রিপেয়ার
কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে সেবাকেন্দ্র
সাইফ হাসান
প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৮:২২
ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে স্মার্টফোন আজ শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; বরং জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ব্যাংকিং, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে চিকিৎসা পরিষেবার সবকিছুই এখন স্মার্ট ডিভাইসে সেরে নেওয়া যায়। এমন পরিস্থিতিতে ডিভাইস নষ্ট হয়ে যাওয়া মানে শুধু যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া নয়; কাজকর্মে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়। ঠিক এ কারণেই দেশে মোবাইল রিপেয়ার পরিষেবা শিল্প দ্রুত বিকশিত হয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ।
ক্রমবর্ধমান চাহিদা
বাংলাদেশ টেলিকম রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) হিসাব বলছে, দেশে এখন মোবাইল ফোনের গ্রাহক সংখ্যা ১৮ কোটি ছাড়িয়েছে। যার মধ্যে স্মার্টফোনের গ্রাহক সংখ্যা ১০ কোটির বেশি। প্রতিদিন হাজারো মোবাইল ফোনে নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়। ফলে মোবাইল রিপেয়ার সার্ভিসের চাহিদা ক্রমাগত বেড়েছে। ঢাকার মোহাম্মদপুরে স্থানীয় মোবাইল রিপেয়ার সেন্টারের মালিক রফিকুল ইসলাম ও বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের ফ্লাগশিপ রিপেয়ার সেন্টারের আরিফুর রহমান বলেন, গড়ে প্রতিদিন ২০-৩০টি মোবাইল রিপেয়ারের জন্য আসে। ব্যাটারি সমস্যা, স্ক্রিন ভাঙা, ডিসপ্লের রঙের সমস্যা, চার্জিং পোর্ট কাজ না করা– এমন সব সমস্যা বেশি পাওয়া যায়।
যেসব সেবা রয়েছে
রিপেয়ার পরিষেবা কেন্দ্রে এখন অনেক ধরনের সেবা দেওয়া হয়। এর মধ্যে কয়েকটি পরিষেবা উল্লেখযোগ্য।
হার্ডওয়্যার রিপেয়ার
স্ক্রিন রিপ্লেসমেন্ট, ব্যাটারি পরিবর্তন, চার্জিং পোর্ট মেরামত, ক্যামেরা সমস্যা সমাধান, স্পিকার ও মাইক্রোফোন রিপেয়ার ও মাদারবোর্ড সমস্যা বেশি নিয়ে
আসেন গ্রাহকরা।
সফটওয়্যার সেবা
ভাইরাস অপসারণ, অপারেটিং সিস্টেম আপডেট, ডেটা রিকভারি, ফোন আনলক ও অ্যাপ্লিকেশন সমস্যা নিয়ে আসেন গ্রাহকরা।
যেসব কাজ জরুরি
নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, ফোন পরিষ্কার ও সার্ভিসিং এবং ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স পরীক্ষা করা অন্যতম জরুরি কাজ।
সময় ও মূল্য
রিপেয়ার খরচ সাধারণত ফোনের ব্র্যান্ড, মডেল ও সমস্যার ধরন অনুসারে নির্ধারিত হয়। বাজার জরিপে পাওয়া তথ্য বলছে, সাধারণ স্ক্রিন রিপ্লেসমেন্টে খরচ হয় ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার ভেতর। ব্যাটারি বদলাতে খরচ হয় ৮০০ থেকে তিন হাজার টাকা। অনেক সমস্যায় তাৎক্ষণিক সমাধান পাওয়া যায়। জটিল বেশ কিছু সমস্যায় দু-তিন দিন সময় প্রয়োজন হয়।
সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ
রিপেয়ার সেবা খাতের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো অরিজিনাল যন্ত্রাংশের ঘাটতি। চারপাশে নকল পার্টসের ছড়াছড়ি। অসাধু অনেক ব্যবসায়ী নকল বা নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করে। এ ছাড়া দক্ষ কারিগরের অভাব, প্রশিক্ষণের সীমিত সুযোগ ও যথার্থ মান নিয়ন্ত্রণের অভাব এই খাতের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে।
গুলশানের গ্রাহক তানভীর আহমেদ অভিযোগ করেন, রিপেয়ার করতে দিয়েছিলাম আমার ফোন। কিন্তু ব্যাটারির মান ভালো ছিল না। দুই মাস যেতে না যেতেই আবার নষ্ট হয়ে গেছে।
কর্মসংস্থানের সুযোগ
রিপেয়ার খাতে সারাদেশে এখন লাখো তরুণের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রথমে ছোট পরিসরে ও অল্প পুঁজিতে ব্যবসা শুরু করা যায়। ফলে স্বল্প মূলধনে লাভজনক ব্যবসা দাঁড় করানো সম্ভব।
সারাদেশে পরিচালিত সব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বর্তমানে মোবাইল রিপেয়ার প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছে। তিন থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে আগ্রহী যে কেউ দক্ষ টেকনিশিয়ান হয়ে উঠতে পারে।
মিরপুর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পরিচালক আব্দুল কাদের বলেন, প্রতি মাসে আমরা ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। যাদের অধিকাংশই প্রশিক্ষণ শেষে নিজেরা ব্যবসা শুরু করছেন বা প্রতিষ্ঠিত সেন্টারে চাকরি করার সুযোগ পাচ্ছেন।
ব্যাকআপ ডেটা
সৃষ্ট সমস্যার কারণে যে কোনো ফোন রিপেয়ার করার আগে বিশ্বস্ত ও অভিজ্ঞ সার্ভিস সেন্টার নির্বাচন করা, রিপেয়ার খরচ আগে থেকে যাচাই করা, বিক্রয়োত্তর পরিষেবা নিশ্চিত করা ও প্রকৃত পার্টস ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সবচেয়ে জরুরি হলো নিজস্ব ডেটার নিয়মিত ব্যাকআপ তৈরি করা। মানসম্মত চার্জার ও অ্যাকসেসরিজ ব্যবহার করা উচিত বলে পরামর্শ দিয়েছেন গ্যাজেট বিশেষজ্ঞরা।
- বিষয় :
- ডিজিটাল বাংলাদেশ
