ঢাকা শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

অ্যাথলেটরা কেন এমন গতিহারা

অ্যাথলেটরা কেন এমন গতিহারা
×

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কাঠমান্ডু থেকে

প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১৩:২৬

১০০ মিটার স্প্রিন্টে মালদ্বীপের হাসান সাইদ জিতেছিলেন স্বর্ণ। সাউথ এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে এই সোনার পদকটি শুধু তারই প্রথম নয়, দ্বীপরাষ্ট্রেরও। দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের রাজা হওয়া হাসান অনুশীলন করেছিলেন জ্যামাইকায়। সেখানে বিশ্বমানের কোচের কাছ থেকে শিখেছেন অনেক কিছুই। যার ফল পেয়েছেন গেমসে। বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা সেই সুযোগ পাচ্ছেন না। প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও মোহাম্মদ ইসমাইল-জহির রায়হানরা ট্র্যাকে গতির ঝড় তুলতে ব্যর্থ। নেপালে এসএ গেমসে মাহফুজুর রহমান শুভর রৌপ্য জয় এখন পর্যন্ত অ্যাথলেটিক্সে বাংলাদেশের বড় অর্জন। অথচ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরে অতীতে স্বর্ণ জয়ের রেকর্ডও আছে। গত এসএ গেমসে যে ৪ গুণিতক ১০০ মিটার রিলেতে থেকে ব্রোঞ্জ এসেছিল। সেই ইভেন্টে এবার নারী ও ছেলেরা হয়েছে চতুর্থ। উন্নতির পরিবর্তে অবনতি। কেন এমনটা হচ্ছে? বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল রকিব মন্টুর কাছে মূল সমস্যা হলো টেকনিক, '১০০ মিটার স্প্রিন্টে দৌড়ের সময় বাংলাদেশের স্প্রিন্টাররা প্রথম ৫০ মিটার খুব ভালোমতোই দৌড়ান; কিন্তু এর পরই তারা গতি হারিয়ে ফেলেন, বাকি দূরত্ব আর কভার করতে পারেন না। আমি মনে করি, এটা পুরোটাই একটি টেকনিক্যাল প্রবলেম। কোথাও কোনো ডিফেক্ট আছে, যেটা আমাদের ওভারকাম করা উচিত।'

টেকনিকের সঙ্গে আরও দুটি সমস্যা চোখে পড়েছে মন্টুর, 'দুটি প্রধান সমস্যা। একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের অভাব, আরেকটি কোচিং থিওরি পরিবর্তন না করা। বিগত চারটি সাফে একই কোচিং মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে। প্রত্যাশিত ফল আসেনি। এবারও তাই।' এর জন্য বিদেশি কোচের প্রয়োজন বলে মনে করেন মন্টু, 'অ্যাথলেটরা নিজেরাও স্বীকার করেছেন, শেষের ৫০ মিটার তারা আর ফুল এফোর্ট দিতে পারছেন না। এটা তো রিকভারি করার দায়িত্ব কোচের। আর এই সমস্যার সমাধানের দায়িত্ব বর্তায় ফেডারেশনের ওপরই। কিন্তু কেন আমরা সেটা পারিনি, সেটার উত্তর একটাই- আর্থিক দৈন্য দশা! রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পূর্ণাঙ্গভাবে পেলে এই অবস্থার উত্তরণ হবে।'

নেপালে আবহাওয়ার সমস্যার কারণে পারফরম্যান্স ভালো হয় না, এই কথার সঙ্গে একমত নন মন্টু। তার মতে, ব্যর্থতার আসল কারণ হচ্ছে টেকনিক, 'দক্ষ ও বিদেশি কোচ নিয়োগ দেওয়া। অথবা আমাদের কোচ বিদেশে পাঠিয়ে তাকে প্রশিক্ষিত করে তোলা। একজন বিদেশি কোচ এর আগে আমরা নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার গডউইন ওডিনুকেইজ। কিন্তু পারিনি। কেননা সেই কোচ আমাদের সঙ্গে এক বছরের চুক্তি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এক বছর রাখার মতো পর্যাপ্ত অর্থ আমাদের ছিল না। এই এসএ গেমসের পর বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন আমাদের আর অর্থ দিয়ে সাহায্য করবে না। ফলে বেশি টাকা দিয়ে একজন বিদেশি কোচকে দীর্ঘ এক বছর বেতন দেওয়াটা হচ্ছে ফেডারেশনের কাছে হাতি পালার মতোই! একটি ফেডারেশনের পক্ষে তো আর এটা সম্ভব নয়।'

এসএ গেমস খেলতে এসে বিভিন্ন দেশের অ্যাথলেটদের সম্পর্কে ধারণা হয়েছে ইসমাইলের। ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ব্রোঞ্জের খুব কাছে গিয়েও জিততে না পারার দুঃখ তার। কেন হয়নি, সেটা নিজেও খুঁজে পাচ্ছেন না এ অ্যাথলেট, 'আমরা আসলে অন্য দেশের অ্যাথলেটদের সঙ্গে তুলনায় খারাপ নই। তার পরও আমরা কেন ব্যর্থ হচ্ছি, এ নিয়ে আমার মনে হয় ম্যানেজমেন্ট বা অন্য কোথাও আমাদের কোনো সমস্যা আছে। এই সমস্যাটা আমরা যদি বের করতে পারি, তাহলে নিশ্চয়ই আমাদের পারফরম্যান্সের উন্নতি হবে। এই আসরে ১০০ মিটার দৌড়ে অল্পের জন্য ব্রোঞ্জ মেডেল পাইনি। কোথায় সমস্যা, সেটা আমি জানি না।'

আরও পড়ুন

×