স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম তৈরিতে নীতিগত সমর্থন প্রয়োজন
টেকলাইফ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১২:১৩
বাংলাদেশে স্টার্টআপ সংস্কৃতিতে ব্যর্থতার হার অনেক দেশের বাস্তবতার সাপেক্ষে তুলনামূলক কম। কিন্তু কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে দৃশ্যমান হয়েছে যথার্থ নীতিগত সহায়তার অভাব। অনেক উদ্যোক্তা মনে করেন, সরকারের সঠিক ও সময়োপযোগী নীতিগত সমর্থন পেলে স্থানীয় স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম উদাহরণযোগ্য কোম্পানিতে রূপান্তর হওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিল্ডিং আ সাসটেইনেবল আইসিটি স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম: অপরচুনিটিজ অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস শিরোনামে আলোচনায় বক্তা হিসেবে এসব কথা বলেন দেশের কয়েকজন সফল স্টার্টআপ উদ্যোক্তা।
স্টার্টআপ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নুরুল হাই বলেন, দেশের বর্তমান স্টার্টআপ অবকাঠামো, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে টেকসই করতে পাঁচটি জরুরি প্যারামিটার হলো– ক্যাপিটাল ডেফথ, ট্যালেন্ট কনভার্সন, মার্কেট অ্যাকসেস, বিশ্বস্ত অবকাঠামো ও এক্সিট পাথওয়ে। এসব নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বর্তমানে দেশে মোবাইল ফোন গ্রাহকের সংখ্যা ১৮ কোটি ৭০ লাখ; ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন ১২ কোটি ৯৮ লাখ, যার মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক সাড়ে ১১ কোটি ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের গ্রাহক ২৩ কোটি ৯৩ লাখ।
জানা গেছে, স্থানীয় স্টার্টআপের চিহ্নিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট, গ্র্যান্টস, ফান্ড অব ফান্ড, মনিটরিং নেটওয়ার্ক ছাড়াও সময়োপযোগী কয়েকটি উদ্যোগ নিয়েছে।
শিখো ডটকমের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সিইও শাহীর চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশকে বহির্বিশ্বে পরিচিত করতে স্টার্টআপ অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু ডিভাইসের ওপর অতিরিক্ত করভার ও উচ্চ ইন্টারনেট খরচ সাধারণের কাছে স্টার্টআপ পরিষেবার বিস্তারে অন্যতম বাধা।
লাইটক্যাসল পার্টনার্সের সিইও বিজন ইসলাম বলেন, স্টার্টআপ খাতের জন্য স্বাধীন ও কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান না থাকাই বড় সমস্যা। এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে নীতিগত সহায়তা পাওয়া সহজ হবে।
চালডাল ডটকমের সিইও ওয়াসিম আলীম বলেন, আইসিটি খাতে বাজেট তুলনামূলক কম। অথচ এই খাত জিডিপিতে বিশেষ অবদান রাখছে। বাজেট বাড়ানো না হলে আইসিটি খাতের অনেক সময়োপযোগী কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
পাঠাও বাংলাদেশের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ফাহিম আহমেদ বলেন, স্টার্টআপ পলিসি সহজ করা জরুরি। বাজেটের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। স্টার্টআপ বাংলাদেশের ফান্ড অব ফান্ড উদ্যোগ উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা পূরণে সহায়ক হবে।
বিডিজবস ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ফাহিম মাশরুর বলেন, দেশের মোবাইল, ইন্টারনেট ও এমএফএস গ্রাহকের সংখ্যা নিয়ে ব্যবহৃত ডেটার বিশ্বাসযোগ্যতায় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ভুল বা অতিরঞ্জিত ডেটার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিলে স্টার্টআপ ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়।
শেয়ারট্রিপের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সিইও সাদিয়া হক বলেন, ফান্ড অব ফান্ড উদ্যোগের ধারণা বেশ ইতিবাচক। এ পদ্ধতির সঠিক বাস্তবায়ন বেশ জটিল। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে কাঙ্ক্ষিত ফলঅধরা রয়ে যাবে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে যথাযথ সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা।
- বিষয় :
- আইসিটি খাত
