বাহুল্য ফিচার, কিন্তু কাজে আসে কতটুকু
সাদি সাবেরিন
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬ | ১২:৪১
নতুন আসা সব স্মার্টফোনেই ফিচার বাহুল্য রয়েছে। কিন্তু এসব বিল্টইন ফিচার অনেকেরই কাজে আসে না। কারণ, অনেক ফিচার জুড়ে দেওয়া হয় শুধু আলোড়ন সৃষ্টির উদ্দেশ্যে।
ভাবছেন, নতুন ডিভাইস কিনবেন। তার আগে কিছু বিষয় বিবেচনা করলে অবশ্যই তা কাজে আসবে।
আলট্রা-হাই মেগাপিক্সেল ক্যামেরা
অনেকের ধারণা, বেশি মেগাপিক্সেল মানেই ভালো মানের ছবির নিশ্চয়তা। আদতে তা নয়। মূলত ছবির মান নির্ভর করে সেন্সরের আকার আর প্রসেসিং ক্ষমতার ওপর। অনেক ক্ষেত্রে ২০০ মেগাপিক্সেলে ধারণ করা ছবি কম্প্রেস হয়ে যায়। বাড়তি ও বিশেষ ডিটেইল এতে আর দৃশ্যমান হয় না।
সবকিছুতেই ট্রেন্ড কাজে আসে না
সময়ের ট্রেন্ডে এআই বহুল আলোচিত বাজওয়ার্ড। কিন্তু সব এআই ফিচার খুব বেশি কাজে আসে না। অনেক হিসাব করে নতুন ডিভাইস কেনার পর অনেক ফিচার প্রথম কয়েক দিন ব্যবহারের পরে আর তেমন কাজে আসে না। উল্টো এরা অনেক সময় কাজ সহজ করার বদলে অপারেশন জটিল করে ফেলে।
ভার্চুয়াল র্যাম
জনপ্রিয় সব ধরনের স্মার্ট ব্র্যান্ড ভার্চুয়াল র্যামকে পারফরম্যান্স বুস্টার হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়। কিন্তু এটি মূলত ডিভাইসের স্টোরেজকে র্যাম হিসেবে ব্যবহার করে। এটি প্রকৃত র্যামের চেয়ে ধীরগতির হয়। বাস্তবে এর ব্যবহারে তেমন কোনো দৃশ্যমান পার্থক্য পাওয়া যায় না বললেই চলে।
দ্রুত চার্জ
১২০ ওয়াট বা তার বেশি চার্জিং শুনতে দারুণ লাগে; কিন্তু ২০ মিনিট আর ৩০ মিনিটে চার্জ হওয়ার মধ্যে পার্থক্যটা জীবনে খুব একটা বড় প্রভাব ফেলে না। উল্টো এটি দীর্ঘ মেয়াদে ব্যাটারির
স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে।
ভিডিও রেকর্ডিং (এইটকে)
অনেকের ধারণা, এইটকে বৈশিষ্ট্যের কনটেন্ট দেখার মতো স্ক্রিন বা স্টোরেজ নেই। সচরাচর এসব ভিডিও বড় আকারের হয়। আবার তা শেয়ার করার সময় সংকুচিত (কম্প্রেস) হয়ে যায়।
এই ফিচার সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য অপ্রয়োজনীয়।
গিমিক ডিজাইন
পপ-আপ, স্লাইডিং পার্টস এসব দেখতে দৃষ্টিনন্দন হলেও স্মার্ট ডিভাইসের টেকসই ক্ষমতা এরা অনেকাংশে দুর্বল করে। সাধারণ ও নির্ভরযোগ্য ডিজাইনের দিকেই বেশি ঝুঁকছে সময়ের ট্রেন্ড।
বাহুল্য ফিচার
নতুন আসা স্মার্ট সব ডিভাইস এমনিতেই অনেক ফিচার সমৃদ্ধ। কিন্তু অনেকে আছেন, যারা মধ্যম মানের ডিভাইস দিয়ে প্রতিদিনের কাজ অনায়াসেই সামাল নিতে পারেন। তাই হাইএন্ড স্পেক এখন খুব একটা বড় ব্যাপার নয়।
চলতি সময়ে স্মার্টফোন প্রযুক্তি চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্যে নির্মিত। পার্থক্যটা এখন আর চমকপ্রদ ফিচারে নয়; বরং ফোনটি প্রতিদিনের কাজে কতটুকু প্রয়োজন পূরণ করছে, তার ওপর নির্ভর করে। তাই সময়ের তালে নয়; নিজের প্রয়োজন কীসে পূরণ হবে, সেটাই জানা জরুরি। কারণ, স্মার্ট ডিভাইসের ওপর নিজের ধারণা ও ব্যবহারিক জ্ঞানের বিকল্প নেই।
- বিষয় :
- স্মার্টফোন
