এটিএম বুথে ভূতুড়ে শঙ্কা
সাদি সাবেরিন
প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬ | ১০:৩০
বিশ্বের কয়েকটি দেশে সুকৌশলে এটিএম বুথ থেকে অর্থ লুট করছে সাইবার চক্র। বিশ্বের কোনো দেশের নাগরিক এই বিপদের হাত থেকে নিরাপদ নন। কিছুদিন আগেও কয়েকটি দেশের নিরিবিলি অঞ্চলে এটিএম লুট বা স্কিমিংয়ের মাধ্যমে কয়েক হাজার গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এসবের থেকেও মারাত্মক হচ্ছে জ্যাকপটিং।
নেই কোনো বৈধ লেনদেন, এটিএম কার্ড পাঞ্চ করার নজির নেই, অথচ মেশিন থেকে স্বয়ংক্রিয় কৌশলে বেরিয়ে গেছে কয়েক বান্ডিল নোট। না, কোনো ম্যাজিক নয়; এটিএম জ্যাকপটিং নামে ভয়ংকর সাইবার-ফিজিক্যাল জালিয়াতির ঘটনায় আতঙ্কে পড়েছেন অনেকে। যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বে এমন জালিয়াতির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ২০২৫ সালে সেখানে সাত শতাধিক এমন ঘটনা ঘটেছে। যার পেছেনে আর্থিক হয়রানি দুই কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। সাইবার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সুরক্ষায় সামান্য গাফিলতি হলেই বিশ্বের যে কোনো দেশে এই প্রতারণা চক্র আক্রমণ পরিচালনা করতে পারে।
কী এমন পদ্ধতি
অনেকের মনেই প্রশ্ন তৈরি হবে, আসলে কী এই জ্যাকপটিং? সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাহ্যিক ও প্রযুক্তি শক্তির সমন্বয়ে কৌশল তৈরি করে প্রতারণা চক্রটি। প্রথমে মাস্টার কি বা অন্য কোনো পদ্ধতির মাধ্যমে জোর করে এটিএম মেশিনের বাইরের আবরণ বা ক্যাবিনেট খুলে ফেলা হয়। এরপর বদলে ফেলা হয় হার্ডড্রাইভ।
এরপর ইউএসবি পোর্টের মাধ্যমে মেশিনের অভ্যন্তরে ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম বা বিশেষ ম্যালওয়্যার প্রবেশ করানো হয়। প্রথমবার ২০১৩ সালে নজরে আসা প্লুটাস নামে ম্যালওয়্যার এই কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে হ্যাকাররা। বিশেষ ঘরানার এই সফটওয়্যার সিস্টেমে প্রবেশ করে এটিএম বুথের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের করে নেয়।
ঠিক এরপরই মেশিনকে দফায় দফায় অর্থ ছাড়ের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিছুটা স্বস্তির খবর হলো, ফিশিং বা কার্ড স্কিমিংয়ের মতো এমন জালিয়াতির চাপটা সরাসরি সাধারণ গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ওপর পড়ে না।
এর ফলে প্রধানত ব্যাংক ও এটিএম পরিচালন সংস্থার বা নির্দিষ্ট ব্যাংকের বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়ে যায়। নব্য ধারার এই জালিয়াতি প্রতিহত করতে ব্যাংক ও গ্রাহক– দুজনকেই চলতে হবে সতর্ক হয়ে।
সাইবার সুরক্ষায় নিয়োজিত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব ব্যাংকের উচিত, এটিএম বুথের বাহ্যিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা (ফিজিক্যাল লকিং সিস্টেম) জোরালো ও কঠিন করা।
অন্যদিকে, মেশিনের অভ্যন্তরে আদতে কোনো নয়ছয় হচ্ছে কিনা, তা তাৎক্ষণিক শনাক্ত করতে টেম্পার-ডিটেকশন সেন্সর বসানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রথমেই ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি রাখা বাধ্যতামূলক করতে হবে। এটিএম বুথের সিস্টেমে যেন শুধু অনুমোদিত সফটওয়্যারই চলতে পারে, তা নিশ্চিত করা। বুথ-সংশ্লিষ্ট কর্মীদের এ বিষয়ে কড়া প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে, সাধারণ গ্রাহকের বাড়তি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বুথের মেশিনের কোনো প্যানেল ভাঙা, আলগা বা মেশিনের গায়ে খোলার আঁচড় থাকলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বুথের অভ্যন্তরে কোনো অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক যন্ত্র দৃশ্যমান হলে দ্রুত ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিতে হবে।
সাইবার ও পরিকাঠামো সুরক্ষায় এখন থেকে জোর না দিলে এমন ধারার ক্ষতির কবলে পড়া সময়ের ব্যবধান মাত্র।
- বিষয় :
- এটিএম বুথ
