ওটিপি জানতেই ফন্দিফিকির পাসওয়ার্ড আগে থেকে জানা
মুস্তাফা তৌহিদ
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ | ১২:৩৭
ডিজিটাল প্রতারণার অনেকাংশে ওটিপিকে টার্গেট করে অপচক্র। ইদানীং চক্রটি পাসওয়ার্ডে তেমন আগ্রহ প্রকাশ করছে না। কেন এমনটা হচ্ছে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়। সাইবার গবেষকরা বলছেন, এমন ঘটার পেছনে সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ শনাক্ত করা হয়েছে।
সামনে আসা প্রতারণার অনেক অভিযোগ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ওটিপি জানার পরই প্রতারণা ছক সাজানো হয়েছে; ব্যাংক থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে বড় অঙ্কের অর্থ। টার্গেটের অ্যাকাউন্ট থেকে সেই অর্থ নির্দিষ্ট খতিয়ানে পার করা হয়। এসব ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে, চক্রটি এখন পাসওয়ার্ড জানার বিষয়ে কেন আগ্রহ হারিয়েছে? তা হলে কি টার্গেটের পাসওয়ার্ড চক্রটি আগে থেকে জেনে গেছে?
বিশেষজ্ঞরা এ প্রসঙ্গে বলছেন, নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ও সব ধরনের পাসওয়ার্ড ঘরানার অ্যাকাউন্ট যে ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে পরিচালনা করা হয়, তা ডিজিটাল ফুটপ্রিন্টের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে থেকে যায়। ফলে নিজের বদলে অন্য কারও ল্যাপটপ ব্যবহার করে সেসব অ্যাকাউন্ট অন করলেই তার মাধ্যমে পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নেওয়ার অবারিত সুযোগ রয়েছে। সাইবার ক্যাফে বা এমন কোনো উন্মুক্ত পরিবেশে যদি কেউ নিজের ইমেইল বক্সে প্রবেশ করেন বা ব্যাংকের তথ্য দিয়ে কোনো রকম অর্থকড়ির লেনদেন করেন, তবে সেসব তথ্য অপচক্রের নাগালে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তথ্যপ্রযুক্তি গবেষকদের অনেকে বলছেন, নেট দুনিয়ায় এমন বেশ কিছু ওয়েবসাইট রয়েছে, সেখানে গিয়ে দেখা সম্ভব নিজের পাসওয়ার্ড আদতে কেউ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে কিনা। অন্য কোথাও এর অপব্যবহার করা হয়েছে কিনা, সেটিও যাচাই করার সুযোগ রয়েছে।
সাধারণত যারা ডিজিটাল ব্যাংকিং করতে অভ্যস্ত, তারা এসব সাইটে গিয়ে নিজেরাই তথ্যটি যাচাই করে নিতে পারবেন।
নজরদারি কেন শুধু ওটিপিতে– এমন প্রশ্নের সদুত্তরে গবেষণা বলছে, সবকটি অভিযোগ খতিয়ে দৃশ্যমান হয়, ওটিপির মাধ্যমে অর্থ হাতানোর ঘটনা বেশি ঘটেছে। পাসওয়ার্ডের প্রতি অপচক্রের এখন আর তেমন আগ্রহ নেই। কারণ হিসেবে সামনে আসছে, অধিকাংশ পাসওয়ার্ডের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারী কয়েকটি প্যাটার্ন ব্যবহার করেন।
বিশেষ চিহ্ন, আপার কেস, লোয়ার কেস ক্যারেক্টর, সংখ্যা– সবকিছুর মিশেলে তৈরি হয় পাসওয়ার্ড। প্রথম কথা, কেউ ঝটপট নিজের পাসওয়ার্ড কাউকেই জানাতে চান না। যদি তা জানানোও হয়, তা হলে এতে শব্দ ও সংখ্যার এমন গরমিল করা হয় যেন অপচক্র সহজে তা অনুমান করতে ব্যর্থ হয়।
কিন্তু এটিও সঠিক, কোনো ব্যাংক লেনদেন করতে হলে পাসওয়ার্ড ও ওটিপি ছাড়া তা সফল হয় না। তবুও পাসওয়ার্ডকে কেন্দ্র করে জটিলতার কারণে সাইবার চক্র এখন এ ঝুঁকি কম নেয়। ডিজিটাল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অধিকাংশ অপচক্রের কাছে পাসওয়ার্ড আগে থেকেই সংরক্ষিত রয়েছে। তাদের শুধু তাৎক্ষণিক প্রদেয় ওটিপির খোঁজ করতে হয়। কারণ, ব্যাংকের লেনদেনে ওটিপি আবশ্যক। কারণ, অর্থ চুরি করতে হলে সেই ওটিপি রিয়েল টাইমে আনার শর্ত পূরণ করতে হয়।
সাধারণত দুই ধরনের চর্চা হয়। এক দলের কাছে আগে থেকেই অ্যাকাউন্টের বিশদ তথ্য রয়েছে, অন্য দলের কাছে সেটি নেই। কিন্তু যাদের তথ্য বেহাত হয়নি, তারা চাইলে বিশেষ সাইটে প্রবেশ করে নিজের ইমেইল ও পাসওয়ার্ড যাচাই করতে পারেন। কাজটি করতে বিশেষ haveibeenpwned.com সাইটে গিয়ে নিজের ব্যবহৃত ইমেইল আইডি দিয়ে যাচাই করে জানা যাবে ওই ইমেইলের সব ধরনের তথ্য অন্য কোথাও ব্যবহৃত হয়েছে কিনা।
জানা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ওয়াই-ফাই সেবাদাতার মাধ্যমে ডেটা হাতানোর (ব্রিচ) চেষ্টা করা হয়েছে। ফলে এসব তথ্য অন্য কেউ হাতিয়ে নিয়েছে। ঠিক এ কারণেই সাইবার চক্র এখন পাসওয়ার্ডের খোঁজ কম করেন। কারণ, সব তথ্য আগে থেকেই সংরক্ষণ করা হয়েছে। শুধু তিন মিনিটের মধ্যে ওটিপি জানলেই কাজ হয়ে যায়।
- বিষয় :
- ডিজিটাল