খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মশালা
সমাজের কল্যাণে সহযোগিতামূলক গবেষণার সক্ষমতা বাড়াতে হবে
কর্মশালা
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬ | ০১:০৪ | আপডেট: ২১ জুন ২০২৬ | ০১:২৬
সামাজিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও তার সমাধানের মাধ্যমে জনকল্যাণে সহযোগিতামূলক গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করছেন গবেষকরা। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার সহযোগিতামূলক গবেষণার (কোলাবোরেটিভ রিসার্চ) সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও পরিকল্পনা ডিসিপ্লিনের মিলনায়তনে দিনব্যাপী এই কর্মশালা হয়। এতে সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলের (অনুষদ) চারটি ডিসিপ্লিনের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশীদ খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নূর উন নবী। এতে সভাপতিত্ব করেন সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলের ডিন অধ্যাপক শেখ শরাফাত হোসেন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অংশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হারুনর রশীদ খান বলেন, যেহেতু মানুষের কল্যাণের জন্য গবেষণা করা হয়, তাই সহযোগিতামূলক গবেষণার মাধ্যমে আরও কার্যকর ফলাফল অর্জন সম্ভব।
এই কর্মশালার মাধ্যমে সহযোগিতামূলক গবেষণার নতুন পরিবেশ তৈরির একটি নতুন পথ তৈরি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ট্রেজারার।
কর্মশালার অংশ হিসেবে নগর ও পরিকল্পনা ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন বিষয়ভিত্তিক স্বাতন্ত্র্য থেকে সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা কীভাবে আন্তঃশ্রাস্ত্রীয় হয়ে উঠতে পারে সেই বিষয়ে আলোচনা করেন। এরপর সহযোগিতামূলক গবেষণা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ ও ইনোভেশন সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. দিদারুল ইসলাম। তাঁর মতে, এই ধরনের সহযোগিতামূলক গবেষণার মাধ্যমে কমিউনিটি পর্যায়ে সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। একইসঙ্গে নীতিনির্ধারণ ও আইন প্রণয়নে এই ধরনের গবেষণা কার্যকরী হতে পারে বলে জানান তিনি।
সহযোগিতামূলক গবেষণাকে সুষ্ঠুভাবে করার লক্ষ্যে প্রস্তাবনা প্রণয়ণ ও নেটওয়ার্ক তৈরির বিষয়ে বাস্তবসম্মত অভিজ্ঞতার আলোকে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করেন অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. নাসিফ আহসান। তিনি জাপান, নেদারল্যান্ডসসহ বিভিন্ন দেশের মধ্যকার সহযোগিতামূলক গবেষণার পরিসর, প্রয়োগ ও চর্চা নিয়ে কথা বলেন।
সেশনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক সারা মনামী হোসেন। তিনি বলেন, গবেষণা শুধুমাত্র একটি একাডেমিক ধারণা বা কার্যক্রম নয়; এর মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের পথ তৈরি করা সম্ভব। এ কারণে এ ধরনের কর্মশালার আয়োজন আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠান শেষে সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর শেখ শরাফাত হোসেন সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সহযোগিতামূলক গবেষণার চর্চার মাধ্যমে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।
