ঢাকা রোববার, ২১ জুন ২০২৬

হাসানের স্বপ্নে টি২০ বিশ্বকাপ

হাসানের স্বপ্নে টি২০ বিশ্বকাপ
×

ছবি: ফাইল

...

প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০১:৪৭

চেহারায় এখনও কৈশোরের ছাপ। চোখেমুখে লাজুক একটা ভাব নিয়ে কথা বলছিলেন হাসান মাহমুদ। নিখাদ ব্যাটিং পিচেও যে ছেলে ১৪৩ কিলোমিটার গতিতে বল করেন তাকে নিয়ে প্রত্যাশার বেলুন আকাশে ওড়াওড়ি করা স্বাভাবিক। অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে খেলে সফল হয়েছেন।

এখন বিপিএল মাতাচ্ছেন ঢাকা প্লাটুনের হয়ে। ভালো খেলছেন, আর একটু একটু করে তার স্বপ্ন উঁকি দিচ্ছে বড় মঞ্চের দিকে। ২০ বছর বয়সী এ ফাস্ট বোলার শুক্রবার চট্টগ্রামে সেকান্দার আলীকে জানান, তার স্বপ্নের দৃষ্টিসীমা এখন অস্ট্রেলিয়ার টি২০ বিশ্বকাপ মঞ্চ।

সমকাল: অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের পর ইনজুরিতে পড়েছিলেন। তখন মানসিক অবস্থা কেমন ছিল?

হাসান মাহমুদ: ইনজুরিতে পড়লে খারাপ তো লাগেই। আমার সঙ্গের খেলোয়াড়রা সবাই খেলছে, আমি খেলতে পারছি না। তখন মানসিকভাবে ডাউন ছিলাম। চিন্তা করেছি, সুস্থ হয়ে নিজেকে আবার আগের জায়গায় নিয়ে যেতে হবে।

সমকাল: বিপিএলের বোলিংয়ে কোন জায়গায় সহজ আর কোন জায়গায় কঠিন মনে হচ্ছে?

হাসান মাহমুদ: বোলিংয়ের শুরুটা আর শেষটা ভালো করতে পারলে ছন্দে থাকা যায়। তবে স্লগ ওভারে বোলিং করা কঠিন। মাঝেমধ্যেই চাপ মনে হচ্ছে। ওটা নিয়ে কাজ করছি।

সমকাল: আপনার মধ্যে সবাই সম্ভাবনা দেখছে, জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পেস বোলার মনে করছে। নিশ্চয়ই এ কথা আপনার কানেও গেছে?

হাসান মাহমুদ: ওটার জন্যই মানসিকভাবে প্রস্তুত হচ্ছি। ভালো করলে ওপরের পর্যায়ে খেলতে পারব। তবে আপাতত ফোকাসটা বিপিএলে। এই মঞ্চে ভালো কিছু করতে পারলে পরের ধাপে যাওয়ার সুযোগ থাকবে।

সমকাল: একজন ভালো খেলোয়াড় নিজেই নিজেকে গড়ে তোলেন। ক্যারিয়ার গড়তে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেন। সীমিত আড্ডা দেন, শৃঙ্খল জীবন যাপন করেন। এ নিয়ে কারও গাইড পাচ্ছেন?

হাসান মাহমুদ: নিজের ভালো নিজেকেই বুঝতে হয়। প্রতিটি ধাপ, প্রতিটি জিনিস নিজেকেই করতে হয়। কেউ এসে বলে দেয় না, এটা খেলে ভালো, ওটা খেলে ক্ষতি। খাবার, বিশ্রাম এবং শৃঙ্খলা- এই তিন জিনিস ক্রিকেটারদের মেনে চলতে হয়। যে পারে সে এগিয়ে যায়, যে পারে না তাকে পিছিয়ে যেতে হয়।

সমকাল: কোচ বলছিলেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের চিন্তার পরিধি সীমিত পরিসরে। কেউ ভাবে না, সে বিশ্বমানের একজন হতে পারে। আপনার চিন্তাধারা নিশ্চয়ই সুদূরপ্রসারী?

হাসান মাহমুদ: আমি সব সময় বড় কিছু নিয়ে ভাবি। ছোট চিন্তা নিয়ে বেশি দূর যাওয়া যায় না। তাড়াতাড়ি ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়ার ইচ্ছা আমার নেই। বড় মঞ্চে খেলতে চাই। লম্বা ক্যারিয়ার বানাতে চাই।

সমকাল: বড় মঞ্চ বলতে শুধু জাতীয় দল, না তারও বাইরে?

হাসান মাহমুদ: জাতীয় দলের বাইরে আরও অনেক খেলা আছে। সেগুলোতে খেলতে চাই। আমি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টগুলোর কথা বলছি।

সমকাল: এসএ গেমসের ফাইনালে শ্রীলংকার বিপক্ষে দারুণ ডেলিভারি দিচ্ছিলেন। ইয়র্কারগুলো ভালো হচ্ছিল?

হাসান মাহমুদ: ডেথ ওভারে ইয়র্কার করছিলাম। শেষদিকের ওভারগুলোতে খুব সতর্ক থাকতে হয়, না হলে ব্যাটসম্যান মেরে দেবে। এসএ গেমসের ডেথ ওভারে ইয়র্কার বেশি দিচ্ছিলাম। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ম্যাচেও এভাবে বোলিং করেছি। বিপিএলে চেষ্টা করছি। এখানে যেহেতু বেশি দক্ষ ব্যাটসম্যান খেলে। আমাকেও তাই বিকল্প কৌশলে যেতে হচ্ছে।

সমকাল: গত ম্যাচে এক-দুটা ডেলিভারি ১৪৩ কিলোমিটার গতি তুলেছেন। ব্যাটিং ট্র্যাকে এই গতি তোলার এনার্জি লেভেল নিয়ে বলবেন?

হাসান মাহমুদ: দলের সঙ্গে থেকে খেলতে খেলতে হয়। বিশেষ করে বোলিং নিয়ে যত কাজ করবেন তত উন্নতি হবে। পাশাপাশি শৃঙ্খল বোলিং করতে জানলে বলে পেস বাড়ে।

সমকাল: বোলিং স্কিলের বৈচিত্র্য না থাকলে একটা সময়ে গিয়ে ফেল করার ঝুঁকি থাকে। এ বিষয়ে কি নজর দিচ্ছেন?

হাসান মাহমুদ: স্কিল বাড়াতে কাজ করছি। বোলিং ভেরিয়েশন (বৈচিত্র্য) আনার চেষ্টা করছি। ইয়র্কার, স্লোয়ার, ব্যাক হ্যান্ড, সুইং, অনেক কিছুই চেষ্টা করছি। টি২০ ফরম্যাটে খেলতে হলে এই বৈচিত্র্যগুলো লাগবেই। শুধু জোরে বল করে টিকে থাকা যাবে না।

সমকাল: এখন তো তরুণরা টেস্ট খেলতে চায় না। তারা কম খেলে বেশি উপার্জন করতে চায়। আপনার চিন্তাধারা কী?

হাসান মাহমুদ: না, না। আমি টেস্ট খেলতে চাই। যে ক্রিকেট খেলতে বলবে, সেই ফরম্যাটের জন্যই প্রস্তুত হবো।

সমকাল: সামনে টি২০ বিশ্বকাপ আছে। কোনো স্বপ্ন?

হাসান মাহমুদ: স্বপ্ন অবশ্যই আছে। বিপিএলে যদি ধারাবাহিক ভালো করতে পারি তাহলে একটা সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।

সমকাল: অস্ট্রেলিয়ায় আপনার খেলার অভিজ্ঞতা আছে। স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য একটা বড় সুযোগও তো বিশ্বকাপ?

হাসান মাহমুদ: এটা একটা স্বপ্ন, বিশ্বকাপে খেলতে পারা। ইচ্ছে করে জাতীয় দলের হয়ে ২০২০ সালে টি২০ বিশ্বকাপ খেলি।

আরও পড়ুন

×