সাইবার হুমকি
সুরক্ষার চেয়ে প্রতিরোধ সক্ষমতা বেশি জরুরি
টেকলাইফ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬ | ১২:২৭
সাইবার হামলা এখন আর গুটিকয়েক টেক সংস্থাকে প্রভাবিত করার মতো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হয়েছে। র্যানসমওয়্যার ও তথ্য চুরি থেকে শুরু করে ফিশিং, ম্যালওয়্যার, ক্রেডেনশিয়াল চুরি ও দুর্বল সফটওয়্যারের মাধ্যমে সাইবার হামলা ক্রমাগত বেড়েছে। ফলে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এমন সব হুমকির মুখে পড়েছে, যেখানে হামলার পূর্বাভাস পাওয়ার আগেই এসব প্রতিষ্ঠান ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক এসকিউ ম্যাগাজিন বলছে, সারাবিশ্বে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সপ্তাহে গড়ে দুই হাজার সাইবার হামলার মুখোমুখি হচ্ছে। প্রতিবছর যা ১৮ শতাংশ হারে বাড়ছে।
অন্যদিকে সেন্টিনেলওয়ান নামে সিকিউরিটি প্ল্যাটফর্ম প্রকাশ করেছে, বৈশ্বিক সাইবার অপরাধের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ১০.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বাংলাদেশও একই পরিস্থিতির মধ্য রয়েছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) গবেষণা বলছে, দেশের ৫২ শতাংশ ব্যাংক সাইবার ঝুঁকির মধ্য থেকেই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাইবার সিকিউরিটি ফ্রেমওয়ার্ক বিশেষভাবে এসব হামলা চিহ্নিত করেছে। এসব আক্রমণ প্রতিহত করতে জোরালো মনিটরিং, ইনসিডেন্ট ম্যানেজমেন্ট, অ্যাকসেস কন্ট্রোল, প্রশিক্ষণ ও রিস্ক ম্যানেজমেন্টের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
অধিকাংশ সাইবার হামলার ক্ষেত্রে একই রকম কারিগরি ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফিশিং ইমেইলের মাধ্যমে ছদ্মবেশে হামলা করা। এসব ইমেইল এমনভাবে হামলা করে, যেন কর্মীরা সন্দেহ করার আগেই সেখানে ক্লিক করে বসে। বাংলাদেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ত্রুটির কয়েকটি ঘটনা বিশ্লেষণে জানা গেছে, অথেন্টিকেশন ও সেশন ম্যানেজমেন্টের দুর্বলতা সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের পথ হিসেবে কাজ করে।
ঠিক এ কারণেই ক্রমাগত নজরদারি বাড়ানো জরুরি। নিয়মিত প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডপয়েন্ট, সার্ভার, নেটওয়ার্ক ও ক্লাউড এনভায়রনমেন্ট মনিটর করা জরুরি। প্রযুক্তি এ সমস্যা সমাধানের অংশ হলেও সিকিউরিটি দলের জন্য এমন সব টুল প্রয়োজন, যা প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি অংশের তথ্য একত্র করতে পারে, সন্দেহজনক প্যাটার্ন শনাক্ত করতে পারে এবং অ্যানালিস্টদের দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সহায়তা করতে পারে। এখানেই সিকিউরিটি ইনফরমেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট (সিআইইএম) এবং এক্সটেন্ডেড ডিটেকশন অ্যান্ড রেসপন্স (এক্সডিআর) ক্রমান্বয়ে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে। আর ঠিক এ জায়গাতেই দ্য টিম ফিনিক্স গ্রুপ (টিটিপিজি) ও ওয়াজুহ যৌথভাবে কাজ করছে। ওয়াজুহ প্রধানত ওপেন-সোর্স সাইবার নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্ম, যেখানে সিআইইএম ও এক্সডিআরের সমন্বয়ে আন্ডপয়েন্ট, ক্লাউড ওয়ার্কলোড ও নেটওয়ার্কের তথ্য মনিটর করা এবং তা নিরাপদ রাখতে কাজ করে। লগ বিশ্লেষণ, দুর্বলতা শনাক্ত, কনফিগারেশন মূল্যায়ন, থ্রেট হান্টিং ও ইনসিডেন্ট রেসপন্স নিশ্চিতের সঙ্গে তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি শনাক্ত হলে এটি নিজে থেকেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করে।
টিটিপিজি ২০১৮ সাল থেকে ওয়াজুহের সঙ্গে কাজ করছে। ২০২৬ সাল থেকে অংশীজন হয়েছে। যৌথ এ উদ্যোগ স্থানীয় সাইবার নিরাপত্তা নজরদারিকে যুক্ত করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তাকে জোরালো করেছে। টিটিপিজি নিজস্ব সিকিউরিটি অপারেশন্স সেন্টার (এসওসি) ও ম্যানেজড সিকিউরিটি সার্ভিসে ওয়াজুহকে যুক্ত করার মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং, থ্রেট ইন্টেলিজেন্স, ইনসিডেন্ট রেসপন্স ও ডিজিটাল ফরেনসিককে এক ছাদের নিচে সমন্বয় করেছে।
সাইবার নিরাপত্তাকে এককালীন বিনিয়োগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি প্রসারিত হওয়ার সঙ্গে সার্বক্ষণিক নজরদারি, জোরালো সাইবার হাইজিন, দক্ষ কর্মী, পরীক্ষিত রেসপন্স প্ল্যান ও নিরাপত্তার সংস্কৃতি চর্চা করতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে, যখন কোনো আক্রমণ হবে, তখন যেন তা শুরুতেই শনাক্ত, দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ও ন্যূনতম ক্ষতি হলেও আবার ঘুরে দাঁড়ানো যায়। এটিই টেকসই ডিজিটাল অর্থনীতির মূল ভিত্তি।
- বিষয় :
- সাইবার হামলা