ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেস লক

নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেস লক
×

ছবি: সংগৃহীত

সাব্বির হাসান

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬ | ১১:৩১

বিশ্বের তাবৎ স্মার্ট ডিভাইস নির্মাতা এখন অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ফেস লক প্রযুক্তি যুক্ত করছে। অনেকে মনে করেন, এই ফেস লক ফিচার বেশ সুবিধাজনক আর নিরাপদ। ২৪ ঘণ্টায় বারবার স্মার্ট গ্যাজেট আনলক করতে এই ফিচার বেশ কার্যকর ও সময় সাশ্রয়ী। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় ফেস লক ফিচার নিয়ে অভিযোগের সুর চড়া হয়েছে। যার মধ্যে তথ্য, ছবি, ভিডিও চুরি থেকে শুরু করে আর্থিক জালিয়াতি– সবটাই ঘটেছে।

সে ক্ষেত্রে ফেস আনলক বা ফেস আইডি ফিচার সবার জন্য ব্যবহার করা সুবিধাজনক হলেও টেক বিশেষজ্ঞরা এর ব্যবহার করার আগে বেশ কিছু সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। অবশ্য একেক স্মার্টফোনে ফেস আইডি ফিচার হয় একেক রকম। আবার সব ধরনের ফোনে এই প্রযুক্তি সমানভাবে নিরাপদ নয়। কিছু স্মার্টফোনে ফেস লক ফিচারটি শুধু ফ্রন্ট ক্যামেরার ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। অনেক ফোনে এই ফিচার থাকলেও গুণগত মানে বেশ দুর্বল হয়। অপচক্র খুব সহজেই তা আনলক করতে পারে। তাই নিজের ব্যবহৃত স্মার্টফোনে ফেস লক ফিচার ব্যবহার করার আগে অবশ্যই কয়েকটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা শ্রেয়।

অনেক অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ফেস আনলক ফিচার শুধু টুডি ছবি ব্যবহার করেই ব্যবহারকারীর অবয়ব (মুখমণ্ডল) শনাক্ত করতে পারে। নিরাপত্তা ফিচার হিসেবে এটি বেশ দুর্বল। এ ক্ষেত্রে ছবি দেখিয়েও গ্যাজেটকে আনলক করা যেতে পারে। কিছু স্মার্টফোনে এই ফেস আইডি ফিচারটি বেশ অনিরাপদ। যেখানে অনেকে ওই গ্যাজেটের ব্যবহারকারীর ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করে ডিভাইস আনলক করে ফেলতে পারে। তাই এ ক্ষেত্রে নতুন করে সতর্ক হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন নিরাপত্তা গবেষকরা। কারণ, এ ধরনের ঘটনার অনেক অভিযোগ পাওয়া গেছে বিশ্বের অনেক দেশ থেকে।

যদি কেউ ফেস আইডি ফিচার ব্যবহার করতে আগ্রহী হন, সে ক্ষেত্রে অবশ্যই থ্রিডি সেন্সর রয়েছে এমন ফেস লক ব্যবহার করার ক্ষেত্রে গুরুত্ব বাড়াতে হবে। আইফোন নির্মাতা অ্যাপল তার ফেস আইডি ফিচারে ইনফ্রারেড সেন্সর আর থ্রিডি ডেপথ ম্যাপ ব্যবহার করে। এটি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। তাই অ্যাপলের ক্ষেত্রে 
এ ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি অনেকাংশে কম।

স্মার্ট গ্যাজেটের প্রায় সবাই এখন ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করেন। অনেক ব্যাংকিং অ্যাপ সব সময় ফেস আনলক আইডিতে অ্যাপে লগইন অনুমতি দেয় না। তাই পেমেন্ট অ্যাপ নিরাপদ রাখতে অবশ্যই এমন কোনো ফেস লক আইডি ব্যবহার করতে হবে, যা অবশ্যই সবার আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তা ছাড়া ফেস লক ব্যবহার না করে ফিঙ্গার প্রিন্ট লক বা ম্যানুয়াল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা অনেক বেশি নিরাপদ বলে  ব্যাখ্যা করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

মুখাবয়ে অনেকটা মিলে যাওয়া ব্যক্তির ক্ষেত্রে অনেক সময় স্মার্টফোনের লক সেন্সর ঠিকঠাক ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়। ফলে অনেক সময় ভুল ব্যক্তি অপকৌশলে যে কারও ডিভাইস আনলক করতে সফল হয়ে যায়। অন্যদিকে সানগ্লাস পরা ছবি, স্বল্প আলোতে ছবি ও মুখে মাস্ক অনেক সময় স্মার্টফোন শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়।

আবার ঘুমন্ত অবস্থায় আনলক করার ঝুঁকি থাকে নতুন ফেস আইডিতে। এ ক্ষেত্রে যদি স্মার্টফোনে রিকোয়ার আইস টু বি ওপেন অপশন না থাকে, সে ক্ষেত্রে ব্যবহারকারী ঘুমিয়ে থাকলে যে কেউ তা আনলক করতে পারবে। নিয়মিত বিরতিতে সফটওয়্যার আপডেট না করলে স্মার্ট গ্যাজেটে ফেস আনলক ফিচার হয়ে যায় ঝুঁকিপূর্ণ।
 

কীভাবে সুরক্ষিত হবে স্মার্টফোন
সহজে অনুমেয় নয় এমন কঠিন পিন বা পাসওয়ার্ড তৈরি করতে হবে।
ফিঙ্গার প্রিন্ট লক ব্যবহার বেশি নিরাপদ।
নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেটে গুরুত্ব বাড়াতে হবে।
ব্যবহৃত গ্যাজেটের সেটিংসে আইস মাস্টবি ওপেন অপশন থাকলে তা অবশ্যই সক্রিয় করতে হবে।
ব্যাংকিং অ্যাপ বা ব্যক্তিগত ডেটা রয়েছে এমন অ্যাপের জন্য বাড়তি সুরক্ষা নিতে হবে।
 

আরও পড়ুন

×