'তরুণদের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করি'
ছবি: ফাইল
...
প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৩:০৯
তার সময়ের বেশিরভাগই ক্রিকেটারই খেলা ছেড়ে অন্য পেশায় যোগ দিয়েছেন। কেউ কেউ কোচ হয়েছেন। কিন্তু তিনি খেলে যাচ্ছেন নিয়মিত। এখনও মাঠের পারফরমার। তাই তো ঘরোয়া ক্রিকেটের সব ফরম্যাটেই অলক কাপালীর চাহিদা একটুও কমেনি। খেলে যেতে চান যতদিন শরীর-মন সায় দেবে। তবে তার আক্ষেপ আছে জাতীয় দলে বেশি দিন খেলতে না পারায়।
বঙ্গবন্ধু বিপিএলে রাজশাহী রয়্যালসের অলরাউন্ডার অলক গতকাল চট্টগ্রামে একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ারের পাশাপাশি জাতীয় দল এবং দেশের ক্রিকেট নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন। জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার অলক কাপালীর সঙ্গে আলাপনে ছিলেন সেকান্দার আলী
সমকাল: বিপিএল কেমন লাগছে?
অলক: খেলতে ভালো লাগছে। বিপিএল বাংলাদেশের বড় টুর্নামেন্ট। সব সময় উপভোগ করি। খেলোয়াড়দের জন্য ভালো একটি টুর্নামেন্ট।
সমকাল: আপনি তো সব ফরম্যাটে খেলেন। নিয়মিত পারফর্ম করেন। কীভাবে সম্ভব?
অলক: আমি সব সময় পরিকল্পনা করি, বর্তমানে যে টুর্নামেন্ট খেলি সেখানে ভালো করতে। বর্তমান ভালো হলো পরের টুর্নামেন্টে ডাক পাব। প্রতি বছরই একটা পরিকল্পনা থাকে, তিনটি লিগে খেলব বিপিএল, এনসিএল এবং ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ। যেখানে শুরু করি সেখান থেকে আত্মবিশ্বাস নিয়ে পরের টুর্নামেন্টে যেতে চেষ্টা করি।
সমকাল: এজন্য তো মেন্টাল স্ট্রেন্থ লাগে, সেটাও তো একটা চ্যালেঞ্জ?
অলক: কষ্ট করতে হয়। সারা বছরই আমি প্র্যাকটিসে থাকি। এনসিএলের আগে যখন বলা হলো বিপ টেস্টে ১১ স্কোর করতে হবে। এর তিন-চার মাস আগে থেকেই প্র্যাকটিসে ছিলাম। ফলে টার্গেট স্কোরে যেতে কোনো সমস্যা হয়নি। ফিটনেস থাকলে যে কোনো কিছু করা যায়।
সমকাল: ফিটনেসে তরুণ ক্রিকেটারদের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া সম্ভব?
অলক: যখনই খেলি, আমি চেষ্টা করি শতভাগ দিতে। ওদের সঙ্গে টক্কর দিয়ে সবকিছু করতে। কারণ তারা ফিটনেসে আমার চেয়ে এগিয়ে। এজন্য আমাকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। ওদের সঙ্গে লড়াই করতে অভিজ্ঞতা আর স্কিলে জোর দিতে হয়। তরুণরা এবং জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা সব সময় একটা প্রক্রিয়ার ভেতরে থাকে। বিসিবির দলে প্রস্তুতি নিতে পারে। এই সুযোগ আমার নেই। এনসিএলের এক মাস আগে ডিভিশন প্র্যাকটিস শুরু করে। সেটা দিয়ে কভার করা যায় না। সে জন্য আমি আগেই প্রস্তুতি শুরু করি।
সমকাল: আপনার সঙ্গে খেলেছেন এমন অনেকেই তো এখন কোচ...?
অলক: ওদের কোচিংয়ে দেখে ভালোই লাগে। আমার দলের কোচ আমারই কোনো বন্ধু, এটা আনন্দেরও। তবে আমার দর্শন ভিন্ন, যতদিন ফিটনেস থাকবে, পারফর্ম করতে পারি, ততদিন খেলে যাব। যারা কোচ হয়ে গেছে তারা হয়তো এভাবে চিন্তা করেনি। ক্যারিয়ারটা তাই কোচিং পেশায় নিয়ে গেছে।
সমকাল: দেশে লেগস্পিনারের অভাব। আপনি এখনও পারফর্ম করে যাচ্ছেন। জাতীয় দলের দরজা তো আপনার জন্য উন্মুক্ত থাকার কথা?
অলক: আমি আসলে ওইভাবে চিন্তা করি না। আমার পরিকল্পনা বিপিএলে ভালো করে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে একটা চ্যাম্পিয়ন দলে খেলা। আর লেগস্পিনারের কথা যদি বলেন, দেশে অনেক লেগস্পিনার আছে। ওদের নিয়ে ভালোভাবে কাজ করা হলে আমাদের দেশ থেকেও রশিদ খানের মতো লেগস্পিনার পাওয়া যাবে। এক সময় অনীল কুম্বলের মতো বোলার চলে আসবে। ক্রিকেট বোর্ড কিছু উদ্যোগ নিয়েছে, বিপিএলের প্রতিটি দলে একজন করে লেগস্পিনার নেওয়ার জন্য বলেছে। এটা ভালো উদ্যোগ। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও যদি এভাবে নিয়ম করে দেওয়া হয় তাহলে দেখবেন খুব দ্রুত ভালো লেগস্পিনার পাওয়া যাবে। পাশাপাশি অনূর্ধ্ব-১৯ এবং অনূর্ধ্ব-২৩ দলে সুযোগ পেলে ম্যাচ টেম্পারমেন্টটা বুঝতে পারবে। মুজিব উর রহমানরা কিন্তু অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে এসেছে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ টি২০ টুর্নামেন্টটা নিয়মিত হলে আমাদের লেগিরা খেলার সুযোগ থাকবে। ওই টুর্নামেন্টে ভালো করলে, বিপিএলের পারফর্ম করতে পারবে। বিপিএলে ভালো করলে জাতীয় দলে গিয়েও ভালো করবে।
সমকাল: লেগস্পিনারদের নিয়ে কোচিং স্টাফের মানসিকতাও বদলানোর প্রয়োজন দেখেন?
অলক: কোচদের মধ্যে এরই মধ্যে পরিবর্তন চলে এসেছে। আগে লেগস্পিনার মার খেলে বোলিং দেওয়া হতো না। এখন মার খাওয়ার পরও বোলিং দেওয়া হচ্ছে। আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ভালো করছে। বাংলাদেশ দলের হয়ে জিম্বাবুয়ে এবং ভারতের বিপক্ষে ভালো খেলেছে। কোচরাও বুঝতে পারছেন, একজন লেগস্পিনার থাকলে গেম পরিবর্তন করে দিতে পারে।
সমকাল: ২০১১ সালের পর জাতীয় দলে খেলতে পারেননি। এ নিয়ে আক্ষেপ হয়?
অলক: আক্ষেপ তো অবশ্যই হয়। আমি যদি বেশিদিন খেলতে পারতাম আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারটা আরও সমৃদ্ধ থাকত। হয়তো বা আমি ভালো করতে পারিনি বিধায় বাদ পড়েছি। তবে আমার ইচ্ছা, ছিল জাতীয় দলে কিছু দিন ক্রিকেট খেলার। এজন্য কারও ওপর দোষারোপ করতে চাই না, হয়তো বা আমি ঠিক ছিলাম না। পারফর্ম করতে পারিনি বিধায় বাদ পড়েছি।
সমকাল: জাতীয় দলে আপনার স্বর্ণালি সময়টা মনে পড়ে?
অলক: অবশ্যই মনে পড়ে। ইউটিউবে ভালো পারফরম্যান্সগুলো নিয়মিতই দেখি। হ্যাটট্রিক আছে সেটা দেখি, ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরিটা দেখি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৮৯ করেছিলাম সেই ইনিংসটা দেখি। এই এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৮৫ রান করে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছিলাম। এগুলো খুব মনে পড়ে।
সমকাল: আপনার সময় এবং এখনকার সময়ের জাতীয় দলের পার্থক্য কী?
অলক: আগে ম্যাচ জেতার সুযোগ কম থাকত। কারণ আমাদের সঙ্গে অন্য দলের সামর্থ্যের পার্থক্য বেশি ছিল। এখন পার্থক্য তেমন একটা নেই। দু-একটা দল বাদ দিলে বাকিরা ১৯-২০।
সমকাল: বাংলাদেশের ক্রিকেটে কোন জায়গায় বেশি উন্নতি হয়েছে?
অলক: সব জায়গায় উন্নতি হয়েছে। বিপিএলের টপ স্কোরার আমাদের দেশের। মুশফিক দুই ম্যাচ আগে আমাদের বিপক্ষে যে ইনিংসটা খেলেছে অসাধারণ। বোলিং দেখেন বাংলাদেশের মেহেদী হাসান রানা সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। বিদেশি ক্রিকেটারদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভালো করছি। হ্যাঁ, আইপিএলে সেভাবে সুযোগ হচ্ছে না। বিদেশি অনেক ক্রিকেটার যারা আইপিএলে খেলে তাদের চেয়ে আমাদের ক্রিকেটাররা অনেক ভালো। আইপিএলে সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ওরা আইপিএলে খেলার যোগ্য। তারা সুযোগ পাচ্ছে না। এটাই হলো উন্নতি।
সমকাল: খেলা ছাড়ার পরের পরিকল্পনা?
অলক: ওইভাবে চিন্তা করিনি। সামনে প্রিমিয়ার লিগ আছে ভালো খেলতে চাই। যতদিন সম্ভব খেলতে থাকব।
