্ষার কথা বললেও অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া শিরোপা জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না, 'স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করেছে দেশবাসী। সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। এই ট্রফিটা আমরা জিততে চাই।'

ট্রফি জিততে হলে প্রয়োজন গোল। যেটা এখনও করতে পারেনি বাংলাদেশ দল। প্রথম ম্যাচে কিরগিজস্তান অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতলেও সেটা ছিল প্রতিপক্ষের উপহার। শনিবার নেপালের বিপক্ষে ম্যাচেও জালের দেখা পাননি বাংলাদেশের স্ট্রাইকাররা। আবার ফাইনালে ওঠা নেপালও দুই ম্যাচে কোনো গোল করতে পারেনি। তাই বলে শিরোপা লড়াইয়ে চাপটা কিন্তু বাংলাদেশের ওপরই বেশি। কারণ শুধু প্রতিপক্ষ নেপাল নয়, কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে জামালদের বিপক্ষে থাকবে গ্যালারিও। পুরো স্টেডিয়াম জ্যামপ্যাক হবে বলেই ধারণা করছে সবাই। তাতে কী! ১৯৯৯ সালে ভরা গ্যালারির সামনে এসএ গেমস ফুটবলে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। সে ম্যাচটিই যে আজ বড় প্রেরণা লাল-সবুজের দলটির জন্য।

আরও পড়ুন

×